ঢাকা ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়
শরীরে মিলেছে অন্তত ২০ আঘাতের চিহ্ন

অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ইবি শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনার মৃত্যু

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম ময়নাতদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার মৃত্যুর কারণ হিসেবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণকে দায়ী করেছেন চিকিৎসকরা। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গলার প্রধান রক্তনালী কেটে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম।

তিনি জানান, আসমা সাদিয়া রুনার গলার ডান পাশের নিচের দিকে একটি গভীর ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে, যা ধারালো ছুরি বা অনুরূপ কোনো অস্ত্রের আঘাতে সৃষ্টি হয়েছে। ওই আঘাতে গলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী কেটে যায় এবং সেখানে জমাট বাঁধা রক্ত পাওয়া গেছে। রক্তনালী কেটে যাওয়ার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ঘটে এবং সেটিই তার মৃত্যুর প্রধান কারণ।

ময়নাতদন্তে আরও দেখা গেছে, শিক্ষিকার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বুকে, পিঠে, পেটে ও হাতে মিলিয়ে অন্তত ২০টি আঘাত পাওয়া গেছে। তবে এসব আঘাত গভীর নয় এবং এগুলোর কারণে মৃত্যু হয়নি। চিকিৎসকদের ধারণা, হামলার সময় নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি এসব আঘাত পেয়েছেন।

ডা. হোসেন ইমাম আরও জানান, আপাতত এটিই প্রাথমিক প্রতিবেদন। চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য চিকিৎসকদের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডে রয়েছেন আরএমও ডা. হোসেন ইমাম, মেডিকেল অফিসার ডা. রুমন রহমান ও ডা. সুমাইয়া জান্নাত।

উল্লেখ্য, বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, একই বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমান ছুরিকাঘাত করে আসমা সাদিয়া রুনাকে গুরুতর আহত করার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

শরীরে মিলেছে অন্তত ২০ আঘাতের চিহ্ন

অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ইবি শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনার মৃত্যু

প্রকাশের সময়ঃ ১২:০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

 ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার মৃত্যুর কারণ হিসেবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণকে দায়ী করেছেন চিকিৎসকরা। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গলার প্রধান রক্তনালী কেটে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম।

তিনি জানান, আসমা সাদিয়া রুনার গলার ডান পাশের নিচের দিকে একটি গভীর ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে, যা ধারালো ছুরি বা অনুরূপ কোনো অস্ত্রের আঘাতে সৃষ্টি হয়েছে। ওই আঘাতে গলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী কেটে যায় এবং সেখানে জমাট বাঁধা রক্ত পাওয়া গেছে। রক্তনালী কেটে যাওয়ার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ঘটে এবং সেটিই তার মৃত্যুর প্রধান কারণ।

ময়নাতদন্তে আরও দেখা গেছে, শিক্ষিকার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বুকে, পিঠে, পেটে ও হাতে মিলিয়ে অন্তত ২০টি আঘাত পাওয়া গেছে। তবে এসব আঘাত গভীর নয় এবং এগুলোর কারণে মৃত্যু হয়নি। চিকিৎসকদের ধারণা, হামলার সময় নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি এসব আঘাত পেয়েছেন।

ডা. হোসেন ইমাম আরও জানান, আপাতত এটিই প্রাথমিক প্রতিবেদন। চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য চিকিৎসকদের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডে রয়েছেন আরএমও ডা. হোসেন ইমাম, মেডিকেল অফিসার ডা. রুমন রহমান ও ডা. সুমাইয়া জান্নাত।

উল্লেখ্য, বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, একই বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমান ছুরিকাঘাত করে আসমা সাদিয়া রুনাকে গুরুতর আহত করার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।