ঢাকা ০২:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
মহেশখালীর সংরক্ষিত বনে সড়ক নির্মাণে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা নদী দূষণ রোধে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সব হাসপাতালের জন্য পরিপত্র জারির নির্দেশ- হাইকোর্ট হাফিজুরের জামিন স্থগিত, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ প্রেমিকার বিয়ের দিন নিভে গেল এক তরুণের স্বপ্ন- ফেসবুকে শেষ বিদায় গণহত্যার ঘটনায় আ.লীগ প্রত্যক্ষ, ভারত পরোক্ষভাবে দায়ী-রাশেদ প্রধান ‘জুলাই শহীদদের জন্য কী করেছেন?’-ইশরাকের প্রশ্নের জবাবে যা বললেন সারজিস আলম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা সাংবাদিকের ওপর বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীর হামলা- প্রতিবাদে মানববন্ধন রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কা, পাওয়ার টিলারচালক যুবকের প্রাণহানি

আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

জাতীয় সংসদে আজ (বৃহস্পতিবার) উপস্থাপন করা হচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট হিসেবে এটি সংসদে তুলে ধরবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সরকারের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য সামনে রেখে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। সেই লক্ষ্যের ধারাবাহিকতায় আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হতে পারে।

প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। যদিও গত কয়েক বছর ধরে প্রবৃদ্ধির হার ৪ শতাংশের আশপাশে রয়েছে। এদিকে বিশ্বব্যাংক আগামী অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।

আগামী অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি ৯১ হাজার কোটি টাকা আসবে অন্যান্য উৎস থেকে।

তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, পুরো অর্থবছর শেষে রাজস্ব আদায় ৫ লাখ কোটি টাকার কিছু বেশি হতে পারে। ফলে নতুন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত বাজেটের ব্যয় নির্বাহে রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় বাজেট বাস্তবায়নে অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে বাজেটে নীতিগত ঘোষণা থাকতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা সুপারিশকৃত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ সুবিধা পেতে পারেন। অবশিষ্ট অংশ ধাপে ধাপে পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও বিবেচনায় রাখতে হবে।

আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হতে পারে, যা দেশের বাজেট ইতিহাসে অন্যতম বড় সংরক্ষিত বরাদ্দ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় থোক বরাদ্দের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন, ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনার প্রয়োজন হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মহেশখালীর সংরক্ষিত বনে সড়ক নির্মাণে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট

প্রকাশের সময়ঃ ০২:৪৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

জাতীয় সংসদে আজ (বৃহস্পতিবার) উপস্থাপন করা হচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট হিসেবে এটি সংসদে তুলে ধরবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সরকারের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য সামনে রেখে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। সেই লক্ষ্যের ধারাবাহিকতায় আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হতে পারে।

প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। যদিও গত কয়েক বছর ধরে প্রবৃদ্ধির হার ৪ শতাংশের আশপাশে রয়েছে। এদিকে বিশ্বব্যাংক আগামী অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।

আগামী অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি ৯১ হাজার কোটি টাকা আসবে অন্যান্য উৎস থেকে।

তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, পুরো অর্থবছর শেষে রাজস্ব আদায় ৫ লাখ কোটি টাকার কিছু বেশি হতে পারে। ফলে নতুন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত বাজেটের ব্যয় নির্বাহে রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় বাজেট বাস্তবায়নে অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে বাজেটে নীতিগত ঘোষণা থাকতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা সুপারিশকৃত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ সুবিধা পেতে পারেন। অবশিষ্ট অংশ ধাপে ধাপে পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও বিবেচনায় রাখতে হবে।

আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হতে পারে, যা দেশের বাজেট ইতিহাসে অন্যতম বড় সংরক্ষিত বরাদ্দ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় থোক বরাদ্দের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন, ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনার প্রয়োজন হবে।