ঢাকা ০৫:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ডেঙ্গু রোগীদের সুরক্ষায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে মশারি দিল জেলা পরিষদ তাহসিফ হত্যা মামলা: দীপকে ফের ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ শেখ হাসিনা বেঁচে থাকা পর্যন্ত অস্থিতিশীলতার চেষ্টা চলবে: তথ্য উপদেষ্টা ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ: বিজ্ঞানমন্ত্রী মজুরি কমিশন গঠন হয়েছে, এখন আন্দোলনের সুযোগ নেই: প্রতিমন্ত্রী টুকু মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনে অরাজকতার চেষ্টা, রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ডিএনসিসি প্রশাসকের শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে নারায়ণগঞ্জে ৫ প্লাটুন বিজিবি, সতর্ক বিএনপি নেতাকর্মীরাও মিরপুর-১১-তে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, যান চলাচল স্বাভাবিক; আটক ৪ এইচএসসিতে শূন্য পাস ২৯৩ প্রতিষ্ঠানে, শাস্তির মুখে শিক্ষক-প্রতিষ্ঠানপ্রধান গোপালগঞ্জে ইয়াবা-গাঁজা ও ১ লাখ ৬৯ হাজার টাকাসহ আটক ১

সাইবার সুরক্ষা আইনের ২৫ ও ২৬এ ধারা বাতিলের দাবি নাগরিক সমাজের

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৭:৫৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২৫২ Time View

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনে নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন আলোচকেরা।

বাংলাদেশের প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনে নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী, ডিজিটাল অধিকার বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

রাজধানীতে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেন, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগের পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার ও সংগঠন করার স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখতে হবে। আইন চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনা করারও আহ্বান জানান তাঁরা।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর নট-ফর-প্রফিট ল’ (আইসিএনএল)-এর উদ্যোগে ‘নাগরিক পরিসরের সুরক্ষা: বাংলাদেশের প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন নিয়ে নাগরিক সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সুইডিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থার (সিডা) সহায়তায় আয়োজিত এ আলোচনায় বিভিন্ন খাতের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে মূল বক্তব্য ও প্রস্তাবিত আইনের আইনি বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন আইসিএনএলের জ্যেষ্ঠ আইন উপদেষ্টা ও ডিজিটাল অধিকার কর্মসূচির সমন্বয়ক জ্যাকারি ল্যাম্পেল।

খসড়া আইনের কয়েকটি ধারা নিয়ে উদ্বেগ

আইসিএনএলের বিশ্লেষণে বলা হয়, গণমাধ্যম ও সম্পাদকদের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা হলেও নাগরিক সমাজের সংগঠন এবং ডিজিটাল আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত দেওয়ার সুযোগ সীমিত রয়েছে। এ ছাড়া বিচারিক তদারকি ছাড়াই অনলাইন কনটেন্ট অবরুদ্ধ বা অপসারণের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

আলোচনায় প্রস্তাবিত আইনের ২৫ ও ২৬এ ধারা সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানানো হয়। অংশগ্রহণকারীদের মতে, ‘মানহানি’, ‘অপমান’, ‘হয়রানি’, ‘গুজব’ ও ‘ভুল তথ্য’-এর মতো বিষয় অস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত হলে বৈধ বক্তব্যও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে আইনের অপপ্রয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।

গণমাধ্যম ও নাগরিক সংগঠনের নিবন্ধন বাতিলের বিধান বাদ দেওয়ার আহ্বান

প্রস্তাবিত আইনের ২৯(৩) ধারায় শাস্তি হিসেবে গণমাধ্যম বা নাগরিক সংগঠনের নিবন্ধন বাতিলের বিধান নিয়েও আপত্তি জানান আলোচকেরা। তাঁদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া চরম পদক্ষেপ। তাই এ ধরনের শাস্তির বিধান পরিহার করা প্রয়োজন।

কনটেন্ট অপসারণে বিচারিক তদারকি চায় নাগরিক সমাজ

অনলাইনে তথ্য বা কনটেন্ট অবরুদ্ধ কিংবা অপসারণের ক্ষেত্রে স্বাধীন বিচারিক তদারকি নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয় বৈঠকে। একই সঙ্গে এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট সময়সীমা পুনর্বহালের আহ্বান জানান অংশগ্রহণকারীরা।

তাঁদের মতে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া, যথাযথ আইনি পর্যালোচনা ও কার্যকর আপিলের সুযোগ না থাকলে অনলাইন বক্তব্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

সাংবাদিক ও জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশকারীদের সুরক্ষার দাবি

আলোচনায় সাংবাদিক, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় আইনে সুস্পষ্ট বিধান রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুর্নীতি, অনিয়ম বা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশকারীদের—যাঁদের ‘হুইসেলব্লোয়ার’ বলা হয়—আইনি সুরক্ষা জোরদার করার সুপারিশ করা হয়।

