ঢাকা ১১:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
বাংলাদেশে ব্রাজিল ফুটবল দলের সফর, যা বললেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ ঋণের চাপে ব্যবসায়ীর মৃত্যু, আমবাগান থেকে মরদেহ উদ্ধার জিমে যাওয়ার পর ব্রণ বাড়ছে? ত্বকের যত্নে যা করবেন গোয়ালঘরে গোপন কক্ষে অভিযান, প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪ রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও যাবেন মির্জা ফখরুল ঝাড়ফুঁকের নামে কিশোরীকে যৌন নিপীড়ন, কবিরাজের ১০ বছরের কারাদণ্ড নুসরাত হত্যা মামলার রায়ে সন্তুষ্ট মা, পরিবারের নিরাপত্তা চাইলেন ১১ বছরের শিশুর সন্তানের সঙ্গে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের ডিএনএ মিল জামায়াত এমপি শাহজাহানের পিএসের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলা

কুষ্টিয়ায় বাবার দাফন শেষে বাড়ি ফিরেই মেয়ের মৃত্যুর খবর পেলেন তুজাম

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মানিকদিয়ার কবরস্থান, যেখানে পাশাপাশি সমাহিত হন দাদা-নাতনি

বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবার জানাজা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন করে কবরস্থান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তুজাম উদ্দিন। ঠিক তখনই মুঠোফোনে তিনি জানতে পারেন নিজের ২০ বছর বয়সী মেয়ে মুন্নির মৃত্যুর খবর। মাত্র ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে বাবা ও মেয়েকে হারিয়ে এখন দিশেহারা তুজামের পরিবার। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পূর্বপাড়া গ্রাম।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। একই দিনে একই কবরস্থানে দাদা ও নাতনিকে চিরনিদ্রায় শায়িত হতে দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন এলাকাবাসী। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর সদর ইউনিয়নের উপজেলা পরিষদ-সংলগ্ন পূর্বপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ফুলবাস আলী (৭৪) বার্ধক্যজনিত কারণে শুক্রবার বিকেলে মারা যান। শনিবার সকাল ১০টায় মানিকদিয়ার কবরস্থানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাসের উপস্থিতিতে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

কিন্তু শোকের রেশ কাটতে না কাটতেই পরিবারটি দ্বিতীয় আঘাতের মুখোমুখি হয়। দাদার প্রিয় নাতনি মুন্নি খাতুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। বিয়ের আগ পর্যন্ত দাদার সব দেখাশোনা করতেন মুন্নিই। শুক্রবার গভীর রাতে দাদাকে হারিয়ে মরদেহের পাশে বসে অনবরত কান্নাকাটি করছিলেন তিনি। এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে তাকে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে শনিবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহতের স্বজন সাইদুল ইসলাম বলেন, “চাচা ফুলবাস আলীর দাফন শেষে বাড়ি ফিরতেই ভাতিজি মুন্নির মৃত্যুর খবর পেলাম। এমন শোকের ভার যেন কোনো পরিবারকে বইতে না হয়।”

মুন্নির বাবা তুজাম উদ্দিন জানান, প্রায় এক বছর আগে দৌলতপুর থানাপাড়া গ্রামের মোস্তাকের সঙ্গে মুন্নির বিয়ে হয়েছিল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন এবং সম্প্রতি টাইফয়েডেও আক্রান্ত হন। শোকের আঘাতে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। একই দিন শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ফুলবাস আলীর কবরের পাশেই নাতনি মুন্নি খাতুনকে সমাহিত করা হয়।

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, সকালে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শেষ বিদায় জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার নাতনির মৃত্যুসংবাদ পুরো গ্রামকে শোকাহত করেছে। একই দিনে দাদা-নাতনির এভাবে চলে যাওয়া এবং পাশাপাশি দাফনের এমন মর্মান্তিক দৃশ্য এর আগে তারা কখনো দেখেননি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশে ব্রাজিল ফুটবল দলের সফর, যা বললেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

কুষ্টিয়ায় বাবার দাফন শেষে বাড়ি ফিরেই মেয়ের মৃত্যুর খবর পেলেন তুজাম

প্রকাশের সময়ঃ ০৮:০০:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবার জানাজা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন করে কবরস্থান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তুজাম উদ্দিন। ঠিক তখনই মুঠোফোনে তিনি জানতে পারেন নিজের ২০ বছর বয়সী মেয়ে মুন্নির মৃত্যুর খবর। মাত্র ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে বাবা ও মেয়েকে হারিয়ে এখন দিশেহারা তুজামের পরিবার। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পূর্বপাড়া গ্রাম।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। একই দিনে একই কবরস্থানে দাদা ও নাতনিকে চিরনিদ্রায় শায়িত হতে দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন এলাকাবাসী। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর সদর ইউনিয়নের উপজেলা পরিষদ-সংলগ্ন পূর্বপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ফুলবাস আলী (৭৪) বার্ধক্যজনিত কারণে শুক্রবার বিকেলে মারা যান। শনিবার সকাল ১০টায় মানিকদিয়ার কবরস্থানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাসের উপস্থিতিতে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

কিন্তু শোকের রেশ কাটতে না কাটতেই পরিবারটি দ্বিতীয় আঘাতের মুখোমুখি হয়। দাদার প্রিয় নাতনি মুন্নি খাতুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। বিয়ের আগ পর্যন্ত দাদার সব দেখাশোনা করতেন মুন্নিই। শুক্রবার গভীর রাতে দাদাকে হারিয়ে মরদেহের পাশে বসে অনবরত কান্নাকাটি করছিলেন তিনি। এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে তাকে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে শনিবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহতের স্বজন সাইদুল ইসলাম বলেন, “চাচা ফুলবাস আলীর দাফন শেষে বাড়ি ফিরতেই ভাতিজি মুন্নির মৃত্যুর খবর পেলাম। এমন শোকের ভার যেন কোনো পরিবারকে বইতে না হয়।”

মুন্নির বাবা তুজাম উদ্দিন জানান, প্রায় এক বছর আগে দৌলতপুর থানাপাড়া গ্রামের মোস্তাকের সঙ্গে মুন্নির বিয়ে হয়েছিল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন এবং সম্প্রতি টাইফয়েডেও আক্রান্ত হন। শোকের আঘাতে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। একই দিন শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ফুলবাস আলীর কবরের পাশেই নাতনি মুন্নি খাতুনকে সমাহিত করা হয়।

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, সকালে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শেষ বিদায় জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার নাতনির মৃত্যুসংবাদ পুরো গ্রামকে শোকাহত করেছে। একই দিনে দাদা-নাতনির এভাবে চলে যাওয়া এবং পাশাপাশি দাফনের এমন মর্মান্তিক দৃশ্য এর আগে তারা কখনো দেখেননি।