ঢাকা ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
স্কুল ম্যানেজিং কমিটিতে রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব অগ্রহণযোগ্য- ডেপুটি স্পিকার নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১৫৭, নিখোঁজ অন্তত ৪০৩ ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর গুজব সম্পূর্ণ মিথ্যা- দায়ীদের শাস্তির দাবি নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর খুলনায় গুলিবিদ্ধের ঘটনায় রহস্য, বাসা থেকে উদ্ধার তিন পিস্তলসহ দেশীয় অস্ত্র ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিটি ঘোষণা- সভাপতি প্রীতিময় ও সম্পাদক উত্তম ময়মনসিংহে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ আটক দুই মাদক কারবারি টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত তারেক রহমানের নেতৃত্ব সম্প্রসারণের আহ্বান এমপি আজিজের মহানন্দা সেতুর কাছে ডিবির অভিযান, ১১২৫ বোতল কোডিনযুক্ত সিরাপসহ যুবক আটক প্রতিটি শিশু মানসম্মত শিক্ষা লাভ করবে- চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের দায় নেবে না ছাত্রশিবির

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রাকসুর জিএসের দায় না নেওয়ার ঘোষণা দেয় ইসলামী ছাত্রশিবির

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের কোনো দায় নেবে না বলে জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায় সংগঠনটি।

দাপ্তরিক খরচের বাজেট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে রাবি শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, জিএস দাপ্তরিক কাজের কথা বলে তিন লাখ ৭০ হাজার টাকা তুলে বিভিন্ন দপ্তরের নামে খরচ দেখিয়েছেন, যা তাঁদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। তিনি জানান, তাঁদের প্রতিনিধিদের হিসাব অনুযায়ী, অন্য সব দপ্তর মিলিয়ে সর্বসাকুল্যে ৫০-৬০ হাজার টাকার বেশি খরচ হওয়ার কথা নয়। এভাবে অন্যান্য দপ্তরের ওপর দায় চাপিয়ে ব্যক্তিগত অনিয়ম এড়ানো যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি কোন দপ্তরে কত টাকা খরচ হয়েছে, তার তথ্য-প্রমাণসহ সুনির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশের দাবি জানান। তাঁর ভাষ্য, সালাহউদ্দিন আম্মার তাঁদের প্যানেলের প্রার্থী না হওয়ায় তাঁর কর্মকাণ্ড ও আর্থিক হিসাবের কোনো দায় ছাত্রশিবির বহন করবে না।

সংবাদ সম্মেলনে রাকসু নির্বাচনের তপশিল ঘোষণাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের অন্যান্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা চালু, পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট কার্যকর করা।

রাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে লিখিত বক্তব্যে শিবির সভাপতি বলেন, ইতিমধ্যে রাকসু নির্বাচনের ১০ মাস পার হতে চলেছে। এখনই পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ না করা হলে যথাসময়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষার্থীরা যাতে প্রতিবছর রাকসু নির্বাচন পায়, তা নিশ্চিত করতে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে রাকসু নির্বাচন অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান তিনি।

গত ১০ মাসে রাকসুর অর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে এখন আর আগের মতো ট্যাগিং-ফ্রেমিং বা নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানির ঘটনা ঘটছে না। আগের তুলনায় ক্যাম্পাসে মাদকের বিস্তারও অনেকটাই কমে এসেছে। ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত হয়েছে এবং আসন বাণিজ্যের প্রথা বন্ধ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্যে, গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতির অবসান ঘটেছে এবং এখন মেধা ও সিনিয়রিটির ভিত্তিতে আসন বণ্টন হচ্ছে, যা এই সময়ের অন্যতম বড় পরিবর্তন বলে মনে করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানসহ বিভিন্ন হলের নির্বাচিত রাকসু প্রতিনিধি ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুল ম্যানেজিং কমিটিতে রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব অগ্রহণযোগ্য- ডেপুটি স্পিকার

রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের দায় নেবে না ছাত্রশিবির

প্রকাশের সময়ঃ ০২:০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের কোনো দায় নেবে না বলে জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায় সংগঠনটি।

দাপ্তরিক খরচের বাজেট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে রাবি শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, জিএস দাপ্তরিক কাজের কথা বলে তিন লাখ ৭০ হাজার টাকা তুলে বিভিন্ন দপ্তরের নামে খরচ দেখিয়েছেন, যা তাঁদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। তিনি জানান, তাঁদের প্রতিনিধিদের হিসাব অনুযায়ী, অন্য সব দপ্তর মিলিয়ে সর্বসাকুল্যে ৫০-৬০ হাজার টাকার বেশি খরচ হওয়ার কথা নয়। এভাবে অন্যান্য দপ্তরের ওপর দায় চাপিয়ে ব্যক্তিগত অনিয়ম এড়ানো যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি কোন দপ্তরে কত টাকা খরচ হয়েছে, তার তথ্য-প্রমাণসহ সুনির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশের দাবি জানান। তাঁর ভাষ্য, সালাহউদ্দিন আম্মার তাঁদের প্যানেলের প্রার্থী না হওয়ায় তাঁর কর্মকাণ্ড ও আর্থিক হিসাবের কোনো দায় ছাত্রশিবির বহন করবে না।

সংবাদ সম্মেলনে রাকসু নির্বাচনের তপশিল ঘোষণাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের অন্যান্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা চালু, পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট কার্যকর করা।

রাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে লিখিত বক্তব্যে শিবির সভাপতি বলেন, ইতিমধ্যে রাকসু নির্বাচনের ১০ মাস পার হতে চলেছে। এখনই পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ না করা হলে যথাসময়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষার্থীরা যাতে প্রতিবছর রাকসু নির্বাচন পায়, তা নিশ্চিত করতে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে রাকসু নির্বাচন অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান তিনি।

গত ১০ মাসে রাকসুর অর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে এখন আর আগের মতো ট্যাগিং-ফ্রেমিং বা নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানির ঘটনা ঘটছে না। আগের তুলনায় ক্যাম্পাসে মাদকের বিস্তারও অনেকটাই কমে এসেছে। ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত হয়েছে এবং আসন বাণিজ্যের প্রথা বন্ধ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্যে, গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতির অবসান ঘটেছে এবং এখন মেধা ও সিনিয়রিটির ভিত্তিতে আসন বণ্টন হচ্ছে, যা এই সময়ের অন্যতম বড় পরিবর্তন বলে মনে করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানসহ বিভিন্ন হলের নির্বাচিত রাকসু প্রতিনিধি ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা।