ঢাকা ০৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
রাজশাহীতে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ, প্রতিদিন আটকে যাচ্ছে ৩৬ হাজার বস্তা আলু এবার জাতীয় মঞ্চে নবাবগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঐতিহ্যের দুয়ারে তালা! জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি ময়মনসিংহে একদিনে দুই ট্রেন লাইনচ্যুত ডেঙ্গুমুক্ত রাজশাহী গড়তে রাসিকের দুই সপ্তাহের বিশেষ অভিযান শুরু রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায়- ব্যাংক কর্মকর্তাসহ নিহত ২, আহত ৩ ভোলাহাটে  জমি নিয়ে বিরোধ – বিবাদী পক্ষ কে আম পাড়া থেকে বিরত থাকার আদেশ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা খুন? যুবদলের ২১নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা ওষুধ দেওয়ার কথা বলে রোগীর মাকে লিফটে নিয়ে ধর্ষণ নয়নী হত্যাকাণ্ডে ৭ দিন পর মামলা, নোমান গ্রেপ্তার
ময়মনসিংহ

ঐতিহ্যের দুয়ারে তালা! জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি

শতবর্ষী গৌরিপুর লজ বর্তমানে জনসাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঐতিহ্য সংরক্ষণকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা।

ময়মনসিংহের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্থাপত্য ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন শতবর্ষী গৌরিপুর লজ বর্তমানে জনসাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঐতিহ্য সংরক্ষণকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা। ঐতিহাসিক এই ভবনটি আবাসিক কাজে ব্যবহারের পরিবর্তে দর্শনার্থী, গবেষক ও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি উঠেছে।

সম্প্রতি পুরাকীর্তি সংরক্ষণ কমিটি, ময়মনসিংহ অঞ্চল সোনালী ব্যাংক পিএলসির বিভাগীয় কার্যালয়ের জেনারেল ম্যানেজারের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে ভবনটির আবাসিক ব্যবহার বন্ধ এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।

ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, গৌরিপুরের প্রখ্যাত জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী নির্মিত গৌরিপুর লজ ময়মনসিংহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য নিদর্শন। শহরের শশীলজ ও আলেকজান্দ্রা ক্যাসেলের পাশাপাশি এটি ‘এ’ ক্যাটাগরির ঐতিহাসিক ভবন হিসেবে পরিচিত। নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে এটি দীর্ঘদিন ধরেই গবেষক ও ইতিহাসপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।

বর্তমানে ভবনটি ও এর ক্যাম্পাস সোনালী ব্যাংক পিএলসি ব্যবহার করছে। অতীতে এখানে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হলেও পরবর্তীতে নতুন বহুতল ভবনে সেই কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে ঐতিহাসিক মূল ভবনটি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আবাসিক ডরমেটরি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

পুরাকীর্তি সংরক্ষণ কমিটির দাবি, আবাসিক ব্যবহারের কারণে ভবনের ভেতরে বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যা এর মূল স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহাসিক চরিত্রের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণ দেখিয়ে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশও সীমিত করা হয়েছে।

কমিটির সদস্য সচিব ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “গৌরিপুর লজ শুধু একটি ভবন নয়, এটি ময়মনসিংহের ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী। এমন একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা জনসাধারণের জন্য কার্যত বন্ধ থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা চাই এর ঐতিহাসিক চরিত্র অক্ষুণ্ন রেখে ভবনটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হোক।”

স্মারকলিপিতে দুটি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। প্রথমত, ভবনটির ভেতরে চলমান সব ধরনের আবাসিক কার্যক্রম বন্ধ করে মূল কাঠামো ও ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ। দ্বিতীয়ত, দেশি-বিদেশি পর্যটক, গবেষক ও সাধারণ মানুষ যাতে সহজে ভবনটি পরিদর্শন করতে পারেন, সেই সুযোগ নিশ্চিত করা।

ঐতিহ্য সংরক্ষণবিদরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পুরাকীর্তি পর্যটন ও গবেষণার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা এখনও যথাযথ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অভাবে মানুষের দৃষ্টির আড়ালে রয়ে গেছে। গৌরিপুর লজ তার অন্যতম উদাহরণ।

