ঢাকা ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু ঐক্য ধরে রাখতে না পারলে আবারও ফ্যাসিস্ট শক্তির উত্থান হতে পারে-ইবি উপাচার্য সিঙ্গেল মায়েদের স্বাবলম্বিতা ও বিহারী শিশুদের শিক্ষায় অনন্য সামাজিক উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের রাজপথের সংঘাতের প্রভাব শুধু সড়কেই সীমাবদ্ধ ছিল না মায়ের উদ্দেশে শেষ চিঠি লিখেই আন্দোলনে যান আনাস জুলাই হত্যাকাণ্ডের দুই বছর: ছয় মামলার রায় মালয়েশিয়ায় তিন বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার, সহকর্মী বাংলাদেশি গ্রেপ্তার ‘ছাত্রদলের মাস্তানি সহ্য করা হবে না’-সংবাদ সম্মেলনে শিবির সভাপতি নূরুল কলেজে এমপির স্ত্রীর সভাপতি নিয়োগ ৩ মাসের জন্য স্থগিত, হাইকোর্টের রুল

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবারও দেখা করল সেই ছোট্ট তাহসিন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে হাসিমুখে তাহসিন আব্দুল্লাহ

রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে গত ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তোলা একটি ছবি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। হাজারো শিশুর ভিড়ের মধ্যে স্কুল ইউনিফর্ম পরা এক কিশোরের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকে বাড়িয়ে দেওয়া দুই হাত এবং তার উচ্ছ্বসিত হাসি স্পর্শ করে অসংখ্য মানুষের হৃদয়। এই কিশোরের নাম তাহসিন আব্দুল্লাহ। তবে ছবির সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক গভীর বেদনার গল্প।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে ঘটে যাওয়া যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় তাহসিন হারিয়েছিল তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ, বড় বোন তাসনিয়াকে। একই স্কুলে পড়াশোনা করলেও দুর্ঘটনার দিন তারা ছিল দুটি ভিন্ন ভবনে। তাহসিন তখন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল, আর তাসনিয়া পড়ত অষ্টম শ্রেণিতে। যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হয় তাসনিয়াদের ভবনে।

বিকট শব্দ শুনে ছোট্ট তাহসিন ছুটে যায় বড় বোনকে খুঁজতে। কারো কাছ থেকে শুনেছিল স্যালাইন ও পানি প্রয়োজন হতে পারে। বোনের জন্য নিজের ছোট্ট দুই হাতে স্যালাইন ও পানির বোতল নিয়ে অপেক্ষা করছিল সে। কিন্তু সেই অপেক্ষার আর অবসান হয়নি।

পরিবারের ভাষ্যমতে, সেই দুর্ঘটনার পর থেকেই বদলে যায় তাহসিন। একটি মানসিক পুনর্বাসন সেশনে সে কাগজে লিখেছিল যে বোনকে হারানোর কষ্ট তার জন্য অনেক গভীর এবং সে বোনকে প্রতিনিয়ত মিস করে। এরপর থেকে তাহসিনের মুখে আগের মতো প্রাণখোলা হাসি আর দেখা যেত না বলে পরিবার জানায়।

তবে গত ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে যেন দেখা মেলে ভিন্ন এক তাহসিনের। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাঠ প্রদক্ষিণের সময় কাছাকাছি এলে আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে শিশুটি। তার সেই নির্মল হাসি ও উচ্ছ্বাস ক্যামেরাবন্দি হলে ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং অসংখ্য মানুষ তার আনন্দের সঙ্গে নিজেদের অনুভূতি একাত্ম করে নেন।

পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানতে পারেন, ছবির সেই হাসিমাখা মুখের পেছনে রয়েছে এক হৃদয়বিদারক পারিবারিক ইতিহাস। বিষয়টি অবগত হয়ে তিনি তার অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনকে তাহসিন ও তার পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) বাবা নাজমুল হককে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তাহসিন। বর্তমানে সে সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। পরিবারে তার আরও একটি ছোট বোন রয়েছে, যে নার্সারিতে পড়াশোনা করছে।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাহসিনের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন এবং ভবিষ্যতে সে কী হতে চায় তা জানতে চান। জবাবে তাহসিন জানায়, বড় হয়ে সে একজন সফল ব্যবসায়ী হতে চায় এবং এমন কিছু করতে চায় যাতে মানুষের উপকার হয় ও মানুষ তার প্রতি আকৃষ্ট হয়। প্রধানমন্ত্রী তার এই স্বপ্নের প্রশংসা করেন এবং মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া, নিয়মিত খেলাধুলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

লাপচারিতায় তাহসিন জানায়, তার প্রিয় খেলা ফুটবল। এ কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নিজের স্বাক্ষরিত একটি ফুটবলসহ বিশেষ উপহার তুলে দেন তার হাতে।

সাক্ষাৎ শেষে উচ্ছ্বসিত তাহসিন জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবারও দেখা করতে পেরে সে অত্যন্ত আনন্দিত এবং এমন সুযোগ পাবে তা সে কখনো কল্পনাও করেনি। সে আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে একেবারে পরিবারের সদস্যের মতো কথা বলেছেন, তাই তার মোটেও দ্বিধা লাগেনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কক্ষও ঘুরে দেখে সে, যেখানে থাকা গাড়ি ও জাহাজের প্রতিকৃতি তাকে মুগ্ধ করে। বাবার মোবাইল ফোনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফিও তোলে তাহসিন।

