ঢাকা ০৫:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
সরাকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে

রাজশাহী কারাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ব্র্যাকের ব্যতিক্রমী উপহার

রবিবার (৭ জুন) দুপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স রাজশাহী বিভাগ এসব সামগ্রী আনুষ্ঠানিকভাবে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে।

সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে রাজশাহীর কারা প্রশাসনের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। পরিবেশ সংরক্ষণ, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে রাজশাহী কারারক্ষী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা, মাছের পোনা, আদা চাষের উপকরণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সহায়তা প্রদান করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

রবিবার (৭ জুন) দুপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স রাজশাহী বিভাগ এসব সামগ্রী আনুষ্ঠানিকভাবে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী কারারক্ষী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কমান্ডেন্ট লে. কর্নেল রুবায়াৎ কবির। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি কমান্ডেন্ট মুহাম্মদ মন্জুর, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শরিফুল ইসলাম এবং কারা বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা।

ব্র্যাকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স (দাবি) রাজশাহী বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. ইয়াকুব আলী সরকার, সিনিয়র আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. সেরাজুল ইসলাম, মতিহার এরিয়া ব্যবস্থাপক মো. ইউসুফ আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

অনুষ্ঠানে সামাজিক বনায়ন ও পরিবেশ উন্নয়নের অংশ হিসেবে ১ হাজার ৮৭৫টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা সরবরাহ করা হয়। একই সঙ্গে কারাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পুকুরে চাষের জন্য ১০ হাজার মনোসেক্স তেলাপিয়া মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। কৃষি কার্যক্রম সম্প্রসারণে বস্তায় আদা চাষের জন্য বীজ ও ৮০০টি বস্তা প্রদান করা হয়।

এছাড়াও নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি সাবমারসিবল পাম্প স্থাপন, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একটি নতুন টয়লেট নির্মাণ ও পাঁচটি টয়লেট সংস্কার, এবং পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় পাঁচটি ডাস্টবিন সরবরাহ করা হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব সহায়তা শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে না, বরং কারাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যবহারিক জ্ঞান বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ ও খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্র্যাকের এ উদ্যোগ কারা প্রশাসনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ করবে। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজ পরিবেশ সৃষ্টি, মাছ চাষের মাধ্যমে পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং কৃষিভিত্তিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

ব্র্যাকের কর্মকর্তারা জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে সামাজিক উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, কৃষি সম্প্রসারণ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

কারা প্রশাসন ও ব্র্যাকের এই যৌথ উদ্যোগকে স্থানীয়ভাবে একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও পরিবেশবান্ধব, উৎপাদনমুখী এবং মানবিক করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোলাহাটে  জমি নিয়ে বিরোধ – বিবাদী পক্ষ কে আম পাড়া থেকে বিরত থাকার আদেশ

সরাকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে

রাজশাহী কারাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ব্র্যাকের ব্যতিক্রমী উপহার

প্রকাশের সময়ঃ ১০:১৩:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে রাজশাহীর কারা প্রশাসনের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। পরিবেশ সংরক্ষণ, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে রাজশাহী কারারক্ষী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা, মাছের পোনা, আদা চাষের উপকরণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সহায়তা প্রদান করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

রবিবার (৭ জুন) দুপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স রাজশাহী বিভাগ এসব সামগ্রী আনুষ্ঠানিকভাবে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী কারারক্ষী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কমান্ডেন্ট লে. কর্নেল রুবায়াৎ কবির। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি কমান্ডেন্ট মুহাম্মদ মন্জুর, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শরিফুল ইসলাম এবং কারা বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা।

ব্র্যাকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স (দাবি) রাজশাহী বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. ইয়াকুব আলী সরকার, সিনিয়র আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. সেরাজুল ইসলাম, মতিহার এরিয়া ব্যবস্থাপক মো. ইউসুফ আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

অনুষ্ঠানে সামাজিক বনায়ন ও পরিবেশ উন্নয়নের অংশ হিসেবে ১ হাজার ৮৭৫টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা সরবরাহ করা হয়। একই সঙ্গে কারাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পুকুরে চাষের জন্য ১০ হাজার মনোসেক্স তেলাপিয়া মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। কৃষি কার্যক্রম সম্প্রসারণে বস্তায় আদা চাষের জন্য বীজ ও ৮০০টি বস্তা প্রদান করা হয়।

এছাড়াও নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি সাবমারসিবল পাম্প স্থাপন, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একটি নতুন টয়লেট নির্মাণ ও পাঁচটি টয়লেট সংস্কার, এবং পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় পাঁচটি ডাস্টবিন সরবরাহ করা হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব সহায়তা শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে না, বরং কারাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যবহারিক জ্ঞান বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ ও খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্র্যাকের এ উদ্যোগ কারা প্রশাসনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ করবে। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজ পরিবেশ সৃষ্টি, মাছ চাষের মাধ্যমে পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং কৃষিভিত্তিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

ব্র্যাকের কর্মকর্তারা জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে সামাজিক উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, কৃষি সম্প্রসারণ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

কারা প্রশাসন ও ব্র্যাকের এই যৌথ উদ্যোগকে স্থানীয়ভাবে একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও পরিবেশবান্ধব, উৎপাদনমুখী এবং মানবিক করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।