
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে ধাহরানে সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলার পর সেখানে আগুন লাগে। একই সময়ে রিয়াদ লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। খবর আল জাজিরা ও আনাদোলু এজেন্সির।
সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানায়, ধাহরানে আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে হামলার পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হামলার দায় ও ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কে বিভিন্ন প্রতিবেদনে তথ্য দেওয়া হলেও ঘটনার সব বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও হতাহতের ঘটনা
এর আগে গত ১০ অক্টোবর সৌদি রাজধানীর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন বলে সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাতে রয়টার্স ও আল জাজিরা জানিয়েছে। কিছু পরবর্তী প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ১৩ বলা হয়েছে। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা সৌদি আরবগামী ফ্লাইট স্থগিত বা পরিবর্তন করে।
১১ অক্টোবরও রিয়াদের বিমানবন্দরের একটি টার্মিনালে অজ্ঞাত একটি বস্তু আঘাত হানার পর আগুন লাগে। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। এসব হামলার পর দেশটির বিমান চলাচল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
পাল্টাপাল্টি হামলায় বাড়ছে উত্তেজনা
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামলার প্রস্তুতি ও বেসামরিক লোকজনকে সরে যাওয়ার সতর্কতা দেওয়ার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। জোটের সতর্কবার্তার লক্ষ্যবস্তু গুলোর মধ্যে সানার আল-সাবাহ কেন্দ্রীয় জ্বালানি স্থাপনাও ছিল বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলার হুঁশিয়ারি দেন। হুথিদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলা বন্ধ না হলে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের হামলা প্রতিহত করার পাশাপাশি ইয়েমেনে তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে সামরিক পদক্ষেপ চালিয়ে যাচ্ছে। পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অধিকার ডেস্কঃ 























