
একাধিক দাবিতে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম। শুক্রবার (১২ জুন ২০২৬) জুম্মার নামাজ শেষে নগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক ও সোনাদিঘীর মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জিরোপয়েন্টে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তারা ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর চলমান নিপীড়নের তীব্র নিন্দা জানান। তারা বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশে মসজিদ-মাদরাসা ভাঙচুর এবং সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে দেওয়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সীমান্ত প্রতিরক্ষা প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ স্বাধীনতার পরও সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিজিবি) যুগোপযোগী আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত করা হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে বিজিবি সদস্যদের হাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অত্যাধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতে হবে।
বক্তারা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন। তারা বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশবাসী সংস্কারের প্রত্যাশা করেছিল, কিন্তু সেই সংস্কার প্রক্রিয়ায় ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী কোনো আইন প্রণয়নের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।
চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনমান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত সরকারের নেওয়া উচিত নয়। দ্রব্যমূল্য দ্রুত সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনার দাবি জানান তারা।
এছাড়া গাইবান্ধায় মূর্তি নির্মাণের ঘটনার প্রতিবাদ এবং বিতর্কিত সংগঠন ‘হেযবুত তওহীদ’কে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান বক্তারা। তারা বলেন, এই সংগঠনটি সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে। দাবি পূরণ না হলে আগামীতে আরও জোরালো কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। পরে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর খেলাফতে মজলিসের সভাপতি মুফতি জমির হোসেন জমিরী, সহ-সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ তালহা, যুব বিষয়ক সম্পাদক মীর ফরহাদ, হেফাজতে ইসলামের জেলা যুব বিষয়ক সম্পাদক মুফতি কামরুজ্জামান, সদস্য হাফেজ মাওলানা হোসায়েন আহমেদ দেওয়ান এবং ছাত্র বিষয়ক সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ।
সৈয়দ মাসুদ, রাজশাহী 






