সচেতন নাগরিকদের মতে, ময়মনসিংহের ইতিহাস ও পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও সমৃদ্ধ করতে গৌরিপুর লজের মতো ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর সংরক্ষণ এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্তকরণ এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে সোনালী ব্যাংক কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ইতিহাসপ্রেমী ও সংস্কৃতিমনা মহল।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহীতে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ, প্রতিদিন আটকে যাচ্ছে ৩৬ হাজার বস্তা আলু

ময়মনসিংহ

ঐতিহ্যের দুয়ারে তালা! জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি

প্রকাশের সময়ঃ ০৫:৩৬:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

ময়মনসিংহের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্থাপত্য ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন শতবর্ষী গৌরিপুর লজ বর্তমানে জনসাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঐতিহ্য সংরক্ষণকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা। ঐতিহাসিক এই ভবনটি আবাসিক কাজে ব্যবহারের পরিবর্তে দর্শনার্থী, গবেষক ও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি উঠেছে।

সম্প্রতি পুরাকীর্তি সংরক্ষণ কমিটি, ময়মনসিংহ অঞ্চল সোনালী ব্যাংক পিএলসির বিভাগীয় কার্যালয়ের জেনারেল ম্যানেজারের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে ভবনটির আবাসিক ব্যবহার বন্ধ এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।

ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, গৌরিপুরের প্রখ্যাত জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী নির্মিত গৌরিপুর লজ ময়মনসিংহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য নিদর্শন। শহরের শশীলজ ও আলেকজান্দ্রা ক্যাসেলের পাশাপাশি এটি ‘এ’ ক্যাটাগরির ঐতিহাসিক ভবন হিসেবে পরিচিত। নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে এটি দীর্ঘদিন ধরেই গবেষক ও ইতিহাসপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।

বর্তমানে ভবনটি ও এর ক্যাম্পাস সোনালী ব্যাংক পিএলসি ব্যবহার করছে। অতীতে এখানে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হলেও পরবর্তীতে নতুন বহুতল ভবনে সেই কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে ঐতিহাসিক মূল ভবনটি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আবাসিক ডরমেটরি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

পুরাকীর্তি সংরক্ষণ কমিটির দাবি, আবাসিক ব্যবহারের কারণে ভবনের ভেতরে বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যা এর মূল স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহাসিক চরিত্রের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণ দেখিয়ে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশও সীমিত করা হয়েছে।

কমিটির সদস্য সচিব ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “গৌরিপুর লজ শুধু একটি ভবন নয়, এটি ময়মনসিংহের ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী। এমন একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা জনসাধারণের জন্য কার্যত বন্ধ থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা চাই এর ঐতিহাসিক চরিত্র অক্ষুণ্ন রেখে ভবনটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হোক।”

স্মারকলিপিতে দুটি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। প্রথমত, ভবনটির ভেতরে চলমান সব ধরনের আবাসিক কার্যক্রম বন্ধ করে মূল কাঠামো ও ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ। দ্বিতীয়ত, দেশি-বিদেশি পর্যটক, গবেষক ও সাধারণ মানুষ যাতে সহজে ভবনটি পরিদর্শন করতে পারেন, সেই সুযোগ নিশ্চিত করা।

ঐতিহ্য সংরক্ষণবিদরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পুরাকীর্তি পর্যটন ও গবেষণার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা এখনও যথাযথ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অভাবে মানুষের দৃষ্টির আড়ালে রয়ে গেছে। গৌরিপুর লজ তার অন্যতম উদাহরণ।

সচেতন নাগরিকদের মতে, ময়মনসিংহের ইতিহাস ও পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও সমৃদ্ধ করতে গৌরিপুর লজের মতো ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর সংরক্ষণ এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্তকরণ এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে সোনালী ব্যাংক কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ইতিহাসপ্রেমী ও সংস্কৃতিমনা মহল।