ঢাকা ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

বেবি ক্রিম কি বড়দের ত্বকের জন্য ভালো? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ জেনে নিন

বেবি ক্রিম ও অন্যান্য বেবি কেয়ার পণ্য সবসময় প্রাপ্তবয়স্কদের ত্বকের জন্য উপযোগী নাও হতে পারে।

কোমল ও মসৃণ ত্বকের আশায় অনেক প্রাপ্তবয়স্কই বেবি লোশন, বেবি ক্রিম, বেবি অয়েল কিংবা বেবি পাউডার ব্যবহার করে থাকেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রায়ই দেখা যায়, শিশুর জন্য তৈরি এসব পণ্য বড়দের ত্বক ও চুলের যত্নে ব্যবহারের নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব বেবি পণ্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সমানভাবে উপযোগী নয়।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের ত্বকের গঠন এবং প্রয়োজনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। শিশুর ত্বক তুলনামূলক বেশি সংবেদনশীল হওয়ায় তাদের জন্য তৈরি পণ্য মূলত ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়।

অন্যদিকে প্রাপ্তবয়স্কদের ত্বকে ব্রণ, অতিরিক্ত তেল, শুষ্কতা, বলিরেখা, রোদে পোড়া দাগসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব সমস্যার সমাধানে সাধারণত বিশেষ উপাদানসমৃদ্ধ স্কিনকেয়ার পণ্যের প্রয়োজন হয়, যা অধিকাংশ বেবি পণ্যে থাকে না।

বিশেষজ্ঞরা জানান, সংবেদনশীল ত্বকের অধিকারী কিছু প্রাপ্তবয়স্ক নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বেবি পণ্য ব্যবহার করতে পারেন। তবে এগুলো কখনোই নিয়মিত স্কিনকেয়ার রুটিনের পূর্ণাঙ্গ বিকল্প নয়। কারণ এসব পণ্যে বয়সের ছাপ কমানো, ব্রণ নিয়ন্ত্রণ কিংবা সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষার মতো কার্যকর উপাদান সাধারণত অনুপস্থিত থাকে।

যেসব ভুল অনেকেই করেন

অনেকেই ডায়াপার র‍্যাশ ক্রিমকে ময়েশ্চারাইজার, বেবি পাউডারকে ড্রাই শ্যাম্পু, বেবি শ্যাম্পুকে ফেসওয়াশ অথবা বেবি অয়েলকে বডি ময়েশ্চারাইজারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জরুরি পরিস্থিতিতে সীমিতভাবে ব্যবহার করা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের অভ্যাস ত্বকের জন্য উপকারী নাও হতে পারে।

ডায়াপার র‍্যাশ ক্রিমে থাকা জিংক অক্সাইড ত্বকের জ্বালা কমাতে সহায়ক হলেও এর ঘন গঠন মুখের লোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে, যা ব্রণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। একইভাবে বেবি পাউডার কিছু সময়ের জন্য মাথার ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করলেও নিয়মিত ব্যবহার করলে তা মাথার ত্বকে জমে অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

এ ছাড়া বেবি শ্যাম্পু সাধারণত খুবই মৃদু হওয়ায় এটি সবসময় মেকআপ, সানস্ক্রিন বা অতিরিক্ত তেল সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করতে সক্ষম হয় না।

কখন ব্যবহার করা যেতে পারে?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ত্বক অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে গেলে, একজিমার মতো সমস্যা থাকলে বা কোনো চিকিৎসার পর চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু সুগন্ধিবিহীন বেবি পণ্য ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এটিকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখা উচিত নয়।

কী করবেন?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন বুঝে স্কিনকেয়ার পণ্য নির্বাচন করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। শুধু ‘বেবি’, ‘জেন্টল’ বা ‘হাইপোঅ্যালার্জেনিক’ লেখা দেখে কোনো পণ্য বেছে নেওয়া উচিত নয়। ত্বকের সমস্যার ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত পণ্য ব্যবহার করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

তাদের মতে, শিশুর জন্য তৈরি পণ্য কোমল হলেও তা বড়দের সব ধরনের ত্বক সমস্যার সমাধান নয়। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি মানসম্মত স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহার করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

