
ইয়েমেনের হুতিদের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কর্মী ও তাদের পরিবারকে দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (২১ অক্টোবর) কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্রটি জানায়, সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, কাতার ও বাহরাইনে কর্মরত দূতাবাসকর্মীদের পরিবারকেও চলে যেতে বলা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স তিনজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন দূতাবাসগুলো থেকে কিছু কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ জারির প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এর মধ্যে দুজন কর্মকর্তা জানান, হুতিদের পক্ষ থেকে নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আরেক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, চারজন মার্কিন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মার্কিন মিশন থেকেও পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।
রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সৌদি আরবে হুতিদের সম্ভাব্য আরও হামলা নিয়ে একটি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। সতর্কতায় বলা হয়েছে, রিয়াদের বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার পর হুতিরা সৌদি আরবে আরও হামলা চালাতে পারে।
বুধবার সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের শায়বাহ তেলক্ষেত্রে একটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, একটি স্থাপনা লক্ষ্য করে আসা ড্রোনটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত করা হয়। তবে এ ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। হামলার পরও তেলক্ষেত্রটির কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানানো হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক্সে এক পোস্টে জানান, ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্য মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পিগটের ভাষ্য, হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে শত্রুতা বাড়িয়েছে এবং বেসামরিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা চালাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ হতাহত হচ্ছে এবং যাতায়াতব্যবস্থায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। তবে সৌদি আরবের বাইরের মিশনগুলোর বিষয়ে কোনো পরিবর্তনের কথা তিনি উল্লেখ করেননি।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় তেহরান মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালালে ওই অঞ্চল থেকে অনেক মার্কিন কূটনীতিককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওয়াশিংটন কিছু কূটনৈতিক কর্মীকে আবার সেখানে ফিরিয়ে নিয়েছিল।
অধিকার ডেস্কঃ 

























