ঢাকা ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
মহেশখালীর সংরক্ষিত বনে সড়ক নির্মাণে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা নদী দূষণ রোধে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সব হাসপাতালের জন্য পরিপত্র জারির নির্দেশ- হাইকোর্ট হাফিজুরের জামিন স্থগিত, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ প্রেমিকার বিয়ের দিন নিভে গেল এক তরুণের স্বপ্ন- ফেসবুকে শেষ বিদায় গণহত্যার ঘটনায় আ.লীগ প্রত্যক্ষ, ভারত পরোক্ষভাবে দায়ী-রাশেদ প্রধান ‘জুলাই শহীদদের জন্য কী করেছেন?’-ইশরাকের প্রশ্নের জবাবে যা বললেন সারজিস আলম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা সাংবাদিকের ওপর বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীর হামলা- প্রতিবাদে মানববন্ধন রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কা, পাওয়ার টিলারচালক যুবকের প্রাণহানি

ত্রিশালে মসজিদে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ: ইমাম গ্রেফতার

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় একটি মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ধর্মীয় শিক্ষা নিতে মসজিদে যাওয়া এক শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একজন ইমামের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকার মানুষের মনে গভীর আঘাত দিয়েছে এবং শিশু সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
জানা যায়, সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু প্রতিদিনের মতো শনিবার বিকেলে স্থানীয় মসজিদে আরবি শিক্ষা নিতে যায়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও শিশুটি বাড়ি না ফেরায় তার মা উদ্বিগ্ন হয়ে খুঁজতে বের হন। মসজিদে গিয়ে তিনি এমন একটি দৃশ্যের সম্মুখীন হন, যা যেকোনো অভিভাবকের জন্য অকল্পনীয়।
পরিবার ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, ইমাম মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামের কাছে ওই শিশুসহ আরও দুই ছেলেশিশু আরবি শিখত। শনিবার বিকেলে আরবি শিক্ষার সময় শিশুটির মা মসজিদে গিয়ে ইমামকে শিশুটির ওপর নির্যাতন করতে দেখেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ইমামকে আটক করেন। স্থানীয়রা তাকে মসজিদের ভেতর তালাবদ্ধ করে পুলিশে খবর দেন। পরে জুতার মালা পরিয়ে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
আহত শিশুটিকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানোর পরামর্শ দেন।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর আহমেদ জানান, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা এ বিষয়ে মামলা দায়ের করেছেন এবং গ্রেফতার শাহিনুর ইসলামকে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হবে।
এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারকে নয়, গোটা সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের প্রতি মানুষের যে গভীর বিশ্বাস রয়েছে, এ ধরনের অভিযোগ সেই আস্থায় ফাটল ধরায়। শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের আচরণে যেকোনো পরিবর্তনে সচেতন থাকা, তাদের সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগ বজায় রাখা এবং শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মহেশখালীর সংরক্ষিত বনে সড়ক নির্মাণে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

ত্রিশালে মসজিদে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ: ইমাম গ্রেফতার

প্রকাশের সময়ঃ ০৫:২৭:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় একটি মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ধর্মীয় শিক্ষা নিতে মসজিদে যাওয়া এক শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একজন ইমামের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকার মানুষের মনে গভীর আঘাত দিয়েছে এবং শিশু সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
জানা যায়, সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু প্রতিদিনের মতো শনিবার বিকেলে স্থানীয় মসজিদে আরবি শিক্ষা নিতে যায়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও শিশুটি বাড়ি না ফেরায় তার মা উদ্বিগ্ন হয়ে খুঁজতে বের হন। মসজিদে গিয়ে তিনি এমন একটি দৃশ্যের সম্মুখীন হন, যা যেকোনো অভিভাবকের জন্য অকল্পনীয়।
পরিবার ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, ইমাম মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামের কাছে ওই শিশুসহ আরও দুই ছেলেশিশু আরবি শিখত। শনিবার বিকেলে আরবি শিক্ষার সময় শিশুটির মা মসজিদে গিয়ে ইমামকে শিশুটির ওপর নির্যাতন করতে দেখেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ইমামকে আটক করেন। স্থানীয়রা তাকে মসজিদের ভেতর তালাবদ্ধ করে পুলিশে খবর দেন। পরে জুতার মালা পরিয়ে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
আহত শিশুটিকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানোর পরামর্শ দেন।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর আহমেদ জানান, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা এ বিষয়ে মামলা দায়ের করেছেন এবং গ্রেফতার শাহিনুর ইসলামকে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হবে।
এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারকে নয়, গোটা সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের প্রতি মানুষের যে গভীর বিশ্বাস রয়েছে, এ ধরনের অভিযোগ সেই আস্থায় ফাটল ধরায়। শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের আচরণে যেকোনো পরিবর্তনে সচেতন থাকা, তাদের সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগ বজায় রাখা এবং শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।