
রাজধানীর মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনে পরিত্যক্ত একটি বস্তাকে ঘিরে যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল, সেই বস্তাটি কে বা কারা সেখানে রেখে গিয়েছিল তা এখনো শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যেখানে বস্তাটি পাওয়া যায়, সেই অংশটি স্টেশনের সিসিটিভি নজরদারির আওতার বাইরে থাকায় কোনো ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়া স্টেশনের ভেতরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ডিজিবক্সের পাশে থাকা একটি সিসিটিভি ক্যামেরা শুক্রবার রাত প্রায় ৩টার পর থেকে বন্ধ ছিল বলেও জানা গেছে। ফলে ওই এলাকার ভিডিও ফুটেজও পাওয়া যায়নি।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, উদ্ধার করা বস্তার ভেতরে পান, সুপারি ও জর্দার কৌটা পাওয়া গেছে। কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা নিষিদ্ধ বস্তু না থাকায় এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়নি।
অন্যদিকে, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, বস্তাটি স্টেশনের এমন একটি স্থানে পাওয়া গেছে যেখানে মেট্রোরেলের নিজস্ব সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। যে ক্যামেরাটি বন্ধ থাকার কথা বলা হচ্ছে, সেটি মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের নয়; এটি কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হতে পারে।
গত শনিবার সকালে মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনে সন্দেহজনক একটি বস্তা পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাটি পরীক্ষা করে। তাতে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি; ভেতরে ছিল পান, সুপারি ও জর্দার কৌটা।
একই সময় রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচেও আরেকটি পরিত্যক্ত বস্তু ঘিরে সতর্কতা তৈরি হয়। ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে সেখানেও কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই স্থানেও সিসিটিভি নজরদারির সীমাবদ্ধতা ছিল।
এ ধরনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দপ্তর নিরাপত্তা জোরদারে একটি সতর্কবার্তা জারি করেছে। রোববার মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া সতর্কতা নয়। বরং নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে পুলিশ সদস্য, যানবাহন ও স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়মিতভাবেই এ ধরনের সতর্কতামূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকে।
অধিকার ডেস্ক: 




