আইন চূড়ান্ত করার আগে উন্মুক্ত আলোচনার আহ্বান

প্রস্তাবিত আইন চূড়ান্ত করার আগে রাজনৈতিক দল, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, প্রভাবিত জনগোষ্ঠী, নাগরিক সমাজের সংগঠন, আইন বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে উন্মুক্ত ও অর্থবহ পরামর্শ প্রক্রিয়া চালুর আহ্বান জানান আলোচকেরা।

আইসিএনএলের মতে, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে এ লক্ষ্য অর্জনের পদক্ষেপ অবশ্যই নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু রোগীদের সুরক্ষায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে মশারি দিল জেলা পরিষদ

সাইবার সুরক্ষা আইনের ২৫ ও ২৬এ ধারা বাতিলের দাবি নাগরিক সমাজের

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:৫৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনে নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী, ডিজিটাল অধিকার বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

রাজধানীতে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেন, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগের পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার ও সংগঠন করার স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখতে হবে। আইন চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনা করারও আহ্বান জানান তাঁরা।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর নট-ফর-প্রফিট ল’ (আইসিএনএল)-এর উদ্যোগে ‘নাগরিক পরিসরের সুরক্ষা: বাংলাদেশের প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন নিয়ে নাগরিক সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সুইডিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থার (সিডা) সহায়তায় আয়োজিত এ আলোচনায় বিভিন্ন খাতের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে মূল বক্তব্য ও প্রস্তাবিত আইনের আইনি বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন আইসিএনএলের জ্যেষ্ঠ আইন উপদেষ্টা ও ডিজিটাল অধিকার কর্মসূচির সমন্বয়ক জ্যাকারি ল্যাম্পেল।

খসড়া আইনের কয়েকটি ধারা নিয়ে উদ্বেগ

আইসিএনএলের বিশ্লেষণে বলা হয়, গণমাধ্যম ও সম্পাদকদের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা হলেও নাগরিক সমাজের সংগঠন এবং ডিজিটাল আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত দেওয়ার সুযোগ সীমিত রয়েছে। এ ছাড়া বিচারিক তদারকি ছাড়াই অনলাইন কনটেন্ট অবরুদ্ধ বা অপসারণের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

আলোচনায় প্রস্তাবিত আইনের ২৫ ও ২৬এ ধারা সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানানো হয়। অংশগ্রহণকারীদের মতে, ‘মানহানি’, ‘অপমান’, ‘হয়রানি’, ‘গুজব’ ও ‘ভুল তথ্য’-এর মতো বিষয় অস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত হলে বৈধ বক্তব্যও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে আইনের অপপ্রয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।

গণমাধ্যম ও নাগরিক সংগঠনের নিবন্ধন বাতিলের বিধান বাদ দেওয়ার আহ্বান

প্রস্তাবিত আইনের ২৯(৩) ধারায় শাস্তি হিসেবে গণমাধ্যম বা নাগরিক সংগঠনের নিবন্ধন বাতিলের বিধান নিয়েও আপত্তি জানান আলোচকেরা। তাঁদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া চরম পদক্ষেপ। তাই এ ধরনের শাস্তির বিধান পরিহার করা প্রয়োজন।

কনটেন্ট অপসারণে বিচারিক তদারকি চায় নাগরিক সমাজ

অনলাইনে তথ্য বা কনটেন্ট অবরুদ্ধ কিংবা অপসারণের ক্ষেত্রে স্বাধীন বিচারিক তদারকি নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয় বৈঠকে। একই সঙ্গে এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট সময়সীমা পুনর্বহালের আহ্বান জানান অংশগ্রহণকারীরা।

তাঁদের মতে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া, যথাযথ আইনি পর্যালোচনা ও কার্যকর আপিলের সুযোগ না থাকলে অনলাইন বক্তব্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

সাংবাদিক ও জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশকারীদের সুরক্ষার দাবি

আলোচনায় সাংবাদিক, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় আইনে সুস্পষ্ট বিধান রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুর্নীতি, অনিয়ম বা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশকারীদের—যাঁদের ‘হুইসেলব্লোয়ার’ বলা হয়—আইনি সুরক্ষা জোরদার করার সুপারিশ করা হয়।

আইন চূড়ান্ত করার আগে উন্মুক্ত আলোচনার আহ্বান

প্রস্তাবিত আইন চূড়ান্ত করার আগে রাজনৈতিক দল, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, প্রভাবিত জনগোষ্ঠী, নাগরিক সমাজের সংগঠন, আইন বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে উন্মুক্ত ও অর্থবহ পরামর্শ প্রক্রিয়া চালুর আহ্বান জানান আলোচকেরা।

আইসিএনএলের মতে, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে এ লক্ষ্য অর্জনের পদক্ষেপ অবশ্যই নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।