
মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান বিকাশ, নগদ ও রকেটের গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত ও স্বেচ্ছাচারী সার্ভিস চার্জ কেন অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং আইনবিরোধী ঘোষণা করা হবে না—এ মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রোববার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন। একই সঙ্গে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ, ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি স্বতন্ত্র মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস আইন কেন প্রণয়ন করা হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত। রুলে বিশেষভাবে দরিদ্র ও ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত ও সাশ্রয়ী সার্ভিস চার্জ নিশ্চিত করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত অর্থ সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ওবাইদুল্লাহ আল মামুন সাকিব। এর আগে তিনিই জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন। শুনানি শেষে আইনজীবী ওবাইদুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে ২০২২ সালের বাংলাদেশ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রবিধানমালার আওতায় এসব সেবা পরিচালিত হচ্ছে। তার দাবি, প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় লেনদেনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অঙ্কের চার্জ নেওয়া হলেও বিকাশ, নগদ ও রকেটে শতাংশভিত্তিক সার্ভিস চার্জ আদায় করা হয়। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে বড় অঙ্কের অর্থ পাঠাতে তুলনামূলক কম খরচ হলেও এমএফএস প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে একই ধরনের লেনদেনে অনেক বেশি সার্ভিস চার্জ দিতে হয়, যা গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। রিট আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস মূলত যেসব ব্যক্তি প্রচলিত ব্যাংকিং সুবিধার বাইরে রয়েছেন তাদের আর্থিক সেবার আওতায় আনতে চালু করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে উচ্চ সার্ভিস চার্জ আরোপের কারণে সেবাটির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। আবেদনকারীর দাবি, এ ধরনের চার্জ ২০২২ সালের এমএফএস প্রবিধানমালার সংশ্লিষ্ট বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অধিকার ডেস্ক: 






















