ঢাকা ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
প্রতারণা মামলায় বিদিশার দুই বছরের কারাদণ্ড সিরাজদিখানে শিশু রামিসার দাফন সম্পন্ন-বিচার দাবিতে বিক্ষোভ সাত মাস পর উৎপাদনে ফিরল বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র অপরাধ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে থানায় আত্মসমর্পণ উমানের রোগীর খাবার মুখে নিয়েই ফেলে দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তোপের মুখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নাচোলে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৪, উদ্ধার ছিনতাই হওয়া ভ্যানগাড়ি ভেজাল প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান – বিভাগীয় কমিশনার চাঁপাইনবাবগঞ্জে আন্তঃজেলা অটোচোর চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার চাঁপাইনবাবগঞ্জে গৃহ শিক্ষিকার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার, আটক ৩ দীপু চন্দ্র দাস হত্যা মামলায় আরও ৩ গ্রেফতার

সাত মাস পর উৎপাদনে ফিরল বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

সংগৃহীত ছবি।

দীর্ঘ প্রায় সাত মাস বন্ধ থাকার পর আবারও উৎপাদনে ফিরেছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিট। জেনারেল ওভারহলিং শেষে বুধবার বিকেলে ইউনিটটি চালু করা হয় এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।

কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৫টা ৪৬ মিনিটে ইউনিটটি চালু হয়। প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়িয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ইউনিটটি বন্ধ ছিল। এ সময় ব্যাপক সংস্কার ও ওভারহলিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বর্তমানে কেন্দ্রের ১ নম্বর ও ৩ নম্বর ইউনিট চালু রয়েছে। দুটি ইউনিট থেকে মোট প্রায় ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে ১ নম্বর ইউনিটে ৫০ মেগাওয়াট এবং ৩ নম্বর ইউনিটে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী দিনের মধ্যে দুটি ইউনিট মিলিয়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

৫২৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ১ ও ২ নম্বর ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট করে এবং ৩ নম্বর ইউনিটের ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট।

তবে ২০২০ সালের নভেম্বরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ২ নম্বর ইউনিটটি এখনও সচল করা যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনেও কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় ইউনিটটি অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

প্রধান প্রকৌশলী জানান, ইউনিটটি পুনরায় সচল করতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। তার ভাষ্য, এই অর্থে নতুন ইউনিট নির্মাণের কাজও শুরু করা সম্ভব।

কেন্দ্রটি পরিচালনা করছে চীনা প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনাল। অভিযোগ রয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিটি ইউনিট পরিচালনায় দুটি ইলেকট্রো-হাইড্রোলিক অয়েল পাম্প প্রয়োজন হলেও ২০২২ সাল থেকে ৩ নম্বর ইউনিটের একটি পাম্প বিকল অবস্থায় রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন একটি পাম্পের ওপর নির্ভর করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ইউনিট চালানো হচ্ছিল। এতে মাঝেমধ্যেই উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতারণা মামলায় বিদিশার দুই বছরের কারাদণ্ড

সাত মাস পর উৎপাদনে ফিরল বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

প্রকাশের সময়ঃ ০১:০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

দীর্ঘ প্রায় সাত মাস বন্ধ থাকার পর আবারও উৎপাদনে ফিরেছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিট। জেনারেল ওভারহলিং শেষে বুধবার বিকেলে ইউনিটটি চালু করা হয় এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।

কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৫টা ৪৬ মিনিটে ইউনিটটি চালু হয়। প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়িয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ইউনিটটি বন্ধ ছিল। এ সময় ব্যাপক সংস্কার ও ওভারহলিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বর্তমানে কেন্দ্রের ১ নম্বর ও ৩ নম্বর ইউনিট চালু রয়েছে। দুটি ইউনিট থেকে মোট প্রায় ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে ১ নম্বর ইউনিটে ৫০ মেগাওয়াট এবং ৩ নম্বর ইউনিটে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী দিনের মধ্যে দুটি ইউনিট মিলিয়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

৫২৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ১ ও ২ নম্বর ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট করে এবং ৩ নম্বর ইউনিটের ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট।

তবে ২০২০ সালের নভেম্বরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ২ নম্বর ইউনিটটি এখনও সচল করা যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনেও কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় ইউনিটটি অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

প্রধান প্রকৌশলী জানান, ইউনিটটি পুনরায় সচল করতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। তার ভাষ্য, এই অর্থে নতুন ইউনিট নির্মাণের কাজও শুরু করা সম্ভব।

কেন্দ্রটি পরিচালনা করছে চীনা প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনাল। অভিযোগ রয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিটি ইউনিট পরিচালনায় দুটি ইলেকট্রো-হাইড্রোলিক অয়েল পাম্প প্রয়োজন হলেও ২০২২ সাল থেকে ৩ নম্বর ইউনিটের একটি পাম্প বিকল অবস্থায় রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন একটি পাম্পের ওপর নির্ভর করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ইউনিট চালানো হচ্ছিল। এতে মাঝেমধ্যেই উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।