ঢাকা ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ঢাবির জগন্নাথ হলের পাশে রাতে ককটেল বিস্ফোরণ অগ্নিকাণ্ড: বন্ধ ছিল চারটি সিঁড়ির গেট, প্রাণ বাঁচাতে ভাঙতে হয় তালা নাটোরে দুর্ঘটনাকবলিত সিএনজি থেকে ৩৩ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪ মামুন খালেদসহ স্ত্রী-শ্যালকের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব: সমাজকল্যাণমন্ত্রী ভূরুঙ্গামারীতে ২৩ লাখ টাকার বাজেয়াপ্ত ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ধ্বংস শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পে অনিয়ম, কেডিএর ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ শাহজাদপুরে নার্সিং ও ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সিলেট সীমান্তে ২৭ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ ভারত-বাংলাদেশ পাইপলাইনে পার্বতীপুরে পৌঁছাল ৪৭ লাখ লিটার ডিজেল

এডিস মশা নিধনে বেরোবি ছাত্রদলের উদ্যোগে ক্যাম্পাসে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

এডিস মশা নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাচ্ছেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।

ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ ঠেকাতে এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ অভিযান চালিয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ছাত্রদল শাখা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি প্রাঙ্গণ, অভ্যন্তরীণ সড়ক এবং ক্যাম্পাসের একাধিক পয়েন্টে এই পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রদলের বিভিন্ন পদের নেতাকর্মীরা সরাসরি অংশ নিয়ে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু বিষয়ক সচেতনতা তৈরিতে জোর দেন।

কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া নেতাকর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্ষাকালে ক্যাম্পাসের নানা স্থানে পানি জমে থাকার কারণে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এ অবস্থায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো এবং মশা নিধনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সচেতন করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তারা। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছেও এই বিষয়ে স্থায়ী ও নিয়মিত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান সোহেল এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, লাইব্রেরি এলাকা ও তার চারপাশে মশার উপদ্রব এতটাই বেশি ছিল যে সন্ধ্যার পর বসে পড়াশোনা করা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছিল। তিনি বলেন, এই ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত হলে ক্যাম্পাসের পরিবেশ শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠবে।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তুহিন রানা জানান, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে বেরোবি শাখা এই ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। তিনি বলেন, এর মূল লক্ষ্য মশা নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো। তিনি আরও যোগ করেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতির খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, তারা যেন এডিস মশা দমনে আরও কার্যকর ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেয়। হলে অবস্থানরত আবাসিক শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে হল প্রশাসনকেও এ বিষয়ে সক্রিয় হতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জহির রায়হান বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বেরোবি ছাত্রদল এই কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। তিনি জানান, আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে পুরো ক্যাম্পাসে মশা নিধনের কাজ চালানো হয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এই ধরনের কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

উপস্থিত নেতাকর্মীরা মনে করেন, একদিনের অভিযানেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়, বরং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রান্তে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং মশকনিধন প্রক্রিয়া চলমান রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী—সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবির জগন্নাথ হলের পাশে রাতে ককটেল বিস্ফোরণ

এডিস মশা নিধনে বেরোবি ছাত্রদলের উদ্যোগে ক্যাম্পাসে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

প্রকাশের সময়ঃ ০১:২১:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ ঠেকাতে এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ অভিযান চালিয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ছাত্রদল শাখা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি প্রাঙ্গণ, অভ্যন্তরীণ সড়ক এবং ক্যাম্পাসের একাধিক পয়েন্টে এই পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রদলের বিভিন্ন পদের নেতাকর্মীরা সরাসরি অংশ নিয়ে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু বিষয়ক সচেতনতা তৈরিতে জোর দেন।

কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া নেতাকর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্ষাকালে ক্যাম্পাসের নানা স্থানে পানি জমে থাকার কারণে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এ অবস্থায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো এবং মশা নিধনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সচেতন করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তারা। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছেও এই বিষয়ে স্থায়ী ও নিয়মিত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান সোহেল এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, লাইব্রেরি এলাকা ও তার চারপাশে মশার উপদ্রব এতটাই বেশি ছিল যে সন্ধ্যার পর বসে পড়াশোনা করা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছিল। তিনি বলেন, এই ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত হলে ক্যাম্পাসের পরিবেশ শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠবে।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তুহিন রানা জানান, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে বেরোবি শাখা এই ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। তিনি বলেন, এর মূল লক্ষ্য মশা নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো। তিনি আরও যোগ করেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতির খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, তারা যেন এডিস মশা দমনে আরও কার্যকর ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেয়। হলে অবস্থানরত আবাসিক শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে হল প্রশাসনকেও এ বিষয়ে সক্রিয় হতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জহির রায়হান বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বেরোবি ছাত্রদল এই কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। তিনি জানান, আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে পুরো ক্যাম্পাসে মশা নিধনের কাজ চালানো হয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এই ধরনের কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

উপস্থিত নেতাকর্মীরা মনে করেন, একদিনের অভিযানেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়, বরং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রান্তে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং মশকনিধন প্রক্রিয়া চলমান রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী—সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।