
নাটোরের লালপুরে গোয়ালঘরের ভেতরে তৈরি করা একটি গোপন কক্ষে অভিযান চালিয়ে চার যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই কক্ষে বসে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমোর মাধ্যমে প্রবাসীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হতো বলে পুলিশের অভিযোগ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ৩টার দিকে উপজেলার মহারাজপুর মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় প্রতারণায় ব্যবহৃত পাঁচটি স্মার্টফোন ও নগদ ৩১ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মহারাজপুর মধ্যপাড়ার বাবুল আহমেদ (২৮), ওমর ফারুক (১৯), সাব্বির হোসেন ওরফে শান্ত (২২) এবং মাহফুজ হোসেন (২১)।
পুলিশের ভাষ্য, মহারাজপুর এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক প্রতারণার একাধিক সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন কৌশলে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। পরে নানা কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে লালপুর থানা পুলিশের একটি দল মহারাজপুর মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সাগর আহমেদের টিনশেড ভবনের গোয়ালঘরের ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি একটি কক্ষের সন্ধান পাওয়া যায়।
কক্ষটিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ছিল। দরজা বন্ধ করে সেখানে চার যুবককে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কথিত প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
অভিযান শেষে পুলিশ পাঁচটি স্মার্টফোন এবং নগদ ৩১ হাজার টাকা জব্দ করে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
ওসি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক এসব চক্রের কারণে দেশের বাইরে থাকা অনেক মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সাজেদুর রহমান, নাটোর 























