ঢাকা ০৫:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার শিগগিরই খুলতে পারে, সংসদে আশাবাদ ব্যক্ত

ফাইল ছবি।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং দ্রুতই দেশটিতে কর্মী পাঠানো পুনরায় শুরু হওয়ার আশা রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের ৩১ মে পর্যন্ত ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫ জন বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। আগামী অর্থবছরে প্রায় ১৪ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো আংশিক বন্ধ বা সীমিত শ্রমবাজারগুলো পুনরায় সম্প্রসারণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ১৮টি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে।

সংসদে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে নামমাত্র প্রতিষ্ঠান গড়ে ভুয়া চাহিদাপত্র দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে অতিরিক্ত কর্মী নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ ধরনের প্রতারণা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর আরও কঠোর যাচাই-বাছাই ও নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রকৃত সুযোগের তুলনায় অনেক বেশি কর্মী পাঠানো হচ্ছে, যার ফলে বিদেশে গিয়ে অনেক শ্রমিক কাজ না পেয়ে মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।

দরিদ্র কর্মীদের বিদেশগমনে আর্থিক সহায়তার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৮ শতাংশ সুদে জামানতবিহীন সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ঋণের পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, কাজের প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় পাঠানোর পর ৩০ জন বাংলাদেশিকে যুদ্ধক্ষেত্রে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

তবে তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে জড়িয়ে পড়া অনেক বাংলাদেশি সরাসরি নয়, তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে সেখানে গিয়েছিলেন।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় বিদেশে অবস্থান করেও যারা ঝুঁকি নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেছিলেন, তাদের অবদান সরকার গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করে। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক প্রবাসীকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং কয়েকজনকে ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়েছে। বাকি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, যৌন হয়রানি ও চুক্তি লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি আরবে বাংলাদেশের দুটি সেফ হোম চালু রয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশে পর্যায়ক্রমে সেফ হোম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে বিপদে পড়া নারী কর্মীরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোলাহাটে  জমি নিয়ে বিরোধ – বিবাদী পক্ষ কে আম পাড়া থেকে বিরত থাকার আদেশ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার শিগগিরই খুলতে পারে, সংসদে আশাবাদ ব্যক্ত

প্রকাশের সময়ঃ ০১:২০:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং দ্রুতই দেশটিতে কর্মী পাঠানো পুনরায় শুরু হওয়ার আশা রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের ৩১ মে পর্যন্ত ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫ জন বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। আগামী অর্থবছরে প্রায় ১৪ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো আংশিক বন্ধ বা সীমিত শ্রমবাজারগুলো পুনরায় সম্প্রসারণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ১৮টি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে।

সংসদে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে নামমাত্র প্রতিষ্ঠান গড়ে ভুয়া চাহিদাপত্র দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে অতিরিক্ত কর্মী নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ ধরনের প্রতারণা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর আরও কঠোর যাচাই-বাছাই ও নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রকৃত সুযোগের তুলনায় অনেক বেশি কর্মী পাঠানো হচ্ছে, যার ফলে বিদেশে গিয়ে অনেক শ্রমিক কাজ না পেয়ে মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।

দরিদ্র কর্মীদের বিদেশগমনে আর্থিক সহায়তার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৮ শতাংশ সুদে জামানতবিহীন সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ঋণের পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, কাজের প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় পাঠানোর পর ৩০ জন বাংলাদেশিকে যুদ্ধক্ষেত্রে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

তবে তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে জড়িয়ে পড়া অনেক বাংলাদেশি সরাসরি নয়, তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে সেখানে গিয়েছিলেন।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় বিদেশে অবস্থান করেও যারা ঝুঁকি নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেছিলেন, তাদের অবদান সরকার গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করে। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক প্রবাসীকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং কয়েকজনকে ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়েছে। বাকি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, যৌন হয়রানি ও চুক্তি লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি আরবে বাংলাদেশের দুটি সেফ হোম চালু রয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশে পর্যায়ক্রমে সেফ হোম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে বিপদে পড়া নারী কর্মীরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারেন।