
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের জন্য বিনামূল্যে সরবরাহ করা কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্র নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের একাংশের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বিনামূল্যে দেওয়া এসব যন্ত্রের কারণে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কোম্পানির রি-এজেন্ট ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানা বিএনপির সভাপতি ও ঠিকাদার মিজানুর রহমান মিজানের উদ্যোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে মোট আটটি যন্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সেল কাউন্টার, হরমোন অ্যানালাইজার, ইউরিন অ্যানালাইজার, ইএসআর মেশিন ও ইলেক্ট্রোলাইট অ্যানালাইজারসহ একাধিক পরীক্ষার যন্ত্র।
হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক দাবি করেন, নতুন সরবরাহকৃত যন্ত্রগুলোর অধিকাংশই আগে থেকেই প্যাথলজি বিভাগে বিদ্যমান। বর্তমানে ব্যবহৃত জাপান, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র ও সুইজারল্যান্ডের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রগুলোর পরীক্ষার মান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বলে জানান তারা। তাদের ভাষ্যে, নতুন আনা যন্ত্রের বেশিরভাগই চীনে তৈরি, যা নিয়ে পরীক্ষার মান সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান যন্ত্রগুলোতে বিভিন্ন কোম্পানির রি-এজেন্ট ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও নতুন যন্ত্রগুলোতে নির্দিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের রি-এজেন্ট ছাড়া পরীক্ষা পরিচালনা সম্ভব নয়। তার দাবি অনুযায়ী, ভবিষ্যতে রি-এজেন্ট বিক্রির বাজার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এসব যন্ত্র বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি হাসপাতালে ভেন্টিলেটরের সংকটে একটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্যাথলজি যন্ত্রের পরিবর্তে জরুরি চিকিৎসাসেবার সরঞ্জাম সরবরাহ করা হলে তা রোগীদের জন্য অধিকতর উপকারী হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিজানুর রহমান মিজান। তিনি বলেন, মানুষের সেবার লক্ষ্যেই যন্ত্রগুলো হাসপাতালকে দেওয়া হয়েছে এবং নতুন যন্ত্র ব্যবহারের ফলে পরীক্ষার খরচ কমবে। তিনি জানান, দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিনামূল্যে রি-এজেন্ট সরবরাহ করছে।
রি-এজেন্ট বিক্রির সুবিধা করে দিতেই যন্ত্র উপহার দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগের জবাবে মিজানুর রহমান মিজান বলেন, এতে তার কোনো ব্যক্তিগত লাভ নেই এবং রি-এজেন্ট সরবরাহ থেকে লাভবান হবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি, তিনি নন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রামেক হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের প্রধান ডা. সাবেরা সুলতানা বলেন, হাসপাতাল পরিচালকের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে মন্তব্য করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। অন্যদিকে হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি. কে. এম. মাসুদ-উল-ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও যন্ত্র সরবরাহ প্রক্রিয়া নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সৈয়দ মাসুদ, রাজশাহী 























