ঢাকা ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়

দমকা হাওয়ায় টিনশেড ঘর ধস, নলছিটিতে চাপা পড়ে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নের পশ্চিম পাওতা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ঝালকাঠির নলছিটিতে আকস্মিক দমকা হাওয়ায় একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘর ধসে নাফিয়া আক্তার (৪) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নের পশ্চিম পাওতা এলাকায় এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শিশুটির নানা মোহাম্মদ নুর আলম ভূঁইয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার প্রবাসী নয়ন মোল্লার স্ত্রী নাসরিন বেগম দুই মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। দুপুরে বাড়ির দক্ষিণ পাশে থাকা একটি পরিত্যক্ত টিনশেড কাঠের ঘরে নাফিয়া আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করেন তার নানা নুর আলম ভূঁইয়া।

এ সময় হঠাৎ দমকা হাওয়ায় ঘরের টিনের চালা খুলে যেতে শুরু করে। সেটি ঠিক করতে নুর আলম ভূঁইয়া মাচায় ওঠেন। কিন্তু মুহূর্তেই প্রবল বাতাসে পুরো টিনশেড ঘরটি ধসে পড়ে। এতে ভাঙা টিন ও কাঠামোর নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় শিশু নাফিয়া। আহত হন তার নানা।

ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা চালান। কিন্তু ততক্ষণে শিশুটির মৃত্যু হয়। আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ ওঠা দমকা হাওয়া এতটাই প্রবল ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে পরিত্যক্ত টিনশেডটি ধসে পড়ে। স্থানীয়দের মতে, জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘরটি দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও তা অপসারণ করা হয়নি।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফু আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে এ দুর্ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত স্থাপনা অপসারণে প্রশাসনিক নজরদারি জোরদারের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, এমন জরাজীর্ণ স্থাপনা অনেক সময়ই বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সাম্প্রতিক বৈরী আবহাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা থেকে সতর্ক থাকতে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের এমন স্থাপনার কাছাকাছি না যেতে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির মধ্যেই এ মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও গ্রামীণ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। চার বছরের নিষ্পাপ শিশুর এমন মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পশ্চিম পাওতা এলাকা।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

দমকা হাওয়ায় টিনশেড ঘর ধস, নলছিটিতে চাপা পড়ে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রকাশের সময়ঃ ১১:১১:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

ঝালকাঠির নলছিটিতে আকস্মিক দমকা হাওয়ায় একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘর ধসে নাফিয়া আক্তার (৪) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নের পশ্চিম পাওতা এলাকায় এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শিশুটির নানা মোহাম্মদ নুর আলম ভূঁইয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার প্রবাসী নয়ন মোল্লার স্ত্রী নাসরিন বেগম দুই মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। দুপুরে বাড়ির দক্ষিণ পাশে থাকা একটি পরিত্যক্ত টিনশেড কাঠের ঘরে নাফিয়া আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করেন তার নানা নুর আলম ভূঁইয়া।

এ সময় হঠাৎ দমকা হাওয়ায় ঘরের টিনের চালা খুলে যেতে শুরু করে। সেটি ঠিক করতে নুর আলম ভূঁইয়া মাচায় ওঠেন। কিন্তু মুহূর্তেই প্রবল বাতাসে পুরো টিনশেড ঘরটি ধসে পড়ে। এতে ভাঙা টিন ও কাঠামোর নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় শিশু নাফিয়া। আহত হন তার নানা।

ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা চালান। কিন্তু ততক্ষণে শিশুটির মৃত্যু হয়। আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ ওঠা দমকা হাওয়া এতটাই প্রবল ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে পরিত্যক্ত টিনশেডটি ধসে পড়ে। স্থানীয়দের মতে, জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘরটি দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও তা অপসারণ করা হয়নি।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফু আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে এ দুর্ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত স্থাপনা অপসারণে প্রশাসনিক নজরদারি জোরদারের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, এমন জরাজীর্ণ স্থাপনা অনেক সময়ই বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সাম্প্রতিক বৈরী আবহাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা থেকে সতর্ক থাকতে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের এমন স্থাপনার কাছাকাছি না যেতে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির মধ্যেই এ মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও গ্রামীণ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। চার বছরের নিষ্পাপ শিশুর এমন মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পশ্চিম পাওতা এলাকা।