ঢাকা ০৯:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
বাংলাদেশে ব্রাজিল ফুটবল দলের সফর, যা বললেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ ঋণের চাপে ব্যবসায়ীর মৃত্যু, আমবাগান থেকে মরদেহ উদ্ধার জিমে যাওয়ার পর ব্রণ বাড়ছে? ত্বকের যত্নে যা করবেন গোয়ালঘরে গোপন কক্ষে অভিযান, প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪ রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও যাবেন মির্জা ফখরুল ঝাড়ফুঁকের নামে কিশোরীকে যৌন নিপীড়ন, কবিরাজের ১০ বছরের কারাদণ্ড নুসরাত হত্যা মামলার রায়ে সন্তুষ্ট মা, পরিবারের নিরাপত্তা চাইলেন ১১ বছরের শিশুর সন্তানের সঙ্গে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের ডিএনএ মিল জামায়াত এমপি শাহজাহানের পিএসের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলা

ঋণের চাপে ব্যবসায়ীর মৃত্যু, আমবাগান থেকে মরদেহ উদ্ধার

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৬:২৯:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২৩৯ Time View

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বিরিকয়া গ্রামে আমবাগান থেকে ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদ খালেকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ঋণের চাপ ও ব্যবসায়িক লোকসানের কারণে হারুন অর রশিদ খালেক (৩৮) নামে এক ব্যবসায়ীর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার গভীর রাতে পান্টি ইউনিয়নের বিরিকয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহত খালেক বিরিকয়া গ্রামের সদর উদ্দিনের ছেলে।

পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, খালেক ধান, পাট, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। কয়েক বছর ধরে ব্যবসায় লোকসান হচ্ছিল। চলতি বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকার পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি আরও আর্থিক সংকটে পড়েন। এর পাশাপাশি ব্যাংক, এনজিও ও স্বজনদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের চাপও বাড়তে থাকে।

স্বজনদের দাবি, সব মিলিয়ে খালেক কয়েক কোটি টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। এ নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুশ্চিন্তায় ছিলেন।

নিহতের ছোট ভাই আব্দুল মালেক জানান, সোমবার রাত ১টার দিকে খালেক তাঁকে ফোন করে পরিবারের সদস্যদের দেখভালের কথা বলেন। পরে তাঁর অবস্থান জানতে চাইলে স্থানীয় একটি আমবাগানে থাকার কথা জানান। এরপর পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে খালেককে দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

খালেকের বাবা সদর উদ্দিন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ছেলের ব্যবসা ভালো যাচ্ছিল না। ঋণের চাপও ছিল। তাঁর ধারণা, আর্থিক সংকটের কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে।

নিহতের স্ত্রী মালা খাতুন বলেন, সংসারে তেমন কোনো সমস্যা বা ঝগড়া ছিল না। তবে অনেক টাকা ঋণ থাকায় খালেক সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতেন। এ বছর পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় তাঁর উদ্বেগ আরও বেড়েছিল।

খালেকের এক বন্ধু জানান, তিনি নিজেও খালেকের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ করেছিলেন। তাঁর ধারণা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ মিলিয়ে খালেকের দেনার পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা হতে পারে।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ঋণের চাপের বিষয়টি সামনে এসেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশে ব্রাজিল ফুটবল দলের সফর, যা বললেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ঋণের চাপে ব্যবসায়ীর মৃত্যু, আমবাগান থেকে মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশের সময়ঃ ০৬:২৯:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ঋণের চাপ ও ব্যবসায়িক লোকসানের কারণে হারুন অর রশিদ খালেক (৩৮) নামে এক ব্যবসায়ীর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার গভীর রাতে পান্টি ইউনিয়নের বিরিকয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহত খালেক বিরিকয়া গ্রামের সদর উদ্দিনের ছেলে।

পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, খালেক ধান, পাট, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। কয়েক বছর ধরে ব্যবসায় লোকসান হচ্ছিল। চলতি বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকার পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি আরও আর্থিক সংকটে পড়েন। এর পাশাপাশি ব্যাংক, এনজিও ও স্বজনদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের চাপও বাড়তে থাকে।

স্বজনদের দাবি, সব মিলিয়ে খালেক কয়েক কোটি টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। এ নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুশ্চিন্তায় ছিলেন।

নিহতের ছোট ভাই আব্দুল মালেক জানান, সোমবার রাত ১টার দিকে খালেক তাঁকে ফোন করে পরিবারের সদস্যদের দেখভালের কথা বলেন। পরে তাঁর অবস্থান জানতে চাইলে স্থানীয় একটি আমবাগানে থাকার কথা জানান। এরপর পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে খালেককে দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

খালেকের বাবা সদর উদ্দিন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ছেলের ব্যবসা ভালো যাচ্ছিল না। ঋণের চাপও ছিল। তাঁর ধারণা, আর্থিক সংকটের কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে।

নিহতের স্ত্রী মালা খাতুন বলেন, সংসারে তেমন কোনো সমস্যা বা ঝগড়া ছিল না। তবে অনেক টাকা ঋণ থাকায় খালেক সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতেন। এ বছর পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় তাঁর উদ্বেগ আরও বেড়েছিল।

খালেকের এক বন্ধু জানান, তিনি নিজেও খালেকের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ করেছিলেন। তাঁর ধারণা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ মিলিয়ে খালেকের দেনার পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা হতে পারে।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ঋণের চাপের বিষয়টি সামনে এসেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।