
রাজশাহীতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার থেকে তিন শতাধিক বই জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন। রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১০ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থানরত ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারের বাসে আওয়ামী লীগের সাবেক শীর্ষ নেতাদের বিষয়ভিত্তিক বই রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে তারা বাসটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে নিয়ে যান। এরপর জেলা প্রশাসনের দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাঠাগারের বাসে তল্লাশি চালিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরকেন্দ্রিক প্রায় তিন শতাধিক বই জব্দ করেন।
বই জব্দের পর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বয়ানভিত্তিক কোনো বই, সাময়িকী বা প্রবন্ধ পাঠাগারে না রাখার বিষয়ে একটি মুচলেকা দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রদলের বক্তব্য
মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইমদাদুল হক লিমন জানান, নেতাকর্মীরা বই পড়তে গিয়ে বাসের ভেতরে ওইসব বই দেখতে পান এবং তখনই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানানো হয়।
সংগঠনটির আহ্বায়ক রাকিন রায়হান রবিন বলেন, “সরকার পরিবর্তনের পরেও এসব বই পাওয়া উদ্বেগজনক। আমরা বইগুলো জব্দ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”
পাঠাগার কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাজশাহীতে বই সংরক্ষণের আলাদা কোনো জায়গা না থাকায় বইগুলো বাসে রাখা হয়েছিল। তবে এসব বই কাউকে পড়তে দেওয়া হতো না বলে তিনি দাবি করেন।
জেলা প্রশাসনের অবস্থান
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অভিযানের সময় মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবির, রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশিকুজ্জামান প্রীতমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার কার্যক্রম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে কাজ করে আসছে।
সৈয়দ মাসুদ, রাজশাহী 


















