ঢাকা ০৫:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ

হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

হামের উপসর্গ নিয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি শিশু।

দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৬৬ জন শিশু, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

রোববার (৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫২৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা ৯১।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত একদিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও ১ হাজার ২২১ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯ হাজার ১২ জনে।

অন্যদিকে একই সময়ের মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে মোট ৯ হাজার ৬৮৬ জনের শরীরে হাম সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলমান পরিস্থিতিতে বিপুল সংখ্যক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৮ হাজার ২৬৩ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬০ হাজার ৮৪ জন।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর ঘটনাগুলোর মধ্যে ঢাকা বিভাগে চারজন, চট্টগ্রাম বিভাগে একজন, ময়মনসিংহ বিভাগে একজন এবং খুলনা বিভাগে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের নিয়ে আসা এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্তকরণে বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ অভিভাবকদের শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোলাহাটে  জমি নিয়ে বিরোধ – বিবাদী পক্ষ কে আম পাড়া থেকে বিরত থাকার আদেশ

হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশের সময়ঃ ০৪:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৬৬ জন শিশু, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

রোববার (৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫২৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা ৯১।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত একদিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও ১ হাজার ২২১ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯ হাজার ১২ জনে।

অন্যদিকে একই সময়ের মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে মোট ৯ হাজার ৬৮৬ জনের শরীরে হাম সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলমান পরিস্থিতিতে বিপুল সংখ্যক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৮ হাজার ২৬৩ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬০ হাজার ৮৪ জন।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর ঘটনাগুলোর মধ্যে ঢাকা বিভাগে চারজন, চট্টগ্রাম বিভাগে একজন, ময়মনসিংহ বিভাগে একজন এবং খুলনা বিভাগে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের নিয়ে আসা এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্তকরণে বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ অভিভাবকদের শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।