বেবি ক্রিম কি বড়দের ত্বকের জন্য ভালো? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ জেনে নিন

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:৫৯:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

কোমল ও মসৃণ ত্বকের আশায় অনেক প্রাপ্তবয়স্কই বেবি লোশন, বেবি ক্রিম, বেবি অয়েল কিংবা বেবি পাউডার ব্যবহার করে থাকেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রায়ই দেখা যায়, শিশুর জন্য তৈরি এসব পণ্য বড়দের ত্বক ও চুলের যত্নে ব্যবহারের নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব বেবি পণ্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সমানভাবে উপযোগী নয়।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের ত্বকের গঠন এবং প্রয়োজনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। শিশুর ত্বক তুলনামূলক বেশি সংবেদনশীল হওয়ায় তাদের জন্য তৈরি পণ্য মূলত ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়।

অন্যদিকে প্রাপ্তবয়স্কদের ত্বকে ব্রণ, অতিরিক্ত তেল, শুষ্কতা, বলিরেখা, রোদে পোড়া দাগসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব সমস্যার সমাধানে সাধারণত বিশেষ উপাদানসমৃদ্ধ স্কিনকেয়ার পণ্যের প্রয়োজন হয়, যা অধিকাংশ বেবি পণ্যে থাকে না।

বিশেষজ্ঞরা জানান, সংবেদনশীল ত্বকের অধিকারী কিছু প্রাপ্তবয়স্ক নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বেবি পণ্য ব্যবহার করতে পারেন। তবে এগুলো কখনোই নিয়মিত স্কিনকেয়ার রুটিনের পূর্ণাঙ্গ বিকল্প নয়। কারণ এসব পণ্যে বয়সের ছাপ কমানো, ব্রণ নিয়ন্ত্রণ কিংবা সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষার মতো কার্যকর উপাদান সাধারণত অনুপস্থিত থাকে।

যেসব ভুল অনেকেই করেন

অনেকেই ডায়াপার র‍্যাশ ক্রিমকে ময়েশ্চারাইজার, বেবি পাউডারকে ড্রাই শ্যাম্পু, বেবি শ্যাম্পুকে ফেসওয়াশ অথবা বেবি অয়েলকে বডি ময়েশ্চারাইজারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জরুরি পরিস্থিতিতে সীমিতভাবে ব্যবহার করা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের অভ্যাস ত্বকের জন্য উপকারী নাও হতে পারে।

ডায়াপার র‍্যাশ ক্রিমে থাকা জিংক অক্সাইড ত্বকের জ্বালা কমাতে সহায়ক হলেও এর ঘন গঠন মুখের লোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে, যা ব্রণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। একইভাবে বেবি পাউডার কিছু সময়ের জন্য মাথার ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করলেও নিয়মিত ব্যবহার করলে তা মাথার ত্বকে জমে অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

এ ছাড়া বেবি শ্যাম্পু সাধারণত খুবই মৃদু হওয়ায় এটি সবসময় মেকআপ, সানস্ক্রিন বা অতিরিক্ত তেল সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করতে সক্ষম হয় না।

কখন ব্যবহার করা যেতে পারে?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ত্বক অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে গেলে, একজিমার মতো সমস্যা থাকলে বা কোনো চিকিৎসার পর চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু সুগন্ধিবিহীন বেবি পণ্য ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এটিকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখা উচিত নয়।

কী করবেন?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন বুঝে স্কিনকেয়ার পণ্য নির্বাচন করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। শুধু ‘বেবি’, ‘জেন্টল’ বা ‘হাইপোঅ্যালার্জেনিক’ লেখা দেখে কোনো পণ্য বেছে নেওয়া উচিত নয়। ত্বকের সমস্যার ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত পণ্য ব্যবহার করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

তাদের মতে, শিশুর জন্য তৈরি পণ্য কোমল হলেও তা বড়দের সব ধরনের ত্বক সমস্যার সমাধান নয়। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি মানসম্মত স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহার করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।