
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ঋণের চাপ ও ব্যবসায়িক লোকসানের কারণে হারুন অর রশিদ খালেক (৩৮) নামে এক ব্যবসায়ীর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার গভীর রাতে পান্টি ইউনিয়নের বিরিকয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহত খালেক বিরিকয়া গ্রামের সদর উদ্দিনের ছেলে।
পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, খালেক ধান, পাট, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। কয়েক বছর ধরে ব্যবসায় লোকসান হচ্ছিল। চলতি বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকার পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি আরও আর্থিক সংকটে পড়েন। এর পাশাপাশি ব্যাংক, এনজিও ও স্বজনদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের চাপও বাড়তে থাকে।
স্বজনদের দাবি, সব মিলিয়ে খালেক কয়েক কোটি টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। এ নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুশ্চিন্তায় ছিলেন।
নিহতের ছোট ভাই আব্দুল মালেক জানান, সোমবার রাত ১টার দিকে খালেক তাঁকে ফোন করে পরিবারের সদস্যদের দেখভালের কথা বলেন। পরে তাঁর অবস্থান জানতে চাইলে স্থানীয় একটি আমবাগানে থাকার কথা জানান। এরপর পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে খালেককে দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
খালেকের বাবা সদর উদ্দিন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ছেলের ব্যবসা ভালো যাচ্ছিল না। ঋণের চাপও ছিল। তাঁর ধারণা, আর্থিক সংকটের কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে।
নিহতের স্ত্রী মালা খাতুন বলেন, সংসারে তেমন কোনো সমস্যা বা ঝগড়া ছিল না। তবে অনেক টাকা ঋণ থাকায় খালেক সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতেন। এ বছর পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় তাঁর উদ্বেগ আরও বেড়েছিল।
খালেকের এক বন্ধু জানান, তিনি নিজেও খালেকের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ করেছিলেন। তাঁর ধারণা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ মিলিয়ে খালেকের দেনার পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা হতে পারে।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ঋণের চাপের বিষয়টি সামনে এসেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
অধিকার ডেস্কঃ 























