ঢাকা ০৫:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ডেঙ্গু রোগীদের সুরক্ষায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে মশারি দিল জেলা পরিষদ তাহসিফ হত্যা মামলা: দীপকে ফের ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ শেখ হাসিনা বেঁচে থাকা পর্যন্ত অস্থিতিশীলতার চেষ্টা চলবে: তথ্য উপদেষ্টা ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ: বিজ্ঞানমন্ত্রী মজুরি কমিশন গঠন হয়েছে, এখন আন্দোলনের সুযোগ নেই: প্রতিমন্ত্রী টুকু মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনে অরাজকতার চেষ্টা, রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ডিএনসিসি প্রশাসকের শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে নারায়ণগঞ্জে ৫ প্লাটুন বিজিবি, সতর্ক বিএনপি নেতাকর্মীরাও মিরপুর-১১-তে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, যান চলাচল স্বাভাবিক; আটক ৪ এইচএসসিতে শূন্য পাস ২৯৩ প্রতিষ্ঠানে, শাস্তির মুখে শিক্ষক-প্রতিষ্ঠানপ্রধান গোপালগঞ্জে ইয়াবা-গাঁজা ও ১ লাখ ৬৯ হাজার টাকাসহ আটক ১

হরমুজ প্রণালিতে দুই জাহাজ ডুবি, হামলার কৌশল বদলাচ্ছে ইরান

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৪:০২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২৬৩ Time View

হরমুজ প্রণালির কাছে পৃথক ঘটনায় ‘জিএফএস প্রাইড’ ও ‘কেপ ডাও’ জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর জানিয়েছে সামুদ্রিক নিরাপত্তা–সংশ্লিষ্ট সূত্র।

হরমুজ প্রণালির কাছে পৃথক ঘটনায় একটি কনটেইনার জাহাজ ও একটি ড্রাই বাল্ক ক্যারিয়ার ডুবে গেছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, জাহাজ দুটিতে পৃথকভাবে প্রজেক্টাইলের আঘাত লাগে। এর মধ্যে একটি জাহাজে আগুন ধরে যাওয়ার পর সেটি ডুবে যায়।

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বুধবারের আগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাহাজ দুটি ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এর আগে প্রায় ১০ দিন ধরে হরমুজ প্রণালির আশপাশে জাহাজে হামলার ঘটনা বাড়ার খবর পাওয়া যায়। ইরান জানিয়েছে, তাদের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার জবাবে হামলা জোরদার করা হয়েছে।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’ নামের একটি কনটেইনার জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় ডুবে যায়। জাহাজটির ধারণক্ষমতা ছিল ২ হাজার ৮২৪ টিইইউ।

সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি (এমপিএ) বুধবার জানায়, গত মঙ্গলবার জাহাজটিতে হামলার পর আগুন ধরে যায়। পরে এটি ডুবে যায়। জাহাজে থাকা ২১ জন ক্রুকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ‘কেপ ডাও’ নামের আরেকটি জাহাজও প্রণালির কাছাকাছি ডুবে গেছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাহাজটিতে প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় একজন ক্রু নিহত হন এবং অন্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়।

জাহাজটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘পিওনিজ শিপম্যানেজমেন্ট এফজেডই’। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার খবরের পর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আইএমওর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জাহাজ ডুবির ঘটনাগুলো নথিভুক্ত করা হচ্ছে। সেই হিসাবে ‘জিএফএস প্রাইড’ ও ‘কেপ ডাও’ যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ডুবে যাওয়া জাহাজ।

ইরানের আক্রমণ কৌশলে পরিবর্তনের খবর

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনা বাড়ার মধ্যে ইরানের আক্রমণ কৌশলে পরিবর্তন আনার খবর সামনে এসেছে। দুই জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বুধবার রয়টার্স জানায়, প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে নতুন কৌশল ব্যবহার করছে তেহরান। এর মাধ্যমে বিশ্ববাজারে তেলের দাম উঁচু রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলার লক্ষ্য রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তবে নতুন কৌশলের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি ওই দুই কর্মকর্তা। তাঁদের একজনের ভাষ্য, প্রায় ১০ দিন আগে থেকে আরও আক্রমণাত্মক পদ্ধতিতে অভিযান চালানো শুরু হয়েছে। যেসব জাহাজ বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করছে বলে মনে করা হবে, সেগুলোর বিরুদ্ধে এই কৌশল প্রয়োগ করা হতে পারে।

এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে জানান, ইরানের নজরদারি ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের রাডার ব্যবস্থার বড় একটি অংশ ধ্বংস হওয়ার পর দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ছোট নৌকায় নিরস্ত্র পর্যবেক্ষক বা ‘স্পটার’ ব্যবহার করছে। এসব পর্যবেক্ষক মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করছে বলে তিনি জানান।

ওই কর্মকর্তা গত সপ্তাহের একটি অপ্রকাশিত ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত হয়, ইরানি স্পটাররা একটি পালতোলা নৌকা থেকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তথ্য পাঠাচ্ছিল। পরে মার্কিন বাহিনী নৌকাটির পথরোধ করে আরোহীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

হরমুজ প্রণালিতে ঝুঁকি অব্যাহত

ইরান যুদ্ধ ও এর ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের অবসান নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।

রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, ইরানের দুই কর্মকর্তার একজন সতর্ক করে বলেছেন, খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার (জেএমআইসি) জানিয়েছে, প্রণালিটিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি এখনো ‘মারাত্মক’ পর্যায়ে রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু রোগীদের সুরক্ষায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে মশারি দিল জেলা পরিষদ

হরমুজ প্রণালিতে দুই জাহাজ ডুবি, হামলার কৌশল বদলাচ্ছে ইরান

প্রকাশের সময়ঃ ০৪:০২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

হরমুজ প্রণালির কাছে পৃথক ঘটনায় একটি কনটেইনার জাহাজ ও একটি ড্রাই বাল্ক ক্যারিয়ার ডুবে গেছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, জাহাজ দুটিতে পৃথকভাবে প্রজেক্টাইলের আঘাত লাগে। এর মধ্যে একটি জাহাজে আগুন ধরে যাওয়ার পর সেটি ডুবে যায়।

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বুধবারের আগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাহাজ দুটি ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এর আগে প্রায় ১০ দিন ধরে হরমুজ প্রণালির আশপাশে জাহাজে হামলার ঘটনা বাড়ার খবর পাওয়া যায়। ইরান জানিয়েছে, তাদের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার জবাবে হামলা জোরদার করা হয়েছে।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’ নামের একটি কনটেইনার জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় ডুবে যায়। জাহাজটির ধারণক্ষমতা ছিল ২ হাজার ৮২৪ টিইইউ।

সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি (এমপিএ) বুধবার জানায়, গত মঙ্গলবার জাহাজটিতে হামলার পর আগুন ধরে যায়। পরে এটি ডুবে যায়। জাহাজে থাকা ২১ জন ক্রুকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ‘কেপ ডাও’ নামের আরেকটি জাহাজও প্রণালির কাছাকাছি ডুবে গেছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাহাজটিতে প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় একজন ক্রু নিহত হন এবং অন্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়।

জাহাজটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘পিওনিজ শিপম্যানেজমেন্ট এফজেডই’। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার খবরের পর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আইএমওর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জাহাজ ডুবির ঘটনাগুলো নথিভুক্ত করা হচ্ছে। সেই হিসাবে ‘জিএফএস প্রাইড’ ও ‘কেপ ডাও’ যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ডুবে যাওয়া জাহাজ।

ইরানের আক্রমণ কৌশলে পরিবর্তনের খবর

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনা বাড়ার মধ্যে ইরানের আক্রমণ কৌশলে পরিবর্তন আনার খবর সামনে এসেছে। দুই জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বুধবার রয়টার্স জানায়, প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে নতুন কৌশল ব্যবহার করছে তেহরান। এর মাধ্যমে বিশ্ববাজারে তেলের দাম উঁচু রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলার লক্ষ্য রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তবে নতুন কৌশলের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি ওই দুই কর্মকর্তা। তাঁদের একজনের ভাষ্য, প্রায় ১০ দিন আগে থেকে আরও আক্রমণাত্মক পদ্ধতিতে অভিযান চালানো শুরু হয়েছে। যেসব জাহাজ বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করছে বলে মনে করা হবে, সেগুলোর বিরুদ্ধে এই কৌশল প্রয়োগ করা হতে পারে।

এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে জানান, ইরানের নজরদারি ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের রাডার ব্যবস্থার বড় একটি অংশ ধ্বংস হওয়ার পর দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ছোট নৌকায় নিরস্ত্র পর্যবেক্ষক বা ‘স্পটার’ ব্যবহার করছে। এসব পর্যবেক্ষক মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করছে বলে তিনি জানান।

ওই কর্মকর্তা গত সপ্তাহের একটি অপ্রকাশিত ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত হয়, ইরানি স্পটাররা একটি পালতোলা নৌকা থেকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তথ্য পাঠাচ্ছিল। পরে মার্কিন বাহিনী নৌকাটির পথরোধ করে আরোহীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

হরমুজ প্রণালিতে ঝুঁকি অব্যাহত

ইরান যুদ্ধ ও এর ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের অবসান নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।

রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, ইরানের দুই কর্মকর্তার একজন সতর্ক করে বলেছেন, খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার (জেএমআইসি) জানিয়েছে, প্রণালিটিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি এখনো ‘মারাত্মক’ পর্যায়ে রয়েছে।