ঢাকা ১২:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, বন্ধ মেট্রোরেলের মিরপুর-১১ স্টেশন গার্মেন্টস শ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩৩ নগরকান্দায় ব্রিজের সংযোগ সড়ক ধসে মরণফাঁদ, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল ইরানযুদ্ধের প্রভাবে চাপে মার্কিন নৌবহর, মেরামতে লাগবে কয়েক বছর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক উত্তেজনা বাড়ালে পরিণতি ভয়াবহ হবে: রাশিয়ার হুঁশিয়ারি ২০২৭ বিশ্বকাপের টিকিটের আবেদন ১২ কোটি ছাড়াল, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে সর্বোচ্চ আগ্রহ গাজায় তথ্য বিকৃতির কথা স্বীকার করলেন ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সাবেক মুখপাত্র ঢাকার আগারগাঁও থেকে গ্রেপ্তার সাবেক হুইপ নজরুল ইসলাম বাবুর এপিএস জামিনে মুক্ত মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাল জামায়াত শ্রীনগরে ২০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার সিএনজিচালক, গাড়ি জব্দ

পোরশার গাংগুরিয়া-ছাওড় ভূমি অফিসে অভিযোগের স্তূপ, তদন্তে প্রশাসন

নওগাঁর পোরশার গাংগুরিয়া-ছাওড় ইউনিয়ন ভূমি অফিস—এখানকার সেবা কার্যক্রম নিয়ে উঠেছে নানা অভিযোগ।

নওগাঁর পোরশা উপজেলার গাংগুরিয়া-ছাওড় ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভূমিসেবা নিতে গিয়ে হয়রানি, অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ, দালালনির্ভরতা, অসদাচরণ ও দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ওই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. ফরহাদ শাহ।

অভিযোগগুলোর প্রতিকার চেয়ে নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন মো. রফিকুল ইসলাম। একই অভিযোগের অনুলিপি অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব), রাজশাহী, জেলা প্রশাসক নওগাঁ, পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি), পোরশার কাছেও দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারী দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাকে অন্যত্র বদলির দাবি জানিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গাংগুরিয়া বাজারের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত গাংগুরিয়া-ছাওড় ইউনিয়ন ভূমি অফিসটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবাকেন্দ্র। নামজারি, খতিয়ান, হোল্ডিং, ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন সেবা নিতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসেন।

অভিযোগকারীর দাবি, সরাসরি অফিসে গিয়ে সেবা নিতে গেলে অনেক নাগরিককে নানা ধরনের জটিলতা ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। বিপরীতে কথিত মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে গেলে কাজ তুলনামূলক দ্রুত সম্পন্ন হয়—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অফিসের আশপাশে কয়েকজন ব্যক্তি নিয়মিত অবস্থান করেন এবং ভূমিসেবা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এদের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজের জন্য অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। অভিযোগের প্রকৃত চিত্র প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়ার কথা।

লিখিত অভিযোগে ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. ফরহাদ শাহের বিরুদ্ধে নামজারি, খতিয়ান সংশোধনসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা সংক্রান্ত কাজে নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগকারীর ভাষ্য, একটি নামজারি মামলা নিষ্পত্তির কথা বলে এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ওঠার পর ওই অর্থ ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, অতিরিক্ত অর্থ দিতে অনীহা প্রকাশ করলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফাইল আটকে রাখা, কাজ বিলম্বিত করা কিংবা ভুল প্রস্তাব পাঠানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। এসব কারণে সাধারণ মানুষকে একই কাজের জন্য একাধিকবার অফিসে যেতে হয় বলে অভিযোগকারীর দাবি।

অভিযোগপত্রে ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা ফরহাদ শাহের নিয়মিত অফিসে উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, অনেক সময় সেবাপ্রত্যাশীরা অফিসে এসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে না পেয়ে অপেক্ষা করেন।

এতে ভূমিসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অফিসের একজন নারী সহকারী কর্মীর ভূমিকা নিয়েও অভিযোগপত্রে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ভূমি অফিসের কার্যক্রম ও কথিত অনিয়ম নিয়ে সাংবাদিকরা তথ্য চাইলে তাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রেও অর্থের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

অভিযোগকারী দাবি করেছেন, এ বিষয়ে কয়েকজন সাংবাদিকের কাছেও তথ্য রয়েছে। তবে অভিযোগের পক্ষে থাকা কথিত তথ্য, অডিও বা ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

লিখিত অভিযোগে মো. ফরহাদ শাহের পূর্ববর্তী কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের বিষয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, দীর্ঘ চাকরিজীবনে বিভিন্ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনের সময় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি প্রভাব বিস্তার করেছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ অভিযোগ করতে ভয় পান বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টদের মত।

অভিযোগকারী মো. রফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, উত্থাপিত অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন নথি, অডিও ও ভিডিওসহ তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। তিনি এসব উপাত্ত নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা বের করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তার দাবি, গাংগুরিয়া-ছাওড় ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত ও জনবান্ধব সেবাকেন্দ্রে পরিণত করতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. ফরহাদ শাহের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার কর্মরত পরিচয় নিশ্চিত করেন। প্রতিবেদকের পরিচয় ও তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

‘অনিয়ম হলে দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির’—ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতি

নওগাঁ জেলার বাংলাদেশ ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতির সভাপতি মৌদুদুর রহমান কল্লোল বলেন, বর্তমানে ভূমিসেবা কার্যক্রমের অধিকাংশই ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে অনিয়ম করার সুযোগ কমেছে।

তিনি বলেন, “এর মধ্যেও কেউ অনিয়ম করে থাকলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে। কোনো ব্যক্তির অনিয়মের দায় অ্যাসোসিয়েশন নেবে না।”

তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রশাসনের

ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. ফরহাদ শাহের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের বিষয়ে নওগাঁ জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জান্নাত আরা তিথির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশাসনের এই বক্তব্যের ফলে এখন অভিযোগগুলোর তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর রয়েছে স্থানীয়দের।

ভূমি অফিস নাগরিকের জন্য সরাসরি সরকারি সেবা পাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। নামজারি, খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন করসহ প্রয়োজনীয় সেবা পেতে কোনো নাগরিককে অনানুষ্ঠানিক মধ্যস্থতাকারীর ওপর নির্ভর করতে হলে তা জনসেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

গাংগুরিয়া-ছাওড় ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো বাস্তব অনিয়ম, নাকি কোনো ব্যক্তিগত বিরোধের ফল—তা নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।

তাই অভিযোগে উল্লিখিত তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন, প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী ও স্থানীয় সচেতন মহল।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, বন্ধ মেট্রোরেলের মিরপুর-১১ স্টেশন

পোরশার গাংগুরিয়া-ছাওড় ভূমি অফিসে অভিযোগের স্তূপ, তদন্তে প্রশাসন

প্রকাশের সময়ঃ ০৮:৩০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

নওগাঁর পোরশা উপজেলার গাংগুরিয়া-ছাওড় ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভূমিসেবা নিতে গিয়ে হয়রানি, অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ, দালালনির্ভরতা, অসদাচরণ ও দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ওই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. ফরহাদ শাহ।

অভিযোগগুলোর প্রতিকার চেয়ে নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন মো. রফিকুল ইসলাম। একই অভিযোগের অনুলিপি অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব), রাজশাহী, জেলা প্রশাসক নওগাঁ, পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি), পোরশার কাছেও দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারী দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাকে অন্যত্র বদলির দাবি জানিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গাংগুরিয়া বাজারের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত গাংগুরিয়া-ছাওড় ইউনিয়ন ভূমি অফিসটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবাকেন্দ্র। নামজারি, খতিয়ান, হোল্ডিং, ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন সেবা নিতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসেন।

