
আসন্ন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে বিরোধী জোটভুক্ত সংসদ সদস্যদের জন্য দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালা শনিবার শেষ হয়।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ‘বাজেট, অর্থনীতি ও জননীতি: সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা উন্নয়ন’ শীর্ষক এই কর্মশালায় জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিরোধী জোটের মোট ৭৭ জন সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাজেট প্রক্রিয়া, অর্থনৈতিক নীতি, জননীতি এবং সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জ্ঞান ও দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
কর্মশালার সমাপনী দিনে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংসদে ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, বাজেট অধিবেশনে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জনকল্যাণমূলক নীতিমালা নিয়ে কার্যকর ও দায়িত্বশীল আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যদের বক্তব্য ও সিদ্ধান্তে জনগণের চাহিদা এবং জাতীয় স্বার্থের প্রতিফলন থাকা উচিত। একটি জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে সংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বক্তব্য দেন। তারা সংসদীয় রীতি-নীতি, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া এবং নীতিনির্ধারণী আলোচনায় সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ও দক্ষ ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দুই দিনের কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন খাতের অর্থনীতিবিদ, বাজেট বিশ্লেষক এবং নীতিনির্ধারণ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। তারা জাতীয় বাজেটের কাঠামো, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব নীতি, সরকারি ব্যয়, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বিশেষ সেশনগুলোতে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং জনবান্ধব বাজেট প্রণয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারী সংসদ সদস্যরা এসব বিষয়ে মতবিনিময় করেন এবং বাজেট অধিবেশনে কার্যকর অংশগ্রহণের বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাজেট অধিবেশনের আগে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা সংসদ সদস্যদের নীতিগত ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে এবং সংসদীয় আলোচনাকে আরও তথ্যভিত্তিক ও ফলপ্রসূ করতে সাহায্য করবে।
দৈনিক অধিকার ডেস্কঃ 

























