
রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য বড় জাতীয় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকট এখন বাংলাদেশের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ তৈরি করছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধীন সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জেস অফ রোহিঙ্গা রিপেট্রিয়েশন: ইন্টারন্যাশনাল পলিটিকস অ্যান্ড ন্যাশনাল প্রাইওরিটিস’ শীর্ষক সেমিনারের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু মানবিক সমস্যা হিসেবে দেখলে হবে না। এর সঙ্গে মানবনিরাপত্তা, জাতীয় নিরাপত্তা, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়ও জড়িত।
তিনি কক্সবাজার ও ভাসানচরের বিভিন্ন ক্যাম্পের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ক্যাম্পগুলোতে একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা, মাদক পাচার এবং বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক দুই হাজারের বেশি মামলা হওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতি নতুন ধরনের জটিলতা তৈরি করেছে। তাঁর দাবি, রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আরাকান আর্মির অবস্থানও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অতীতের উদাহরণ তুলে ধরে শামছুল ইসলাম বলেন, ১৯৭৮ সালের রোহিঙ্গা আগমন এবং নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকের সংকট কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের মধ্য দিয়ে সমাধান হয়েছিল। তাঁর মতে, ধৈর্য, কৌশলগত দৃঢ়তা ও ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতা ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় সরকারের কৌশল তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘ, আসিয়ান, ওআইসি, চীন ও ভারতসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনকে সম্পৃক্ত করা, চীন-ভারতের সঙ্গে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা এবং মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
এ ছাড়া ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদার, পূর্ব সীমান্তে প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানো এবং আসিয়ান ও ওআইসিকে সম্পৃক্ত করে আঞ্চলিক উদ্যোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সেমিনারে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের জন্য যাচাই করা হয়েছে—এমন ঘোষণার বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। তিনি এটিকে আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলার কৌশল হিসেবে দেখলেও প্রকৃত প্রত্যাবাসনের বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা বলেন।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রত্যাবাসনের মধ্যেই নিহিত। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, মানবিক দায়িত্ব ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে এ সংকট মোকাবিলা করা প্রয়োজন।
অধিকার ডেস্কঃ 

























