ঢাকা ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

৩১ দফা বাস্তবায়নেই জুলাই আন্দোলনের সার্থকতা- অর্থমন্ত্রী

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০২:২৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২৩৭ Time View

রোববার বুয়েট-এ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণ অনুষ্ঠান ২০২৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা গেলেই জুলাই আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের প্রকৃত সার্থকতা অর্জিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দলের ঘোষিত ইশতেহার যেন সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেটিই তাদের মূল লক্ষ্য।

রোববার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণ অনুষ্ঠান ২০২৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাই আন্দোলনের সময়কার নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় হাজার হাজার নেতাকর্মী কঠিন সময় অতিক্রম করেছেন এবং তখন বাইরের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের কাছে তেমন কোনো তথ্য ছিল না। তবে শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার খবর দ্রুতই কারাগারে পৌঁছে যাওয়ায় ভেতরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানান তিনি। সে সময় জেল সুপারের অনুরোধে বন্দিদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের পর দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরে জনগণ ভোটাধিকার, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক সমতার ঘাটতি অনুভব করেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যথাযথ অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, জনগণের এসব প্রত্যাশা বিবেচনায় রেখেই বিএনপি তাদের ইশতেহার প্রণয়ন করেছে, যেখানে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। ৩১ দফা বাস্তবায়িত হলে জুলাইয়ের আত্মত্যাগ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের লক্ষ্য পূরণ হবে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি জানান, বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচিতে দুটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন’। এর মধ্যে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের মূল লক্ষ্য দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান।

অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পান এবং উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছায়, সেটিই এর মূল লক্ষ্য। শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র যথেষ্ট নয়, বরং অর্থনীতিতেও গণতান্ত্রিক চর্চা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সৃজনশীল অর্থনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ শিল্পী, কারুশিল্পী, খেলোয়াড় ও সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে দক্ষতা উন্নয়ন, ঋণ সুবিধা, ডিজাইনিং সহায়তা ও বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

স্পোর্টস ইকোনমি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে অর্থনীতির মূলধারায় সংযুক্ত করা গেলে দেশের মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার মান বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এসময় শীতলপাটি, মৃৎশিল্পসহ গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে আধুনিক বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় ব্যাংকিং খাত, শেয়ারবাজার ও সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংকট বিরাজ করছিল। তিনি মন্তব্য করেন, তারা শূন্য থেকে নয়, বরং একটি নেতিবাচক অবস্থান থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন।

এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর কাছে সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে, যা তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টি উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।

সবশেষে আমির খসরু বলেন, জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য নাগরিকদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং নারী, শিশু, শ্রমিক, প্রতিবন্ধীসহ সমাজের সব শ্রেণির মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা গেলেই জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ।

জনপ্রিয় সংবাদ

৩১ দফা বাস্তবায়নেই জুলাই আন্দোলনের সার্থকতা- অর্থমন্ত্রী

প্রকাশের সময়ঃ ০২:২৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা গেলেই জুলাই আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের প্রকৃত সার্থকতা অর্জিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দলের ঘোষিত ইশতেহার যেন সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেটিই তাদের মূল লক্ষ্য।

রোববার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণ অনুষ্ঠান ২০২৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাই আন্দোলনের সময়কার নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় হাজার হাজার নেতাকর্মী কঠিন সময় অতিক্রম করেছেন এবং তখন বাইরের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের কাছে তেমন কোনো তথ্য ছিল না। তবে শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার খবর দ্রুতই কারাগারে পৌঁছে যাওয়ায় ভেতরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানান তিনি। সে সময় জেল সুপারের অনুরোধে বন্দিদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের পর দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরে জনগণ ভোটাধিকার, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক সমতার ঘাটতি অনুভব করেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যথাযথ অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, জনগণের এসব প্রত্যাশা বিবেচনায় রেখেই বিএনপি তাদের ইশতেহার প্রণয়ন করেছে, যেখানে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। ৩১ দফা বাস্তবায়িত হলে জুলাইয়ের আত্মত্যাগ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের লক্ষ্য পূরণ হবে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি জানান, বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচিতে দুটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন’। এর মধ্যে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের মূল লক্ষ্য দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান।

অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পান এবং উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছায়, সেটিই এর মূল লক্ষ্য। শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র যথেষ্ট নয়, বরং অর্থনীতিতেও গণতান্ত্রিক চর্চা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সৃজনশীল অর্থনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ শিল্পী, কারুশিল্পী, খেলোয়াড় ও সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে দক্ষতা উন্নয়ন, ঋণ সুবিধা, ডিজাইনিং সহায়তা ও বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

স্পোর্টস ইকোনমি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে অর্থনীতির মূলধারায় সংযুক্ত করা গেলে দেশের মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার মান বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এসময় শীতলপাটি, মৃৎশিল্পসহ গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে আধুনিক বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় ব্যাংকিং খাত, শেয়ারবাজার ও সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংকট বিরাজ করছিল। তিনি মন্তব্য করেন, তারা শূন্য থেকে নয়, বরং একটি নেতিবাচক অবস্থান থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন।

এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর কাছে সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে, যা তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টি উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।

সবশেষে আমির খসরু বলেন, জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য নাগরিকদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং নারী, শিশু, শ্রমিক, প্রতিবন্ধীসহ সমাজের সব শ্রেণির মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা গেলেই জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ।