ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় মা-দুই সন্তানসহ নিহত ৪ জাতীয় সংসদে সম্পন্ন হলো ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের জানাজা ৫৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫২ জনের বৃত্তি অর্জন- ট্যালেন্টপুলে ৪০ শিক্ষার্থী রাজশাহীতে গ্রামীণ জনপদের সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার আহ্বান নাটোরে নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে বিক্ষোভ, ভাঙচুর ভোট গণনায় কারচুপি বরদাশত করা হবে না-সারজিস আলমের কড়া হুঁশিয়ারি আগৈলঝাড়া থানায় হামলা: আহত পুলিশ সদস্যদের পাশে তথ্য মন্ত্রী নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ইবি ছাত্রদলের বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল জুলাই আন্দোলনের চেতনা এখন অস্বীকার করছে বিএনপি- হাসনাত আবদুল্লাহ পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ উপলক্ষে বেরোবি ছাত্রদলের আনন্দ মিছিল

নাটোরে নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে বিক্ষোভ, ভাঙচুর

নাটোরের আলাইপুর এলাকার মা ও শিশু হাসপাতাল, যেখানে নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে

নাটোর শহরের আলাইপুর এলাকায় অবস্থিত মা ও শিশু হাসপাতালে এক নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা, বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসকদের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালের বিভিন্ন জানালার কাচ ভাঙচুর করেন। একই সঙ্গে কর্তব্যরত এক চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে হাসপাতালজুড়ে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নাটোর সদর উপজেলার আগদিঘা পশ্চিমপাড়া গ্রামের রিকশাচালক বাবু হোসেনের স্ত্রী রুমি বেগমকে সকালে প্রসবজনিত জটিলতা নিয়ে মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সকাল ৭টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার প্রসব সম্পন্ন হয়। সকাল ৮টার দিকে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হলেও কিছুক্ষণ পর নবজাতকটির মৃত্যু হয়।

নিহত নবজাতকটি ছিল দম্পতির প্রথম সন্তান। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রথম সন্তানের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের অভিযোগ, যথাসময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হলে নবজাতকটির প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হতো। চিকিৎসকদের গাফিলতি ও অবহেলার কারণেই এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে বলে দাবি করেন তারা।

ঘটনার পর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে স্বজনরা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন হাসপাতালের কয়েকটি জানালার কাচ ভাঙচুর করেন। এ সময় হাসপাতালের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

নবজাতকের এক স্বজন বলেন, “আমাদের শিশুটি সুস্থভাবেই জন্ম নিয়েছিল বলে জানানো হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়। আমরা মনে করি চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই এই মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।”

অন্যদিকে হাসপাতালের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নবজাতকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে চিকিৎসা-সংক্রান্ত সব তথ্য পর্যালোচনা করা হবে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের আগে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কী কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

এদিকে হাসপাতাল ভাঙচুর ও চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, নবজাতকের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। তবে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। একই সঙ্গে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও চিকিৎসাসেবা পরিবেশ বজায় রাখতে ভাঙচুর কিংবা সহিংসতার পরিবর্তে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ঘটনার পর থেকে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে নিহত নবজাতকের পরিবারসহ নাটোরবাসী।

জনপ্রিয় সংবাদ

বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় মা-দুই সন্তানসহ নিহত ৪

নাটোরে নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে বিক্ষোভ, ভাঙচুর

প্রকাশের সময়ঃ ০৬:২২:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

নাটোর শহরের আলাইপুর এলাকায় অবস্থিত মা ও শিশু হাসপাতালে এক নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা, বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসকদের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালের বিভিন্ন জানালার কাচ ভাঙচুর করেন। একই সঙ্গে কর্তব্যরত এক চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে হাসপাতালজুড়ে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নাটোর সদর উপজেলার আগদিঘা পশ্চিমপাড়া গ্রামের রিকশাচালক বাবু হোসেনের স্ত্রী রুমি বেগমকে সকালে প্রসবজনিত জটিলতা নিয়ে মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সকাল ৭টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার প্রসব সম্পন্ন হয়। সকাল ৮টার দিকে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হলেও কিছুক্ষণ পর নবজাতকটির মৃত্যু হয়।

নিহত নবজাতকটি ছিল দম্পতির প্রথম সন্তান। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রথম সন্তানের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের অভিযোগ, যথাসময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হলে নবজাতকটির প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হতো। চিকিৎসকদের গাফিলতি ও অবহেলার কারণেই এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে বলে দাবি করেন তারা।

ঘটনার পর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে স্বজনরা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন হাসপাতালের কয়েকটি জানালার কাচ ভাঙচুর করেন। এ সময় হাসপাতালের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

নবজাতকের এক স্বজন বলেন, “আমাদের শিশুটি সুস্থভাবেই জন্ম নিয়েছিল বলে জানানো হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়। আমরা মনে করি চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই এই মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।”

অন্যদিকে হাসপাতালের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নবজাতকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে চিকিৎসা-সংক্রান্ত সব তথ্য পর্যালোচনা করা হবে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের আগে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কী কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

এদিকে হাসপাতাল ভাঙচুর ও চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, নবজাতকের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। তবে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। একই সঙ্গে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও চিকিৎসাসেবা পরিবেশ বজায় রাখতে ভাঙচুর কিংবা সহিংসতার পরিবর্তে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ঘটনার পর থেকে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে নিহত নবজাতকের পরিবারসহ নাটোরবাসী।