ঢাকা ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
রাজশাহীতে

বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঘুঘুর বাচ্চা নিতে গিয়ে প্রাণ গেলো কিশোর সাজ্জাদের

প্রতীকি ছবি

ঘুঘু পাখির বাসা থেকে বাচ্চা নামিয়ে আনার চেষ্টায় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে উঠে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছে সাজ্জাদ (১৪) নামে এক কিশোর। শনিবার (৬ জুন) সকালে রাজশাহী নগরীর তেরোখাদিয়া বিভাগীয় স্টেডিয়ামের সামনে ফ্লাইওভারের পূর্ব পাশে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপরে থাকা ঘুঘু পাখির বাসা থেকে বাচ্চা নামিয়ে আনার জন্য খুঁটিতে ওঠে সাজ্জাদ। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় সে। তীব্র বৈদ্যুতিক শকে কিশোরটি খুঁটির পাশে একটি বাড়ির টিনের চালা ও তারের সঙ্গে ঝুলে থাকে।

নিহত সাজ্জাদ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সাজু মিয়ার ছেলে। জীবিকার প্রয়োজনে তার পরিবার রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানাধীন গ্রেটার রোড এলাকার বন্ধ গেইট মসজিদের পেছনে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ফায়ার সার্ভিস জানায়, বেলা পৌনে ১১টার দিকে তারা দুর্ঘটনার সংবাদ পায়। পরে বিদ্যুৎ বিভাগের সহযোগিতায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। বেশ কিছু সময়ের চেষ্টার পর কিশোরটিকে খুঁটি থেকে নামিয়ে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়।

রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাজ্জাদকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুতের আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

রাজপাড়া থানা পুলিশ জানায়, মরদেহ বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কৌতূহল ও পাখির প্রতি ভালোবাসা থেকেই সাজ্জাদ খুঁটিতে উঠেছিল। কিন্তু সামান্য অসতর্কতায় এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটবে তা কেউ কল্পনাও করেনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈদ্যুতিক খুঁটি, ট্রান্সফরমার বা উচ্চ ভোল্টেজ লাইনের আশপাশে শিশু-কিশোরদের যাতায়াত ও ওঠানামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আরও বেশি সচেতনতা সৃষ্টি জরুরি।

ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল—এক মুহূর্তের কৌতূহল কিংবা অসাবধানতা কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহীতে

বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঘুঘুর বাচ্চা নিতে গিয়ে প্রাণ গেলো কিশোর সাজ্জাদের

প্রকাশের সময়ঃ ০৪:৫৬:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

ঘুঘু পাখির বাসা থেকে বাচ্চা নামিয়ে আনার চেষ্টায় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে উঠে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছে সাজ্জাদ (১৪) নামে এক কিশোর। শনিবার (৬ জুন) সকালে রাজশাহী নগরীর তেরোখাদিয়া বিভাগীয় স্টেডিয়ামের সামনে ফ্লাইওভারের পূর্ব পাশে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপরে থাকা ঘুঘু পাখির বাসা থেকে বাচ্চা নামিয়ে আনার জন্য খুঁটিতে ওঠে সাজ্জাদ। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় সে। তীব্র বৈদ্যুতিক শকে কিশোরটি খুঁটির পাশে একটি বাড়ির টিনের চালা ও তারের সঙ্গে ঝুলে থাকে।

নিহত সাজ্জাদ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সাজু মিয়ার ছেলে। জীবিকার প্রয়োজনে তার পরিবার রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানাধীন গ্রেটার রোড এলাকার বন্ধ গেইট মসজিদের পেছনে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ফায়ার সার্ভিস জানায়, বেলা পৌনে ১১টার দিকে তারা দুর্ঘটনার সংবাদ পায়। পরে বিদ্যুৎ বিভাগের সহযোগিতায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। বেশ কিছু সময়ের চেষ্টার পর কিশোরটিকে খুঁটি থেকে নামিয়ে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়।

রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাজ্জাদকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুতের আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

রাজপাড়া থানা পুলিশ জানায়, মরদেহ বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কৌতূহল ও পাখির প্রতি ভালোবাসা থেকেই সাজ্জাদ খুঁটিতে উঠেছিল। কিন্তু সামান্য অসতর্কতায় এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটবে তা কেউ কল্পনাও করেনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈদ্যুতিক খুঁটি, ট্রান্সফরমার বা উচ্চ ভোল্টেজ লাইনের আশপাশে শিশু-কিশোরদের যাতায়াত ও ওঠানামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আরও বেশি সচেতনতা সৃষ্টি জরুরি।

ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল—এক মুহূর্তের কৌতূহল কিংবা অসাবধানতা কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।