
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। সোমবার নাবাতিয়েহ জেলায় পৃথক হামলায় দুই স্বাস্থ্যকর্মীসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এসব হামলায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ-এর তথ্যের বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ জেলার একটি শহরে বেসামরিক একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে দুই স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হন।
আবাসিক এলাকায় বিমান হামলা
এরপর নাবাতিয়েহ জেলার দেইর আল-জাহরানি শহরের একটি আবাসিক এলাকায় রাতের দিকে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। হামলার আগে ওই এলাকার বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, হামলার লক্ষ্য করা ভবনটি হিজবুল্লাহর একটি স্থাপনার কাছাকাছি ছিল। সেখান থেকে বিস্ফোরক বহনে সক্ষম ড্রোন উৎক্ষেপণ করা হতো বলে দাবি করেছে তারা।
এর এক দিন আগে নাবাতিয়েহের কাছের আরব সালিম শহরেও ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং ২০ জন আহত হন।
চুক্তির পরও থামেনি হামলা
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি রূপরেখা চুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তির অংশ হিসেবে একটি ‘পাইলট জোন’ বা পরীক্ষামূলক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করা হয়।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনীর মাধ্যমে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রক্রিয়া এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি পরীক্ষা করার কথা ছিল।
তবে চুক্তির পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হয়নি। একই সঙ্গে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। সেনা প্রত্যাহারে ইসরায়েলের অনাগ্রহের কারণে কূটনৈতিক উদ্যোগও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
আতঙ্কে দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দারা
দক্ষিণ লেবাননের কফর রেমান শহর থেকে আলজাজিরার প্রতিনিধি জেইনা খোদর জানিয়েছেন, হামলার কারণে পুরো অঞ্চলে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বেড়েছে।
গত জুনের চুক্তির পর পরিস্থিতি শান্ত হবে—এমন প্রত্যাশায় বাস্তুচ্যুত অনেক মানুষ নিজেদের এলাকায় ফিরে যেতে শুরু করেছিলেন। কেউ কেউ ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পুনর্নির্মাণের কাজও শুরু করেছিলেন। কিন্তু নতুন করে হামলা শুরু হওয়ায় তাদের মধ্যে আবারও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
অধিকার ডেস্কঃ 