অভিযোগকারীর দাবি, সরাসরি অফিসে গিয়ে সেবা নিতে গেলে অনেক নাগরিককে নানা ধরনের জটিলতা ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। বিপরীতে কথিত মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে গেলে কাজ তুলনামূলক দ্রুত সম্পন্ন হয়—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অফিসের আশপাশে কয়েকজন ব্যক্তি নিয়মিত অবস্থান করেন এবং ভূমিসেবা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এদের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজের জন্য অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। অভিযোগের প্রকৃত চিত্র প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়ার কথা।

লিখিত অভিযোগে ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. ফরহাদ শাহের বিরুদ্ধে নামজারি, খতিয়ান সংশোধনসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা সংক্রান্ত কাজে নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগকারীর ভাষ্য, একটি নামজারি মামলা নিষ্পত্তির কথা বলে এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ওঠার পর ওই অর্থ ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, অতিরিক্ত অর্থ দিতে অনীহা প্রকাশ করলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফাইল আটকে রাখা, কাজ বিলম্বিত করা কিংবা ভুল প্রস্তাব পাঠানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। এসব কারণে সাধারণ মানুষকে একই কাজের জন্য একাধিকবার অফিসে যেতে হয় বলে অভিযোগকারীর দাবি।

অভিযোগপত্রে ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা ফরহাদ শাহের নিয়মিত অফিসে উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, অনেক সময় সেবাপ্রত্যাশীরা অফিসে এসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে না পেয়ে অপেক্ষা করেন।

এতে ভূমিসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অফিসের একজন নারী সহকারী কর্মীর ভূমিকা নিয়েও অভিযোগপত্রে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ভূমি অফিসের কার্যক্রম ও কথিত অনিয়ম নিয়ে সাংবাদিকরা তথ্য চাইলে তাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রেও অর্থের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

অভিযোগকারী দাবি করেছেন, এ বিষয়ে কয়েকজন সাংবাদিকের কাছেও তথ্য রয়েছে। তবে অভিযোগের পক্ষে থাকা কথিত তথ্য, অডিও বা ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

লিখিত অভিযোগে মো. ফরহাদ শাহের পূর্ববর্তী কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের বিষয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, দীর্ঘ চাকরিজীবনে বিভিন্ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনের সময় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি প্রভাব বিস্তার করেছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ অভিযোগ করতে ভয় পান বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টদের মত।

অভিযোগকারী মো. রফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, উত্থাপিত অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন নথি, অডিও ও ভিডিওসহ তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। তিনি এসব উপাত্ত নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা বের করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তার দাবি, গাংগুরিয়া-ছাওড় ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত ও জনবান্ধব সেবাকেন্দ্রে পরিণত করতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. ফরহাদ শাহের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার কর্মরত পরিচয় নিশ্চিত করেন। প্রতিবেদকের পরিচয় ও তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

‘অনিয়ম হলে দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির’—ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতি

নওগাঁ জেলার বাংলাদেশ ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতির সভাপতি মৌদুদুর রহমান কল্লোল বলেন, বর্তমানে ভূমিসেবা কার্যক্রমের অধিকাংশই ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে অনিয়ম করার সুযোগ কমেছে।

তিনি বলেন, “এর মধ্যেও কেউ অনিয়ম করে থাকলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে। কোনো ব্যক্তির অনিয়মের দায় অ্যাসোসিয়েশন নেবে না।”

তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রশাসনের

ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. ফরহাদ শাহের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের বিষয়ে নওগাঁ জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জান্নাত আরা তিথির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশাসনের এই বক্তব্যের ফলে এখন অভিযোগগুলোর তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর রয়েছে স্থানীয়দের।

ভূমি অফিস নাগরিকের জন্য সরাসরি সরকারি সেবা পাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। নামজারি, খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন করসহ প্রয়োজনীয় সেবা পেতে কোনো নাগরিককে অনানুষ্ঠানিক মধ্যস্থতাকারীর ওপর নির্ভর করতে হলে তা জনসেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

গাংগুরিয়া-ছাওড় ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো বাস্তব অনিয়ম, নাকি কোনো ব্যক্তিগত বিরোধের ফল—তা নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।

তাই অভিযোগে উল্লিখিত তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন, প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী ও স্থানীয় সচেতন মহল।