ঢাকা ১০:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
রাজধানীসহ সারাদেশে বেড়েছে লোডশেডিং, বিদ্যুৎ ঘাটতি ১,৯০০ মেগাওয়াটের বেশি দেশে বাড়ছে ‘কুশ’ মাদকের বিস্তার, থাইল্যান্ডকেন্দ্রিক ত্রিদেশীয় চক্রের সন্ধান জয়পুরহাটে অনলাইন জুয়ার মাস্টার এজেন্ট গ্রেফতার, জব্দ ১৯ স্মার্টফোন ও ১ হাজার সিম কুমিল্লায় ৬ ভারতীয় মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার ৯ চুয়াডাঙ্গায় দুই পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার, আদালতে ২ বছরের কারাদণ্ড সৌদি থেকে দেশে ফেরার প্রস্তুতি, কেনাকাটা শেষ করেই কুমিল্লার প্রবাসীর মৃত্যু বিয়ানীবাজারে নৌকাবাইচ বন্ধের প্রচারণা, ‘তৌহিদী জনতা’ কারা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন ফিফা অনুমোদন দিল, আশিয়ান কাপে খেলবে বাংলাদেশ চিকিৎসায় অবহেলার শিকার রোগীদের পাশে থাকবে ‘স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আন্দোলন’ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার ক্ষেত্র আরও বাড়াতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

কলকাতায় রেবতীর শেষকৃত্য, দেশে ফিরল অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ বাংলাদেশির মরদেহ

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৯:০২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২৩৬ Time View

কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ বেনাপোল ও ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে আনা হয়েছে।

কলকাতার আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে ছয়জনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। শনিবার পাঁচজনের মরদেহ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে পৌঁছায়। এর আগে সাতক্ষীরার মো. আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে দেশে আনা হয়। এদিকে দুই সন্তান ভারতে থাকায় সাতক্ষীরার রেবতী সরকারের শেষকৃত্য কলকাতায় সম্পন্ন করা হয়েছে।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ভোমরা স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের কাছে সাজুর মরদেহ হস্তান্তর করে। পরে বিজিবি ও ইমিগ্রেশন পুলিশের উপস্থিতিতে তার ভাই নুরুন্নবী মরদেহ গ্রহণ করেন।

অন্যদিকে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের শূন্যরেখায় দুই দেশের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মরদেহগুলো ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে পৌঁছায়। সেখানে স্বজনদের কান্নায় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

পরে তিনটি অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ নিয়ে কুষ্টিয়া ও সাভারের উদ্দেশে রওনা হন স্বজনেরা। মরদেহ দেশে ফেরানোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে শনিবার দুপুরে কলকাতায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের কার্যালয় থেকে তারা রওনা দেন। তাদের সঙ্গে হাইকমিশনের প্রতিনিধিরাও ছিলেন।

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে গত ১৯ আগস্ট ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে সাতজন ছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক।

শনিবার দেশে ফেরা পাঁচজন হলেন—কুষ্টিয়া সদরের সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, তিন বছরের ছেলে স্বর্ণাশীষ দত্ত, শ্বশুর আকরাম আলী এবং সাভারের আহম্মেদ বাবু।

আহম্মেদ বাবুর মরদেহ নিতে আসা তাঁর মেজো ভাই মনির হোসেন জানান, গত সোমবার রাতে ব্যবসায়িক কাজে কলকাতায় যান বাবু। সেখান থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগও হয়েছিল। তবে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বুধবার ভারতীয় হাইকমিশন থেকে ফোনে তাঁর মৃত্যুর খবর জানানো হয়। পরে হাইকমিশন থেকে পাঠানো ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেন।

নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাঁর ও ছেলে স্বর্ণাশীষ দত্তের মরদেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সৎকার করা হবে। আর স্ত্রী আফসানা শারমীন ও শ্বশুর আকরাম আলীর মরদেহ ইসলামি রীতি অনুযায়ী দাফন করা হবে।

এদিকে দুই সন্তান ভারতে থাকায় শুক্রবার কলকাতার নিমতলা ঘাটে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার রেবতী সরকারের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে।

রেবতী সরকারের দেবর তপন সরকার জানান, রেবতী চিকিৎসার জন্য প্রায় ১০ দিন আগে ভারতে গিয়েছিলেন। শনিবার তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে মরদেহ হয়ে ফিরতে হলো।

অন্যদিকে সাজুর মরদেহ দেশে ফেরার খবর পেয়ে শনিবার সকাল থেকেই সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার রাবেয়া গ্রামের বাড়িতে অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনেরা। বাড়ির পাশে তাঁর কবরও প্রস্তুত করা হয়।

সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার জানান, জোহরের নামাজের পর দাফনের পরিকল্পনা থাকলেও মরদেহ পৌঁছাতে কিছুটা সময় লেগেছে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

ভোমরা স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ সজীব বালা জানান, দুপুরে বিএসএফ ও ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ সাজুর মরদেহ বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাঁর ভাই নুরুন্নবী মরদেহ গ্রহণ করেন।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস হোসেন জানান, মরদেহ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত ছিল। মরদেহগুলো পেট্রাপোলে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। দেশে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীসহ সারাদেশে বেড়েছে লোডশেডিং, বিদ্যুৎ ঘাটতি ১,৯০০ মেগাওয়াটের বেশি

কলকাতায় রেবতীর শেষকৃত্য, দেশে ফিরল অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ বাংলাদেশির মরদেহ

প্রকাশের সময়ঃ ০৯:০২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

কলকাতার আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে ছয়জনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। শনিবার পাঁচজনের মরদেহ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে পৌঁছায়। এর আগে সাতক্ষীরার মো. আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে দেশে আনা হয়। এদিকে দুই সন্তান ভারতে থাকায় সাতক্ষীরার রেবতী সরকারের শেষকৃত্য কলকাতায় সম্পন্ন করা হয়েছে।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ভোমরা স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের কাছে সাজুর মরদেহ হস্তান্তর করে। পরে বিজিবি ও ইমিগ্রেশন পুলিশের উপস্থিতিতে তার ভাই নুরুন্নবী মরদেহ গ্রহণ করেন।

অন্যদিকে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের শূন্যরেখায় দুই দেশের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মরদেহগুলো ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে পৌঁছায়। সেখানে স্বজনদের কান্নায় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

পরে তিনটি অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ নিয়ে কুষ্টিয়া ও সাভারের উদ্দেশে রওনা হন স্বজনেরা। মরদেহ দেশে ফেরানোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে শনিবার দুপুরে কলকাতায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের কার্যালয় থেকে তারা রওনা দেন। তাদের সঙ্গে হাইকমিশনের প্রতিনিধিরাও ছিলেন।

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে গত ১৯ আগস্ট ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে সাতজন ছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক।

শনিবার দেশে ফেরা পাঁচজন হলেন—কুষ্টিয়া সদরের সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, তিন বছরের ছেলে স্বর্ণাশীষ দত্ত, শ্বশুর আকরাম আলী এবং সাভারের আহম্মেদ বাবু।

আহম্মেদ বাবুর মরদেহ নিতে আসা তাঁর মেজো ভাই মনির হোসেন জানান, গত সোমবার রাতে ব্যবসায়িক কাজে কলকাতায় যান বাবু। সেখান থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগও হয়েছিল। তবে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বুধবার ভারতীয় হাইকমিশন থেকে ফোনে তাঁর মৃত্যুর খবর জানানো হয়। পরে হাইকমিশন থেকে পাঠানো ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেন।

নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাঁর ও ছেলে স্বর্ণাশীষ দত্তের মরদেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সৎকার করা হবে। আর স্ত্রী আফসানা শারমীন ও শ্বশুর আকরাম আলীর মরদেহ ইসলামি রীতি অনুযায়ী দাফন করা হবে।

এদিকে দুই সন্তান ভারতে থাকায় শুক্রবার কলকাতার নিমতলা ঘাটে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার রেবতী সরকারের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে।

রেবতী সরকারের দেবর তপন সরকার জানান, রেবতী চিকিৎসার জন্য প্রায় ১০ দিন আগে ভারতে গিয়েছিলেন। শনিবার তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে মরদেহ হয়ে ফিরতে হলো।

অন্যদিকে সাজুর মরদেহ দেশে ফেরার খবর পেয়ে শনিবার সকাল থেকেই সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার রাবেয়া গ্রামের বাড়িতে অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনেরা। বাড়ির পাশে তাঁর কবরও প্রস্তুত করা হয়।

সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার জানান, জোহরের নামাজের পর দাফনের পরিকল্পনা থাকলেও মরদেহ পৌঁছাতে কিছুটা সময় লেগেছে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

ভোমরা স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ সজীব বালা জানান, দুপুরে বিএসএফ ও ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ সাজুর মরদেহ বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাঁর ভাই নুরুন্নবী মরদেহ গ্রহণ করেন।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস হোসেন জানান, মরদেহ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত ছিল। মরদেহগুলো পেট্রাপোলে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। দেশে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।