
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৩ সালের এলএলবি (শেষ পর্ব) পরীক্ষায় সারা দেশে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান লাভ করেছেন বরিশাল ল’ কলেজের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস। তাঁর এ সাফল্যের মধ্য দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বরিশাল ল’ কলেজ প্রথমবারের মতো দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করল।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের এলএলবি (শেষ পর্ব) পরীক্ষায় বরিশাল ল’ কলেজ থেকে মোট ২৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ২৫৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। ফলাফলে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন একজন, দ্বিতীয় বিভাগে পাস করেছেন ১৭৭ জন এবং তৃতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭৫ জন শিক্ষার্থী।
এই অসাধারণ সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছেন কলেজের শিক্ষক ও প্রশাসনের সদস্যরা।
বরিশাল ল’ কলেজের অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট মো. মোস্তফা জামাল খোকন বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এলএলবি পরীক্ষায় জান্নাতুল ফেরদৌসের এই কৃতিত্ব আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন। তাঁর সাফল্যে আমরা গর্বিত।”
উপাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “জান্নাতুল ফেরদৌসের এই অর্জন কলেজের সুনাম আরও বৃদ্ধি করেছে। পাশাপাশি এটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
মেধাবী জান্নাতুল ফেরদৌস কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার গোয়ালগ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা মো. লালু বিশ্বাস এবং মা সুফিয়া খাতুন। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়।
বর্তমানে তিনি বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার উত্তর বিজয়পুর এলাকায় বসবাস করছেন। স্বামী মনিরুল ইসলাম খানের চাকরির সুবাদে প্রায় এক যুগ আগে গৌরনদীতে আসেন তিনি।
পারিবারিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি গৌরনদীতে একটি ইংলিশ কোচিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করছেন জান্নাতুল ফেরদৌস। একই সময়ে বরিশাল ল’ কলেজে ভর্তি হয়ে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা শুরু করেন।
তিনি জানান, আইন বিষয়ে গভীর আগ্রহ তৈরি এবং পড়াশোনায় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন বরিশাল যুগ্ম দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস. এম. মাহফুজ আলম। তাঁর দিকনির্দেশনা ও শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতা এই সাফল্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন,“সবার আগে মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া। তাঁর অশেষ রহমত ছাড়া এই অর্জন সম্ভব হতো না। আমার বাবা-মা ও স্বামী সবসময় আমাকে পড়াশোনায় উৎসাহ ও করেছেন। তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
তিনি আরও বলেন,“বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ বরিশাল যুগ্ম দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস. এম. মাহফুজ আলম স্যারের প্রতি। পাশাপাশি আমাদের কলেজের সকল শিক্ষক অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান করেছেন। তাঁদের তৈরি হ্যান্ডনোট ও নিয়মিত দিকনির্দেশনা আমাকে ভালো ফল করতে সহায়তা করেছে। ভবিষ্যতে আমাদের জুনিয়ররাও আরও ভালো ফল করে বরিশাল ল’ কলেজের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবে—এটাই আমার প্রত্যাশা।”
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জান্নাতুল ফেরদৌসের এই কৃতিত্ব শুধু বরিশাল ল’ কলেজের জন্য নয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আইন শিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে থাকবে।
সৈয়দ নুর আহসান,বরিশাল প্রতিনিধি: 























