ঢাকা ০৮:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
অবৈধ পুকুর খনন ঠেকাতে না পারলে দিল্লি থেকে নৌকা আনতে হতো- এমপি মিলন পুকুরে গোসল করতে নেমে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই মাদরাসাশিক্ষার্থীর মৃত্যু সেই চিকিৎসক কে প্রশাসনিক বদলি- মনপুরা গেলেন ডা. ইনজামাম ভোলাহাটে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস ২০২৬ পালিত নাচোলে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস ২০২৬ পালিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীভাঙন রোধে পাড় সংস্কার কাজের উদ্বোধন গ্রামীণফোনের ৫% বিলম্বিত পাওনা পরিশোধের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন ‘ইউএনওকে স্যার বললে আমাকেও বলতে হবে’—স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মন্তব্য নবজাতকের লাশ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনা, আহত- ৩ জুয়া প্রতিরোধ আইনে সারাদেশের প্রথম মামলা চুয়াডাঙ্গায়

অবৈধ পুকুর খনন ঠেকাতে না পারলে দিল্লি থেকে নৌকা আনতে হতো- এমপি মিলন

মোহনপুর উপজেলা অডিটরিয়ামে পল্লী উন্নয়ন দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন

রাজশাহীর মোহনপুর ও পবা এলাকায় অবৈধভাবে পুকুর খনন প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।

সোমবার দুপুরে মোহনপুর উপজেলা অডিটরিয়ামে পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতেই সাবেক সরকারের আমলে যথেচ্ছভাবে পুকুর খননের বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এমপি মিলন।

তিনি বলেন, অতীতে যেভাবে বেপরোয়াভাবে পুকুর খনন চলছিল, তা রোধ করা না গেলে এই এলাকার পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যেত যে প্রতিবেশী দেশ ভারত বা দিল্লি থেকে নৌকা ভাড়া করে আনার প্রয়োজন পড়ত। তার ভাষায়, আগের সরকার ও পরবর্তী সময়ে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের অব্যাহত পুকুর খননের ফলে এলাকার কৃষিজমি একেবারে বিলীন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

পুকুর খনন প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে সংসদ সদস্য জানান, তারা পুকুর খননের বিরোধী নন, বরং অবৈধ ও বেআইনিভাবে পুকুর খননের বিপক্ষে তাদের অবস্থান।

জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি এলাকাবাসীকে নির্দেশনা দেন, কোথাও অবৈধভাবে পুকুর খনন হতে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ থানায় খবর দিতে হবে। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে অবহিত করার এবং প্রয়োজনে সরাসরি তাকেও জানানোর পরামর্শ দেন তিনি। তিনি আশ্বস্ত করেন, রাত-দিন যেকোনো সময় এমন অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কাছে নিজের জবাবদিহিতার বিষয়টি তুলে ধরে এমপি মিলন বলেন, জনগণের ভোটেই তারা নির্বাচিত হয়েছেন এবং জনসাধারণের সেবায় নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি তাদের রয়েছে। তিনি আরও বলেন, দলীয় নেতাকর্মী কিংবা সাধারণ মানুষ যে কেউ তার কাছে যেকোনো বিষয়ে জবাবদিহি চাইতে পারবেন এবং তার কার্যালয়ের দরজা সবসময় সবার জন্য খোলা থাকবে।

নিজ নির্বাচনী এলাকায় অবৈধ দখল ও মাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে মোহনপুর উপজেলা চত্বর থেকে পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় গিয়ে মিলিত হয়। আলোচনা সভা শেষে বিআরডিবির বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় চেক, ফসলের বীজ, ঢেউটিন, বৃক্ষচারা ও ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ করেন সংসদ সদস্য।

মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মোহনপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা, মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামিমুল ইসলাম মুন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর আর রশীদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুস সামাদ, মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক কাজিম উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বাচ্চু রহমান, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাবলু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী তারিকুল ইসলাম, বিআরডিবি কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান, কেশরহাট পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান, যুবনেতা মির্জা শওকত আলী, মৌমাছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী মুকুল এবং জাহানাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমান।

জনপ্রিয় সংবাদ

অবৈধ পুকুর খনন ঠেকাতে না পারলে দিল্লি থেকে নৌকা আনতে হতো- এমপি মিলন

অবৈধ পুকুর খনন ঠেকাতে না পারলে দিল্লি থেকে নৌকা আনতে হতো- এমপি মিলন

প্রকাশের সময়ঃ ০৮:৩৩:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

রাজশাহীর মোহনপুর ও পবা এলাকায় অবৈধভাবে পুকুর খনন প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।

সোমবার দুপুরে মোহনপুর উপজেলা অডিটরিয়ামে পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতেই সাবেক সরকারের আমলে যথেচ্ছভাবে পুকুর খননের বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এমপি মিলন।

তিনি বলেন, অতীতে যেভাবে বেপরোয়াভাবে পুকুর খনন চলছিল, তা রোধ করা না গেলে এই এলাকার পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যেত যে প্রতিবেশী দেশ ভারত বা দিল্লি থেকে নৌকা ভাড়া করে আনার প্রয়োজন পড়ত। তার ভাষায়, আগের সরকার ও পরবর্তী সময়ে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের অব্যাহত পুকুর খননের ফলে এলাকার কৃষিজমি একেবারে বিলীন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

পুকুর খনন প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে সংসদ সদস্য জানান, তারা পুকুর খননের বিরোধী নন, বরং অবৈধ ও বেআইনিভাবে পুকুর খননের বিপক্ষে তাদের অবস্থান।

জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি এলাকাবাসীকে নির্দেশনা দেন, কোথাও অবৈধভাবে পুকুর খনন হতে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ থানায় খবর দিতে হবে। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে অবহিত করার এবং প্রয়োজনে সরাসরি তাকেও জানানোর পরামর্শ দেন তিনি। তিনি আশ্বস্ত করেন, রাত-দিন যেকোনো সময় এমন অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কাছে নিজের জবাবদিহিতার বিষয়টি তুলে ধরে এমপি মিলন বলেন, জনগণের ভোটেই তারা নির্বাচিত হয়েছেন এবং জনসাধারণের সেবায় নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি তাদের রয়েছে। তিনি আরও বলেন, দলীয় নেতাকর্মী কিংবা সাধারণ মানুষ যে কেউ তার কাছে যেকোনো বিষয়ে জবাবদিহি চাইতে পারবেন এবং তার কার্যালয়ের দরজা সবসময় সবার জন্য খোলা থাকবে।

নিজ নির্বাচনী এলাকায় অবৈধ দখল ও মাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে মোহনপুর উপজেলা চত্বর থেকে পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় গিয়ে মিলিত হয়। আলোচনা সভা শেষে বিআরডিবির বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় চেক, ফসলের বীজ, ঢেউটিন, বৃক্ষচারা ও ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ করেন সংসদ সদস্য।

মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মোহনপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা, মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামিমুল ইসলাম মুন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর আর রশীদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুস সামাদ, মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক কাজিম উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বাচ্চু রহমান, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাবলু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী তারিকুল ইসলাম, বিআরডিবি কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান, কেশরহাট পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান, যুবনেতা মির্জা শওকত আলী, মৌমাছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী মুকুল এবং জাহানাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমান।