
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পুকুর থেকে সাড়ে চার বছর বয়সী শিশু মারজিয়া আক্তার মাইশার মরদেহ উদ্ধারের প্রায় দুই মাস পর হত্যা মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে শিশুটিকে হত্যার তথ্য পাওয়ার পর তার বাবা মামলা করেন। মামলার পর চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৪ আগস্ট) ভোরে উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মোছা. শিউলি (৩৫), মো. আতিকুল কাজী (৩২), মো. শান্ত কাজী (২৩) ও মো. হাবিব কাজী (২১)।
এর আগে রোববার রাতে নিহত মাইশার বাবা মাইদুল ছয়জনের নাম উল্লেখ করে আড়াইহাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুন বিকেলে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের কুমারবাগ এলাকায় নিজেদের বাড়ির উঠানে খেলছিল মাইদুলের দুই মেয়ে মীম আক্তার ও মারজিয়া আক্তার মাইশা। একপর্যায়ে তাদের মা ঘরের ভেতরে গেলে ছোট মেয়ে মাইশাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে আড়াইহাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর দুই দিন পর ২২ জুন সকালে বাড়ির কাছের একটি পুকুর থেকে শিশুটির মরদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তখন আড়াইহাজার থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছিল। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নতুন মোড় নেয়। প্রতিবেদনে শিশুটির মাথায় আঘাতের চিহ্ন এবং হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়।
নিহতের বাবা মাইদুলের অভিযোগ, বাড়ির জায়গার সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আসামিরা তার মেয়েকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হত্যার তথ্য পাওয়ার পর হত্যা মামলা নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে।
অধিকার ডেস্কঃ 