মাইলস্টোনের যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় সন্তান হারানো তাহসিনের বাবার প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

াক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন, একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম, সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত সহযোগী অধ্যাপক (অর্থোপেডিক) ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, উপ-প্রেসসচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবারও দেখা করল সেই ছোট্ট তাহসিন

প্রকাশের সময়ঃ ০৪:২৭:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে গত ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তোলা একটি ছবি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। হাজারো শিশুর ভিড়ের মধ্যে স্কুল ইউনিফর্ম পরা এক কিশোরের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকে বাড়িয়ে দেওয়া দুই হাত এবং তার উচ্ছ্বসিত হাসি স্পর্শ করে অসংখ্য মানুষের হৃদয়। এই কিশোরের নাম তাহসিন আব্দুল্লাহ। তবে ছবির সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক গভীর বেদনার গল্প।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে ঘটে যাওয়া যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় তাহসিন হারিয়েছিল তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ, বড় বোন তাসনিয়াকে। একই স্কুলে পড়াশোনা করলেও দুর্ঘটনার দিন তারা ছিল দুটি ভিন্ন ভবনে। তাহসিন তখন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল, আর তাসনিয়া পড়ত অষ্টম শ্রেণিতে। যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হয় তাসনিয়াদের ভবনে।

বিকট শব্দ শুনে ছোট্ট তাহসিন ছুটে যায় বড় বোনকে খুঁজতে। কারো কাছ থেকে শুনেছিল স্যালাইন ও পানি প্রয়োজন হতে পারে। বোনের জন্য নিজের ছোট্ট দুই হাতে স্যালাইন ও পানির বোতল নিয়ে অপেক্ষা করছিল সে। কিন্তু সেই অপেক্ষার আর অবসান হয়নি।

পরিবারের ভাষ্যমতে, সেই দুর্ঘটনার পর থেকেই বদলে যায় তাহসিন। একটি মানসিক পুনর্বাসন সেশনে সে কাগজে লিখেছিল যে বোনকে হারানোর কষ্ট তার জন্য অনেক গভীর এবং সে বোনকে প্রতিনিয়ত মিস করে। এরপর থেকে তাহসিনের মুখে আগের মতো প্রাণখোলা হাসি আর দেখা যেত না বলে পরিবার জানায়।

তবে গত ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে যেন দেখা মেলে ভিন্ন এক তাহসিনের। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাঠ প্রদক্ষিণের সময় কাছাকাছি এলে আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে শিশুটি। তার সেই নির্মল হাসি ও উচ্ছ্বাস ক্যামেরাবন্দি হলে ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং অসংখ্য মানুষ তার আনন্দের সঙ্গে নিজেদের অনুভূতি একাত্ম করে নেন।

পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানতে পারেন, ছবির সেই হাসিমাখা মুখের পেছনে রয়েছে এক হৃদয়বিদারক পারিবারিক ইতিহাস। বিষয়টি অবগত হয়ে তিনি তার অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনকে তাহসিন ও তার পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) বাবা নাজমুল হককে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তাহসিন। বর্তমানে সে সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। পরিবারে তার আরও একটি ছোট বোন রয়েছে, যে নার্সারিতে পড়াশোনা করছে।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাহসিনের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন এবং ভবিষ্যতে সে কী হতে চায় তা জানতে চান। জবাবে তাহসিন জানায়, বড় হয়ে সে একজন সফল ব্যবসায়ী হতে চায় এবং এমন কিছু করতে চায় যাতে মানুষের উপকার হয় ও মানুষ তার প্রতি আকৃষ্ট হয়। প্রধানমন্ত্রী তার এই স্বপ্নের প্রশংসা করেন এবং মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া, নিয়মিত খেলাধুলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

লাপচারিতায় তাহসিন জানায়, তার প্রিয় খেলা ফুটবল। এ কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নিজের স্বাক্ষরিত একটি ফুটবলসহ বিশেষ উপহার তুলে দেন তার হাতে।

সাক্ষাৎ শেষে উচ্ছ্বসিত তাহসিন জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবারও দেখা করতে পেরে সে অত্যন্ত আনন্দিত এবং এমন সুযোগ পাবে তা সে কখনো কল্পনাও করেনি। সে আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে একেবারে পরিবারের সদস্যের মতো কথা বলেছেন, তাই তার মোটেও দ্বিধা লাগেনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কক্ষও ঘুরে দেখে সে, যেখানে থাকা গাড়ি ও জাহাজের প্রতিকৃতি তাকে মুগ্ধ করে। বাবার মোবাইল ফোনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফিও তোলে তাহসিন।

মাইলস্টোনের যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় সন্তান হারানো তাহসিনের বাবার প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

াক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন, একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম, সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত সহযোগী অধ্যাপক (অর্থোপেডিক) ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, উপ-প্রেসসচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন।