
সৌদি আরবের রিয়াদের খোরদাম শহরের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাত প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।
রোববার (৯ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় আনুমানিক বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ওই কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে সেখানে কর্মরত বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি হতাহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিহতদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সাতজন রয়েছেন। জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে গিয়ে তারা ওই সোফা কারখানায় কাজ করছিলেন। প্রবাসে কাজ করে পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন এবং স্বজনদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া এসব মানুষের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে স্বজনদের মধ্যে শোকের আবহ নেমে আসে।
রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আত্রাই উপজেলার সাতজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান।
তিনি জানান, উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের চারজন, বিষা গ্রামের দুজন এবং পারকাসুন্দা গ্রামের একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
নিহতের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা
এদিকে সৌদি আরবের ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের সংখ্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও ১৫ জন, কোথাও ১৭ জন আবার কোথাও ১৯ জনের মৃত্যুর দাবি করা হচ্ছে।
তবে এসব তথ্যের কোনোটি এখনো নিশ্চিত নয়। আত্রাই উপজেলা প্রশাসন এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। নওগাঁ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সাতজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
রাত পৌনে ১২টার দিকে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যুর বিষয়ে তারা অবগত হয়েছেন। তবে সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
শোকের ছায়া আত্রাইয়ের গ্রামগুলোতে
সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে সাত প্রবাসীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে স্থানীয় পরিবেশ।
নিহতদের অনেকেই পরিবারের প্রধান বা অন্যতম উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। প্রবাসে থাকা স্বজনদের নিরাপদে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর কাছে এখন প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফেরার খবরই সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন তারা। কিন্তু কর্মস্থলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তাদের মৃত্যুতে একসঙ্গে শোকাহত হয়েছে একাধিক পরিবার।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, হতাহতের পূর্ণাঙ্গ সংখ্যা এবং নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম চলছে।
অধিকার ডেস্কঃ 





















