
সিলেট নগরীতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় নবম শ্রেণির ছাত্র মো. রিফাত আহমদ (১৫) নিহত হওয়ার ঘটনায় এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি জুয়েল আহমদকে (১৮) গ্রেফতার করেছে র্যাব।
শুক্রবার দিবাগত রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৯-এর গণমাধ্যম কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহীদুল ইসলাম সোহাগ।
গ্রেফতার জুয়েল সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার হাদারপাড় গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে।
র্যাব জানায়, গত ২১ জুলাই দক্ষিণ সুরমার এরিনা ফুটসাল ইনডোর মাঠে রিফাতের বন্ধু রাফি ও শুয়েব আহমদের দলের মধ্যে ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলার সময় ফাউল করাকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে রাফি তার দল নিয়ে মাঠ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে প্রতিপক্ষ দলের কয়েকজন কিশোর তাকে বাধা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে রাফি তার বন্ধু রিফাতকে ফোন করে সহায়তা চান।
পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রিফাত নগরীর কাজিরবাজার সেলফি ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন কিশোর তার ওপর হামলা চালায়। এতে রিফাত গুরুতর আহত হয়। তাকে উদ্ধারে এগিয়ে গিয়ে সাব্বির আহমদ, আব্দুস সামি ও রবিউল নামের আরও তিনজন আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিফাতকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ৩০ জুলাই রিফাতের মা সিলেট নগরীর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর র্যাব-৯ হত্যাকাণ্ডের ছায়া তদন্তের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।
এর ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে র্যাব-৯ সদর কোম্পানি (সিলেট) ও সিপিসি-১ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)-এর যৌথ দল নবীনগর থানার লাউর ফতেপুর ইউনিয়নের আহম্মদপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি জুয়েল আহমদকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-৯-এর গণমাধ্যম কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহীদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, রিফাত হত্যা মামলায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতার জুয়েলকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
অধিকার ডেস্কঃ 
























