ঢাকা ০৮:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
পাইকারি বাজারে আবারও বাড়ল চালের দাম, ৫০ কেজির বস্তায় বৃদ্ধি ২৫–৪০ টাকা ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল: প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে সিলেটের হাসপাতালে ভর্তি প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নতুন আমির ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের শপথ গ্রহণ রাজধানীতে চলন্ত বাসে আগুন, খিলগাঁওয়ে ককটেল বিস্ফোরণ মাদকের প্রতিবাদ করায় পুলিশ কনস্টেবলের হাত-পা ভাঙার অভিযোগ, পায়ের রগ কাটার দাবি ক্ষমতাসীনরা লুটপাট করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে: মামুনুল হক গার্ড অব অনার ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধার দাফন, সংবাদ প্রকাশ না করতে ইউএনওর অনুরোধ শিশুদের সঙ্গে গল্প, খেলাধুলার সরঞ্জাম দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর চাঁদপুরে ৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, ক্ষতিগ্রস্ত বেদির নিচের অংশ

জামালপুরে ভুল ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ১২:১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২৯০ Time View

দেওয়ানগঞ্জের চেংটিমারী কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে চোখের ড্রপ নিয়ে অভিযোগ করেছেন এক রোগীর স্ত্রী।

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে চোখের সমস্যার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে দেওয়া ড্রপ ব্যবহারের পর সাকোয়াত হোসেন নামে এক রোগীর চোখের অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর পরিবারের আশঙ্কা, দ্রুত উন্নত চিকিৎসা না পেলে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন। এ ঘটনায় চেংটিমারী কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মী বানেছা বেগমের বিরুদ্ধে ভুল ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন রোগীর স্ত্রী পঞ্চমালা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই স্বাস্থ্যকর্মী।

পঞ্চমালার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৬ সেপ্টেম্বর স্বামীর চোখ লাল হয়ে যাওয়ায় তিনি চেংটিমারী কমিউনিটি ক্লিনিকে যান। সেখানে স্বাস্থ্যকর্মী বানেছা বেগমকে চোখের সমস্যার কথা জানান। পরে তাঁকে ‘জেনশন ভায়োলেট’ নামে একটি ড্রপ দেওয়া হয়।

পঞ্চমালা জানান, বাড়িতে ফিরে স্বামীকে ড্রপটি ব্যবহারের পর চোখে জ্বালাপোড়া শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে চোখ সাদা হয়ে আসে এবং দৃষ্টিও ঝাপসা হতে থাকে। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে জামালপুর চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চিকিৎসকেরা তাঁকে ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেন।

তবে আর্থিক সংকটের কারণে স্বামীকে ঢাকায় নিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন পঞ্চমালা। তাঁর দাবি, সময়ের সঙ্গে সাকোয়াতের চোখের অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে।

পঞ্চমালা আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি জানানোর পর স্বাস্থ্যকর্মী বানেছা বেগম ভুল ড্রপ দেওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং ‘ক্লোরাফিলিন’ নামে আরেকটি ড্রপ দেন। বর্তমানে স্বামীর চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বানেছা বেগম বলেন, সাকোয়াত হোসেন নিজে ক্লিনিকে আসেননি। তাঁর স্ত্রী এসে চোখের সমস্যার কথা জানালে তাঁকে উপযুক্ত ওষুধ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পায়ের কড়া ও কুনির জন্য ‘জেনশন ভায়োলেট’ ড্রপ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, চোখের জন্য দেওয়া ওষুধের পরিবর্তে পায়ের সমস্যায় ব্যবহারের ড্রপটি ভুল করে চোখে ব্যবহার করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে পঞ্চমালার দাবি, তাঁকে শুধু একটি ড্রপই দেওয়া হয়েছিল। ফলে কী ওষুধ দেওয়া হয়েছিল এবং সেটি কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহসান হাবীব বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, রোগী সরাসরি ক্লিনিকে না এসে শুধু উপসর্গের বিবরণ দিলে তার ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টি আইনসঙ্গত নয়।

এদিকে রোগীর চোখের বর্তমান অবস্থা, দৃষ্টিশক্তির ক্ষতির মাত্রা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মূল্যায়ন জরুরি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্যকর্মীর দায়ও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাইকারি বাজারে আবারও বাড়ল চালের দাম, ৫০ কেজির বস্তায় বৃদ্ধি ২৫–৪০ টাকা

জামালপুরে ভুল ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে

প্রকাশের সময়ঃ ১২:১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে চোখের সমস্যার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে দেওয়া ড্রপ ব্যবহারের পর সাকোয়াত হোসেন নামে এক রোগীর চোখের অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর পরিবারের আশঙ্কা, দ্রুত উন্নত চিকিৎসা না পেলে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন। এ ঘটনায় চেংটিমারী কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মী বানেছা বেগমের বিরুদ্ধে ভুল ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন রোগীর স্ত্রী পঞ্চমালা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই স্বাস্থ্যকর্মী।

পঞ্চমালার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৬ সেপ্টেম্বর স্বামীর চোখ লাল হয়ে যাওয়ায় তিনি চেংটিমারী কমিউনিটি ক্লিনিকে যান। সেখানে স্বাস্থ্যকর্মী বানেছা বেগমকে চোখের সমস্যার কথা জানান। পরে তাঁকে ‘জেনশন ভায়োলেট’ নামে একটি ড্রপ দেওয়া হয়।

পঞ্চমালা জানান, বাড়িতে ফিরে স্বামীকে ড্রপটি ব্যবহারের পর চোখে জ্বালাপোড়া শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে চোখ সাদা হয়ে আসে এবং দৃষ্টিও ঝাপসা হতে থাকে। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে জামালপুর চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চিকিৎসকেরা তাঁকে ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেন।

তবে আর্থিক সংকটের কারণে স্বামীকে ঢাকায় নিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন পঞ্চমালা। তাঁর দাবি, সময়ের সঙ্গে সাকোয়াতের চোখের অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে।

পঞ্চমালা আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি জানানোর পর স্বাস্থ্যকর্মী বানেছা বেগম ভুল ড্রপ দেওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং ‘ক্লোরাফিলিন’ নামে আরেকটি ড্রপ দেন। বর্তমানে স্বামীর চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বানেছা বেগম বলেন, সাকোয়াত হোসেন নিজে ক্লিনিকে আসেননি। তাঁর স্ত্রী এসে চোখের সমস্যার কথা জানালে তাঁকে উপযুক্ত ওষুধ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পায়ের কড়া ও কুনির জন্য ‘জেনশন ভায়োলেট’ ড্রপ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, চোখের জন্য দেওয়া ওষুধের পরিবর্তে পায়ের সমস্যায় ব্যবহারের ড্রপটি ভুল করে চোখে ব্যবহার করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে পঞ্চমালার দাবি, তাঁকে শুধু একটি ড্রপই দেওয়া হয়েছিল। ফলে কী ওষুধ দেওয়া হয়েছিল এবং সেটি কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহসান হাবীব বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, রোগী সরাসরি ক্লিনিকে না এসে শুধু উপসর্গের বিবরণ দিলে তার ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টি আইনসঙ্গত নয়।

এদিকে রোগীর চোখের বর্তমান অবস্থা, দৃষ্টিশক্তির ক্ষতির মাত্রা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মূল্যায়ন জরুরি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্যকর্মীর দায়ও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।