ঢাকা ১১:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে একাত্তর টিভির ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন “শাওন হত্যার বিচার ও শ্রমিক অধিকার বাস্তবায়নের দাবিতে রাজশাহীতে বিক্ষোভ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল নবাবগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হামের প্রকোপ অব্যাহত: জানুয়ারি থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ভর্তি ১,৫৫২ রোগী, মৃত্যু ৭ পাথরের আড়ালে লুকানো ৩২০ পিস ভারতীয় ট্রাকের যন্ত্রাংশ উদ্ধার, চালক আটক চাঁপাইনবাবগঞ্জে একাধিক মামলার আসামি নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও খাদ্য নিরাপত্তায় এগিয়ে ময়মনসিংহ ত্রিশালে মসজিদে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ: ইমাম গ্রেফতার নতুন ছাত্রদল কমিটি প্রত্যাখ্যান: বিক্ষোভ মিছিল ও ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষেধের দাবি “জামিনের আনন্দে কারা ফটকে জনসমুদ্র, সেই ভিড়েই থেমে গেল মিঠুর হৃদস্পন্দন”

দেশে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত হাজারের বেশি

দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন ২০২৬) সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৯ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম বুলেটিনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
চলতি বছরের শুরু থেকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও গত ১৫ মার্চ থেকে নিয়মিতভাবে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই থেকে এ পর্যন্ত হামে নিশ্চিতভাবে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ জনের এবং উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৭৩ জন। সব মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৬৬ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৪ হাজার ১৮৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭০ হাজার ৫০৩ জন।
এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপগুলো প্রয়োজনের তুলনায় দেরিতে নেওয়া হয়েছে। হামের চিকিৎসায় সরকারিভাবে পূর্ণাঙ্গ ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্রটোকল এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে উপজেলা হাসপাতাল থেকে শুরু করে বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত চিকিৎসকরা সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অভাবে একটি সমন্বিত পদ্ধতিতে চিকিৎসা দিতে পারছেন না। এর পাশাপাশি শিশুমৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণে কোনো ডেথ রিভিউ বা ক্লিনিক্যাল অডিটও পরিচালিত হচ্ছে না, যার ফলে একই ধরনের ভুল পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, শুধু আইসিইউ শয্যা বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না। দক্ষ জনবল ছাড়া আইসিইউ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। বিদ্যমান আইসিইউ ব্যবস্থাকে শিশু উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে এবং সহজলভ্য অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুকে আইসিইউ পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই সুচিকিৎসা দেওয়াই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। উপজেলা পর্যায়ে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, অক্সিজেন থেরাপি এবং কমিউনিটি পর্যায়ে কার্যকর আইসোলেশন নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে একাত্তর টিভির ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

দেশে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত হাজারের বেশি

প্রকাশের সময়ঃ ১১:৪০:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন ২০২৬) সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৯ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম বুলেটিনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
চলতি বছরের শুরু থেকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও গত ১৫ মার্চ থেকে নিয়মিতভাবে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই থেকে এ পর্যন্ত হামে নিশ্চিতভাবে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ জনের এবং উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৭৩ জন। সব মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৬৬ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৪ হাজার ১৮৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭০ হাজার ৫০৩ জন।
এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপগুলো প্রয়োজনের তুলনায় দেরিতে নেওয়া হয়েছে। হামের চিকিৎসায় সরকারিভাবে পূর্ণাঙ্গ ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্রটোকল এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে উপজেলা হাসপাতাল থেকে শুরু করে বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত চিকিৎসকরা সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অভাবে একটি সমন্বিত পদ্ধতিতে চিকিৎসা দিতে পারছেন না। এর পাশাপাশি শিশুমৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণে কোনো ডেথ রিভিউ বা ক্লিনিক্যাল অডিটও পরিচালিত হচ্ছে না, যার ফলে একই ধরনের ভুল পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, শুধু আইসিইউ শয্যা বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না। দক্ষ জনবল ছাড়া আইসিইউ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। বিদ্যমান আইসিইউ ব্যবস্থাকে শিশু উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে এবং সহজলভ্য অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুকে আইসিইউ পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই সুচিকিৎসা দেওয়াই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। উপজেলা পর্যায়ে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, অক্সিজেন থেরাপি এবং কমিউনিটি পর্যায়ে কার্যকর আইসোলেশন নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি।