
দেশজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করা জামালপুর সীমান্তের সেই বৃদ্ধের আসল পরিচয় মিলেছে। প্রায় আড়াই মাস ধরে নিখোঁজ থাকা এই বৃদ্ধের বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের চন্দলাই গ্রামে। তার নাম ষষ্টি চন্দ্র বর্মন (৬৫)। নানামুখী শঙ্কা আর উদ্বেগের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে তিনি নিজের পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন। তার এই নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে স্বজনদের পাশাপাশি পুরো গ্রামজুড়ে এখন স্বস্তির হাওয়া।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চিত করেছে, জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর পুশইনের শিকার হিসেবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিটিই রাজশাহীর সেই নিখোঁজ ষষ্টি চন্দ্র।
অভাবের সংসারে মানসিক ভারসাম্যহীনতা
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ষষ্টি চন্দ্র বর্মন একসময় সাধারণ মানুষের মতোই কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রথম সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে তার। তবে প্রথম স্ত্রী চলে যাওয়ার পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বর্তমান স্ত্রী বিশ্বকা রানী ও তিন মেয়েকে নিয়ে তার সংসার। এরই মধ্যে এক মেয়ের জামাতা মারা যাওয়ায় দুই নাতি-নাতনিসহ সেই মেয়ের দায়িত্বও পড়ে ষষ্টি চন্দ্রের ওপর। প্রায় তিন বছর আগে তিনি হঠাতই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন এবং ভবঘুরে জীবন শুরু করেন। মাঝেমধ্যেই তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ থাকতেন। সবশেষ আড়াই মাস আগে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর খোঁজ মেলেনি তার।
যেভাবে মিলল সন্ধান
সীমান্তের শূন্যরেখায় পুশইনের ঘটনার ছবি ও সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ষষ্টি চন্দ্রকে চিনতে পারেন এবং পরিবারকে জানান। পরে তার বড় ভাই ভবানী বর্মন এবং মেজো জামাতা গৌর চন্দ্র বর্মন জামালপুরে গিয়ে বিজিবি ও স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
শুক্রবার সকালে বাড়ি ফেরার পর তিনি কিছুটা সময় আবার সবার অলক্ষ্যে চলে গিয়েছিলেন। পরে স্বজনরা তাকে খুঁজে এনে পরিচ্ছন্ন করেন। তবে রাজশাহী থেকে তিনি কীভাবে এতো দূরে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছালেন, সে বিষয়ে মানসিক অসুস্থতার কারণে স্পষ্ট কিছু বলতে পারছেন না ষষ্টি চন্দ্র।
পরিবার ও এলাকাবাসীর আকুতি
ষষ্টি চন্দ্রের বড় ভাই ভবানী বর্মন বলেন, “আমার ভাই দীর্ঘদিন ধরে মানসিক কষ্টে আছেন। অভাবের তাড়নায় হয়তো না বুঝেই সীমান্তে চলে গিয়েছিলেন। আমরা চাই এমন ঘটনা যেন আর কারও সাথে না ঘটে।” একই সাথে তিনি ভাইয়ের ভাঙাচোরা ঘরবাড়ি মেরামত এবং এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি অনুরোধ জানান।
মোহনপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা হোসেনসহ গ্রামবাসীরা দাবি জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এই পরিবারটিকে যেন কর্মসংস্থান বা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
সীমান্তে বিএসএফ-এর পুশইন চেষ্টা এবং বিজিবির সতর্ক অবস্থানের মাঝে সঠিক পরিচয় শনাক্তের মাধ্যমে এই বৃদ্ধের ঘরে ফেরা একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সৈয়দ মাসুদ, রাজশাহী 























