ঢাকা ০৩:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা

দম্পতির মৃত্যুদণ্ড, আদালত বললেন-‘মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা বেদনা ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ’

আজ রোববার আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করে পুলিশ।

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার বহুল আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রতি সংঘটিত নির্মমতার বেদনাদায়ক চিত্র বহন করছে। এটি শুধু একটি ফৌজদারি মামলা নয়, বরং সমাজের বিবেক, মানবতা, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং আইনের শাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

আদালত উল্লেখ করেন, শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। কোনো শিশু যখন যৌন নির্যাতন, সহিংসতা বা হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের শিকার হয়, তখন তা শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দেয় এবং বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল জানায়, বর্তমানে আদালতে এক হাজার ৮০০-এর বেশি নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার প্রতিটির পেছনেই রয়েছে ভুক্তভোগীদের অসহনীয় যন্ত্রণা এবং ন্যায়বিচারের দীর্ঘ প্রতীক্ষা। তবে আলোচিত এ মামলায় তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম তুলনামূলক দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হওয়ায় আদালত সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আদালত বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। একই সঙ্গে প্রসিকিউশন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের দ্রুত আদালতে হাজির করে বিচারকার্য এগিয়ে নিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতা প্রশংসার দাবিদার।

বিচারক আরও বলেন, শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার মামলাগুলোতে দ্রুত, দক্ষ ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ মামলা একটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হতে পারে। ভবিষ্যতেও ভুক্তভোগী শিশু ও তাদের পরিবার যেন অযথা দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে না পড়ে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়; বরং তদন্তকারী সংস্থা, প্রসিকিউশন, ডিফেন্স, সাক্ষী এবং বিচারব্যবস্থার সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমেই তা নিশ্চিত করা সম্ভব। আইন, সাক্ষ্য-প্রমাণ, আলামত ও চিকিৎসা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সতর্কতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে পর্যালোচনা শেষে এ রায় দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন বিচারক।

আদালতের এ রায়কে শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা

দম্পতির মৃত্যুদণ্ড, আদালত বললেন-‘মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা বেদনা ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ’

প্রকাশের সময়ঃ ০৪:০৯:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার বহুল আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রতি সংঘটিত নির্মমতার বেদনাদায়ক চিত্র বহন করছে। এটি শুধু একটি ফৌজদারি মামলা নয়, বরং সমাজের বিবেক, মানবতা, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং আইনের শাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

আদালত উল্লেখ করেন, শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। কোনো শিশু যখন যৌন নির্যাতন, সহিংসতা বা হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের শিকার হয়, তখন তা শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দেয় এবং বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল জানায়, বর্তমানে আদালতে এক হাজার ৮০০-এর বেশি নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার প্রতিটির পেছনেই রয়েছে ভুক্তভোগীদের অসহনীয় যন্ত্রণা এবং ন্যায়বিচারের দীর্ঘ প্রতীক্ষা। তবে আলোচিত এ মামলায় তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম তুলনামূলক দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হওয়ায় আদালত সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আদালত বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। একই সঙ্গে প্রসিকিউশন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের দ্রুত আদালতে হাজির করে বিচারকার্য এগিয়ে নিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতা প্রশংসার দাবিদার।

বিচারক আরও বলেন, শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার মামলাগুলোতে দ্রুত, দক্ষ ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ মামলা একটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হতে পারে। ভবিষ্যতেও ভুক্তভোগী শিশু ও তাদের পরিবার যেন অযথা দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে না পড়ে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়; বরং তদন্তকারী সংস্থা, প্রসিকিউশন, ডিফেন্স, সাক্ষী এবং বিচারব্যবস্থার সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমেই তা নিশ্চিত করা সম্ভব। আইন, সাক্ষ্য-প্রমাণ, আলামত ও চিকিৎসা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সতর্কতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে পর্যালোচনা শেষে এ রায় দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন বিচারক।

আদালতের এ রায়কে শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।