
‘সহজ মানুষ’, ‘তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা’ কিংবা ‘আমি অপার হয়ে’—এমন বেশ কিছু গানের মাধ্যমে শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন সংগীতশিল্পী আনুশেহ আনাদিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে বড় মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি কম। এ নিয়ে নানা আলোচনা ও গুঞ্জনের মধ্যে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি।
ভিডিও বার্তায় আনুশেহ স্পষ্ট করেছেন, নেশার কারণে তিনি গান ছেড়ে দেননি। বরং শারীরিক সমস্যা এবং নিজের জীবনযাপনের ধরন বিবেচনা করেই মঞ্চ থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আনুশেহ বলেন, ‘দূর থেকে আমাকে বিচার করবেন না। এটা ভেবে নেবেন না যে, আমি নেশার কারণে গান ছেড়ে দিয়েছি বা গান গাইতে পারি না। আমি এখনো গান গাইতে পারি।’
আরেকটি ভিডিওতে নিজের দীর্ঘদিনের আড়ালে থাকা এবং লেখালেখির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এই শিল্পী। তিনি বলেন, ‘আমি অনেক বছর ধরে নিজের চেহারা কাউকে দেখাই না। লুকায়ে ছিলাম। এই বছরগুলোতে আমি প্রচুর লিখেছি। কিন্তু একটা জিনিস খেয়াল করেছি, সেগুলো কেউ পড়ে না। পড়ে তবে সেটা বয়স্করা। এই প্রজন্ম ছোট ছোট ক্লিপস দেখতে অভ্যস্ত।’
বড় কনসার্ট ও বাণিজ্যিকভাবে গান করার বিষয়ে নিজের অনাগ্রহের কথাও জানিয়েছেন আনুশেহ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এখন আর বড় মঞ্চে নিয়মিত গান গাওয়ার ইচ্ছা নেই। জীবনকে সহজ করে তোলা এবং নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে মঞ্চ থেকে দূরে থাকা মানেই সংগীতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা নয় বলে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে। নিজের শারীরিক অবস্থা ও জীবনযাপনের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে তিনি চলার ধরন বদলেছেন।
এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ে নিজের শ্রবণশক্তির সমস্যা নিয়ে কথা বলেছিলেন আনুশেহ। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে শ্রবণজনিত সমস্যায় ভুগছেন তিনি। উচ্চ শব্দ সহ্য করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে এবং জোরে শব্দ হলে কানে ব্যথাও হয়।
আনুশেহর ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকের পরামর্শে একসময় শ্রবণযন্ত্র ব্যবহার শুরু করেছিলেন তিনি। তবে সেটি ব্যবহারের পর তাঁর কানে শব্দ শোনার সমস্যা আরও বেড়েছে বলে মনে হওয়ায় পরে তা ব্যবহার বন্ধ করে দেন। শারীরিক অসুবিধার কারণে এখন কোলাহল এড়িয়ে চলতেই স্বস্তি পান এই শিল্পী।
বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে আনুশেহ আনাদিলের পরিচিতি গড়ে উঠেছে তাঁর স্বতন্ত্র কণ্ঠ ও পরিবেশনার জন্য। তাঁর গাওয়া ‘তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা’, ‘কৃষ্ণপক্ষ’, ‘আমি অপার হয়ে’, ‘সহজ মানুষ’, ‘ঘাটে লাগাইয়া ডিঙ্গা’, ‘মজার মানুষ’ ও ‘কালা রে কইয়ো’ গান শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
অধিকার ডেস্কঃ 

























