ঢাকা ০৫:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায়- ব্যাংক কর্মকর্তাসহ নিহত ২, আহত ৩ ভোলাহাটে  জমি নিয়ে বিরোধ – বিবাদী পক্ষ কে আম পাড়া থেকে বিরত থাকার আদেশ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা খুন? যুবদলের ২১নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা ওষুধ দেওয়ার কথা বলে রোগীর মাকে লিফটে নিয়ে ধর্ষণ নয়নী হত্যাকাণ্ডে ৭ দিন পর মামলা, নোমান গ্রেপ্তার জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার বিভাগীয় পর্ব শুরু ‘নাড়ু’ নয়, কার্টুনভর্তি গাঁজা! কুরিয়ার সার্ভিসে ১৪ কেজি মাদক জব্দ পদ্মার চরে গোলাগুলি, স্পিডবোটে যুবকের লাশ হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাকিং চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার লালপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ৩ জুয়াড়ির জেল-জরিমানা

আজ শুরু হচ্ছে সংসদের বাজেট অধিবেশন

ফাইল ছবি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (বাজেট অধিবেশন) আজ রোববার বিকেল ৩টায় শুরু হচ্ছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশন দেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রথম জাতীয় বাজেট অধিবেশন।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করবেন। প্রস্তাবিত বাজেটের সম্ভাব্য আকার প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বাজেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি বৃদ্ধি, ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় এবং সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতির কারণে আগামী অর্থবছরে সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

গত অর্থবছরে অন্তর্বর্তী সরকার ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছিল। পরে সংশোধিত বাজেটে এর পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায়। সে তুলনায় নতুন বাজেটের আকার প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আদায়ে ধীরগতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতার মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

সরকার আগামী অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দিতে চায়। তবে বড় অঙ্কের বাজেট ঘাটতি অর্থ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির হিসাব ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ব্যবস্থা, সঞ্চয়পত্র, বৈদেশিক ঋণ এবং অনুদান থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ উৎসের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থায়ন নেওয়া হতে পারে।

আগামী অর্থবছরে খাদ্য, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি, যেমন—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক সহায়তা কর্মসূচি এবং বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ভাতা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত আরও বহু মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং, উদ্ভাবন, স্টার্টআপ, চলচ্চিত্র, সংগীত, ক্রীড়া এবং গ্রামীণ সংস্কৃতিভিত্তিক সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে নতুন তহবিল ও প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলের আংশিক বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের বিষয়টিও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এ খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকার আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি খাতে মূল্য সমন্বয়ের সম্ভাবনা এবং বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি এ লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকতে পারে।

আগামী ১১ জুন সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ, রাজস্ব নীতি, কর কাঠামো এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে। দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এবারের বাজেট অধিবেশনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায়- ব্যাংক কর্মকর্তাসহ নিহত ২, আহত ৩

আজ শুরু হচ্ছে সংসদের বাজেট অধিবেশন

প্রকাশের সময়ঃ ১২:৪২:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (বাজেট অধিবেশন) আজ রোববার বিকেল ৩টায় শুরু হচ্ছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশন দেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রথম জাতীয় বাজেট অধিবেশন।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করবেন। প্রস্তাবিত বাজেটের সম্ভাব্য আকার প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বাজেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি বৃদ্ধি, ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় এবং সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতির কারণে আগামী অর্থবছরে সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

গত অর্থবছরে অন্তর্বর্তী সরকার ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছিল। পরে সংশোধিত বাজেটে এর পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায়। সে তুলনায় নতুন বাজেটের আকার প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আদায়ে ধীরগতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতার মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

সরকার আগামী অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দিতে চায়। তবে বড় অঙ্কের বাজেট ঘাটতি অর্থ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির হিসাব ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ব্যবস্থা, সঞ্চয়পত্র, বৈদেশিক ঋণ এবং অনুদান থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ উৎসের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থায়ন নেওয়া হতে পারে।

আগামী অর্থবছরে খাদ্য, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি, যেমন—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক সহায়তা কর্মসূচি এবং বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ভাতা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত আরও বহু মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং, উদ্ভাবন, স্টার্টআপ, চলচ্চিত্র, সংগীত, ক্রীড়া এবং গ্রামীণ সংস্কৃতিভিত্তিক সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে নতুন তহবিল ও প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলের আংশিক বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের বিষয়টিও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এ খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকার আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি খাতে মূল্য সমন্বয়ের সম্ভাবনা এবং বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি এ লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকতে পারে।

আগামী ১১ জুন সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ, রাজস্ব নীতি, কর কাঠামো এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে। দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এবারের বাজেট অধিবেশনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।