ঢাকা ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ডেঙ্গু রোগীদের সুরক্ষায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে মশারি দিল জেলা পরিষদ তাহসিফ হত্যা মামলা: দীপকে ফের ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ শেখ হাসিনা বেঁচে থাকা পর্যন্ত অস্থিতিশীলতার চেষ্টা চলবে: তথ্য উপদেষ্টা ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ: বিজ্ঞানমন্ত্রী মজুরি কমিশন গঠন হয়েছে, এখন আন্দোলনের সুযোগ নেই: প্রতিমন্ত্রী টুকু মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনে অরাজকতার চেষ্টা, রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ডিএনসিসি প্রশাসকের শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে নারায়ণগঞ্জে ৫ প্লাটুন বিজিবি, সতর্ক বিএনপি নেতাকর্মীরাও মিরপুর-১১-তে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, যান চলাচল স্বাভাবিক; আটক ৪ এইচএসসিতে শূন্য পাস ২৯৩ প্রতিষ্ঠানে, শাস্তির মুখে শিক্ষক-প্রতিষ্ঠানপ্রধান গোপালগঞ্জে ইয়াবা-গাঁজা ও ১ লাখ ৬৯ হাজার টাকাসহ আটক ১

ইরানযুদ্ধের প্রভাবে চাপে মার্কিন নৌবহর, মেরামতে লাগবে কয়েক বছর

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ১১:৫৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ১২৩৫ Time View

দীর্ঘ সময় সামরিক অভিযানে ব্যবহারের পর মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের চাপ বেড়েছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধসহ পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানের প্রভাবে জাহাজ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে গভীর সংকটে পড়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে সতর্ক করেছেন নৌবাহিনীর অপারেশন প্রধান অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল। তাঁর মতে, জমে থাকা মেরামতের কাজ দ্রুত শেষ করার কোনো শর্টকাট নেই।

মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের সংকটকে শুধু প্রযুক্তিগত বা বাজেটসংক্রান্ত সমস্যা হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায়, বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নৌবহরকে দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ সক্ষমতায় ব্যবহারের ফলেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় সমুদ্রে

সাধারণত সাত মাসের দায়িত্ব পালনের চক্র বিবেচনায় রেখে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের কারণে অনেক জাহাজকে টানা ১০ থেকে ১৪ মাস পর্যন্ত সমুদ্রে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।

দীর্ঘ সময় অভিযানে থাকার পর এসব জাহাজ বন্দরে ফিরলে ব্যাপক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন দেখা দেয়। তবে বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামো এবং দক্ষ জনবলের সীমাবদ্ধতার কারণে একসঙ্গে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ কাজ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে নৌবাহিনী।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় পরিচালিত অভিযান, বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, এ সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ।

নিরাপদ বন্দরের অভাবে বেড়েছে চাপ

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাহরাইন ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য স্থানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পর ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি মার্কিন জাহাজগুলোর বিশ্রাম ও পুনরায় রসদ সংগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপদ আশ্রয় হয়ে ওঠে। অভিযানস্থল থেকে ঘাঁটিটির দূরত্ব প্রায় ২ হাজার ৫০০ মাইল।

দীর্ঘ দূরত্বের কারণে জাহাজগুলোর মাঝপথে বিশ্রাম ও রসদ সংগ্রহের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। ফলে অনেক নৌযানকে মাসের পর মাস বন্দরে না ভিড়েই সমুদ্রে অবস্থান করতে হয়েছে।

এর প্রভাব পড়েছে জরুরি মেরামতেও। সাধারণত পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বন্দরে অবস্থানকালে যেসব মেরামতের কাজ করা সম্ভব হতো, নিরাপদ বন্দরের সীমাবদ্ধতায় সেগুলোর অনেকটাই পরে করার জন্য জমে গেছে।

সমুদ্রে অবস্থানের রেকর্ড ভেঙেছে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ‘স্প্রুয়্যান্স’ টানা ৩৪২ দিন সমুদ্রে অবস্থান করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের রেকর্ড ভেঙেছে। অন্যদিকে, ‘ম্যাকফল’ নামের আরেকটি ডেস্ট্রয়ার ৩৩২ দিন সমুদ্রে থাকার পর বন্দরে ফিরে আসে।

দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের সুযোগ না পাওয়ায় এসব জাহাজের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডলের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, জমে থাকা মেরামতের কাজ শেষ করতে নৌবাহিনীকে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে এ সংকট কাটাতে শিল্প অবকাঠামো ও দক্ষ জনবলের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।

সূত্র: পার্সটুডে

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু রোগীদের সুরক্ষায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে মশারি দিল জেলা পরিষদ

ইরানযুদ্ধের প্রভাবে চাপে মার্কিন নৌবহর, মেরামতে লাগবে কয়েক বছর

প্রকাশের সময়ঃ ১১:৫৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধসহ পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানের প্রভাবে জাহাজ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে গভীর সংকটে পড়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে সতর্ক করেছেন নৌবাহিনীর অপারেশন প্রধান অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল। তাঁর মতে, জমে থাকা মেরামতের কাজ দ্রুত শেষ করার কোনো শর্টকাট নেই।

মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের সংকটকে শুধু প্রযুক্তিগত বা বাজেটসংক্রান্ত সমস্যা হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায়, বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নৌবহরকে দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ সক্ষমতায় ব্যবহারের ফলেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় সমুদ্রে

সাধারণত সাত মাসের দায়িত্ব পালনের চক্র বিবেচনায় রেখে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের কারণে অনেক জাহাজকে টানা ১০ থেকে ১৪ মাস পর্যন্ত সমুদ্রে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।

দীর্ঘ সময় অভিযানে থাকার পর এসব জাহাজ বন্দরে ফিরলে ব্যাপক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন দেখা দেয়। তবে বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামো এবং দক্ষ জনবলের সীমাবদ্ধতার কারণে একসঙ্গে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ কাজ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে নৌবাহিনী।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় পরিচালিত অভিযান, বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, এ সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ।

নিরাপদ বন্দরের অভাবে বেড়েছে চাপ

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাহরাইন ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য স্থানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পর ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি মার্কিন জাহাজগুলোর বিশ্রাম ও পুনরায় রসদ সংগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপদ আশ্রয় হয়ে ওঠে। অভিযানস্থল থেকে ঘাঁটিটির দূরত্ব প্রায় ২ হাজার ৫০০ মাইল।

দীর্ঘ দূরত্বের কারণে জাহাজগুলোর মাঝপথে বিশ্রাম ও রসদ সংগ্রহের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। ফলে অনেক নৌযানকে মাসের পর মাস বন্দরে না ভিড়েই সমুদ্রে অবস্থান করতে হয়েছে।

এর প্রভাব পড়েছে জরুরি মেরামতেও। সাধারণত পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বন্দরে অবস্থানকালে যেসব মেরামতের কাজ করা সম্ভব হতো, নিরাপদ বন্দরের সীমাবদ্ধতায় সেগুলোর অনেকটাই পরে করার জন্য জমে গেছে।

সমুদ্রে অবস্থানের রেকর্ড ভেঙেছে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ‘স্প্রুয়্যান্স’ টানা ৩৪২ দিন সমুদ্রে অবস্থান করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের রেকর্ড ভেঙেছে। অন্যদিকে, ‘ম্যাকফল’ নামের আরেকটি ডেস্ট্রয়ার ৩৩২ দিন সমুদ্রে থাকার পর বন্দরে ফিরে আসে।

দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের সুযোগ না পাওয়ায় এসব জাহাজের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডলের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, জমে থাকা মেরামতের কাজ শেষ করতে নৌবাহিনীকে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে এ সংকট কাটাতে শিল্প অবকাঠামো ও দক্ষ জনবলের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।

সূত্র: পার্সটুডে