ঢাকা ১১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
স্বপ্ন থামবে কি টাকার অভাবে? চা বিক্রেতার মেধাবী মেয়ে মাহমুদার মেডিকেল পড়া অনিশ্চয়তায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন গৌরনদীতে বাস-ভ্যান সংঘর্ষে ভ্যানচালক নিহত পবা ও মোহনপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এমপি মিলন রাজশাহীতে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির সূচনা জমি বিরোধের জেরে গৌরনদীতে যুবককে রড দিয়ে জখম ২০ বছরে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবৈধ কারবার করে কোটিপতি হয়েছে হাজারও ব্যক্তি – ভূমিমন্ত্রী ময়মনসিংহে ডিবি পুলিশ ও র‍্যাবের পৃথক অভিযানে নিষিদ্ধ দ্রব্যসহ ৩ কারবারি গ্রেফতার দ্রুত চালুর সুপারিশ করবে বিআইডব্লিউটিএ – সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর পরিদর্শনে যুগ্ম সচিব স্থায়ী নিয়োগ ও আউটসোর্সিং বন্ধের দাবিতে রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ

স্বপ্ন থামবে কি টাকার অভাবে? চা বিক্রেতার মেধাবী মেয়ে মাহমুদার মেডিকেল পড়া অনিশ্চয়তায়

রাজশাহীর তানোর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারের মেধাবী মেয়ে মাহমুদা খাতুন। বাবা মাসুদ রানা গ্রামে চা বিক্রি করে সংসার চালান, মা সায়েরা বিবি গৃহিণী। অভাবের সংসারে বড় হয়েও দমে যাননি মাহমুদা। নিজের মেধা আর অদম্য ইচ্ছার জোরে ২০২৩ সালে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ এবং ২০২৫ সালে এইচএসসিতেও গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি। অবশেষে পূরণ হয় তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন — ভর্তি হন জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু এখন সেই স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থসংকট।
বাবা মাসুদ রানা জানান, প্রতিদিন চা বিক্রি করে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয় তার। এই সামান্য আয়ে সংসার চালানোই কঠিন। মেয়ের মেডিকেলে ভর্তির সময় ১৩ হাজার টাকা ধার করে দিতে হয়েছে। এখন ক্লাস শুরু হয়েছে, বই কিনতে লাগবে প্রায় ২০ হাজার টাকা এবং বাধ্যতামূলক কঙ্কাল (স্কেলেটন) কিনতে লাগবে আরও ৪০ হাজার টাকা। এর বাইরে প্রতি মাসে হোস্টেল থাকা-খাওয়া ও পড়াশোনার আনুষঙ্গিক খরচ ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এত টাকা জোগাড় করা তার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
মা সায়েরা বিবি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বিক্রি করার মতো কোনো সম্পদ নেই তাদের। মাত্র দুই শতক জমিতে মাটি ও বেড়ার তৈরি ঘরে বসবাস করেন পুরো পরিবার। তিনি সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে মেয়ের পাশে দাঁড়ানোর আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
মাহমুদা নিজে জানান, ক্লাস শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগেই হোস্টেলে উঠেছেন তিনি। কিন্তু নিজের বই না থাকায় পড়াশোনায় বেশ কষ্ট হচ্ছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ কঙ্কাল কেনার নির্দেশ দিলেও বাবার পক্ষে এখনো তা কিনে দেওয়া সম্ভব হয়নি। অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তার।
প্রতিবেশী হেলাল উদ্দিন জানান, ছোটবেলা থেকেই অন্যের বই ধার করে পড়াশোনা করতে হয়েছে মাহমুদাকে। অভাবের মধ্যে বেড়ে উঠেও সে কখনো হাল ছাড়েনি। তার মতো মেধাবীর পাশে সবার দাঁড়ানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।
তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাঈমা খান বলেন, মাহমুদার মেডিকেলে ভর্তির বিষয়টি এর আগে তার জানা ছিল না। এমন দরিদ্র পরিবার থেকে মেডিকেলে সুযোগ পাওয়া পুরো তানোর উপজেলার জন্যই গর্বের। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া গেলে জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা করে আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি দেশের সচ্ছল মানুষদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
মাহমুদার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে বাবা মাসুদ রানার মোবাইল নম্বর: ০১৭৯৬-৮৮১৪৪৯।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বপ্ন থামবে কি টাকার অভাবে? চা বিক্রেতার মেধাবী মেয়ে মাহমুদার মেডিকেল পড়া অনিশ্চয়তায়

স্বপ্ন থামবে কি টাকার অভাবে? চা বিক্রেতার মেধাবী মেয়ে মাহমুদার মেডিকেল পড়া অনিশ্চয়তায়

প্রকাশের সময়ঃ ১০:০৯:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

রাজশাহীর তানোর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারের মেধাবী মেয়ে মাহমুদা খাতুন। বাবা মাসুদ রানা গ্রামে চা বিক্রি করে সংসার চালান, মা সায়েরা বিবি গৃহিণী। অভাবের সংসারে বড় হয়েও দমে যাননি মাহমুদা। নিজের মেধা আর অদম্য ইচ্ছার জোরে ২০২৩ সালে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ এবং ২০২৫ সালে এইচএসসিতেও গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি। অবশেষে পূরণ হয় তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন — ভর্তি হন জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু এখন সেই স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থসংকট।
বাবা মাসুদ রানা জানান, প্রতিদিন চা বিক্রি করে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয় তার। এই সামান্য আয়ে সংসার চালানোই কঠিন। মেয়ের মেডিকেলে ভর্তির সময় ১৩ হাজার টাকা ধার করে দিতে হয়েছে। এখন ক্লাস শুরু হয়েছে, বই কিনতে লাগবে প্রায় ২০ হাজার টাকা এবং বাধ্যতামূলক কঙ্কাল (স্কেলেটন) কিনতে লাগবে আরও ৪০ হাজার টাকা। এর বাইরে প্রতি মাসে হোস্টেল থাকা-খাওয়া ও পড়াশোনার আনুষঙ্গিক খরচ ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এত টাকা জোগাড় করা তার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
মা সায়েরা বিবি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বিক্রি করার মতো কোনো সম্পদ নেই তাদের। মাত্র দুই শতক জমিতে মাটি ও বেড়ার তৈরি ঘরে বসবাস করেন পুরো পরিবার। তিনি সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে মেয়ের পাশে দাঁড়ানোর আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
মাহমুদা নিজে জানান, ক্লাস শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগেই হোস্টেলে উঠেছেন তিনি। কিন্তু নিজের বই না থাকায় পড়াশোনায় বেশ কষ্ট হচ্ছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ কঙ্কাল কেনার নির্দেশ দিলেও বাবার পক্ষে এখনো তা কিনে দেওয়া সম্ভব হয়নি। অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তার।
প্রতিবেশী হেলাল উদ্দিন জানান, ছোটবেলা থেকেই অন্যের বই ধার করে পড়াশোনা করতে হয়েছে মাহমুদাকে। অভাবের মধ্যে বেড়ে উঠেও সে কখনো হাল ছাড়েনি। তার মতো মেধাবীর পাশে সবার দাঁড়ানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।
তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাঈমা খান বলেন, মাহমুদার মেডিকেলে ভর্তির বিষয়টি এর আগে তার জানা ছিল না। এমন দরিদ্র পরিবার থেকে মেডিকেলে সুযোগ পাওয়া পুরো তানোর উপজেলার জন্যই গর্বের। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া গেলে জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা করে আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি দেশের সচ্ছল মানুষদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
মাহমুদার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে বাবা মাসুদ রানার মোবাইল নম্বর: ০১৭৯৬-৮৮১৪৪৯।