
মায়ের জানাজায় অংশ নিতে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে সাময়িক মুক্তি পেয়েছেন চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আইয়ুব বাবুল। সোমবার (২২ জুন) রাতে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে পটিয়ায় আনা হয়। জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
পারিবারিক ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, আইয়ুব বাবুলের মা আমজুমান আরা বেগম (৭৫) সোমবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পটিয়া পৌরসদরের ওয়াপদা রোড এলাকার নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও হৃদরোগসহ একাধিক জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
মায়ের মৃত্যুর পর শেষবারের মতো দেখা এবং জানাজায় শরিক হওয়ার সুযোগ চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক রাত ৯টা থেকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার অনুমতি প্রদান করেন।
প্রশাসনিক অনুমতির পর পুলিশি নিরাপত্তায় আইয়ুব বাবুলকে পটিয়া পৌরসদরের সুচক্রদণ্ডী এলাকায় আনা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে পটিয়া আদালত জামে মসজিদ চত্বরে আমজুমান আরা বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আইয়ুব বাবুল অংশ নেন। এরপর তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজা ও দাফন শেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।
দীর্ঘদিন পর স্বজনদের মাঝে আইয়ুব বাবুলকে দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানাজায় অংশ নিয়ে তিনি মায়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চান।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউল হক জিয়া জানান, প্যারোলের আদেশ পাওয়ার পর চট্টগ্রাম পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে আইয়ুব বাবুলকে যথাযথ নিরাপত্তায় পটিয়ায় আনা হয় এবং নির্ধারিত সময় শেষে তাকে কারাগারে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, আইয়ুব বাবুলের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চারটিতে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও পরে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 























