
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় মাত্র তিন বছর বয়সী এক কন্যাশিশু গুরুতর যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ৬৫ বছর বয়সী প্রতিবেশী জালাল শিকদারের বিরুদ্ধে এই জঘন্য অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার (১৯ জুন) আছরের নামাজের পর উপজেলার বাউরগাতি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত শিশুটিকে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) স্থানান্তর করা হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জালাল শিকদার পলাতক রয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বাউরগাতি গ্রামের বাসিন্দা ও বিএম কলেজের ছাত্র রায়হান মীর জানান, শুক্রবার আছরের নামাজের পর মৃত আজাহার শিকদারের পুত্র জালাল শিকদার শিশুটিকে মোবাইল ফোনে কার্টুন দেখানোর কথা বলে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং সেখানে তার ওপর এই নির্যাতন চালায়। জালাল একাধিকবার বিবাহ করলেও বর্তমানে তার সঙ্গে কোনো স্ত্রী বসবাস করেন না। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তৌকির আহমেদ জানান, শুক্রবার গভীর রাতে শিশুটিকে রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর সেই রাতেই তাকে বরিশাল শেবাচিমে পাঠানো হয়।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে শেবাচিমে চিকিৎসাধীন শিশুটির চাচি পাখি বেগম জানান, শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ফিরোজ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংবাদ পাওয়ার পরপরই তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। তবে তার আগেই শিশুটিকে বরিশালে পাঠানো হয়েছিল। পরে রাত প্রায় ৪টার দিকে অভিযুক্তকে আটকে রাখার খবরে ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হলে জানা যায়, সে আগেই পালিয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে শনিবার বিকেল পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। মামলা পাওয়ামাত্র কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সৈয়দ নূর আহসান, বরিশাল 





















