ঢাকা ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

সরকারকে সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

গতকাল রোববার রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিটউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

দেশের সামনে গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে উল্লেখ করে সরকার পরিচালনায় দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু সরকার বা জনপ্রতিনিধিদের প্রচেষ্টায় উন্নয়ন ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়; এ জন্য দলের প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীর সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

রোববার (৩১ মে) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জন্য আগামী সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন না করলে ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়ন ও আগামী প্রজন্মের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন ভাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শনের কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় দেশ পরিচালনার চেষ্টা করছে।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার একটি রাজনৈতিক সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছে, যার নিজস্ব নীতি, আদর্শ এবং নির্বাচনী ইশতেহার রয়েছে। জনগণ নির্বাচনে সমর্থন দিয়ে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিয়েছে। তাই সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন।

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করলেও তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়ন কঠিন হবে।

দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে যেভাবে তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন, ভবিষ্যতেও একইভাবে জনগণের পাশে থেকে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, গ্রাম থেকে শুরু করে উপজেলা, পৌরসভা, জেলা ও বিভাগীয় শহর—সব পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম জোরদার রাখতে হবে। নির্বাচন শেষ হলেও দায়িত্ব শেষ হয়নি; বরং এখন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময়।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করা যেমন একটি সাফল্য, তেমনি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে সফল সরকার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, গণআন্দোলন ও নির্বাচনী সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এখন দেশের উন্নয়ন ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ দিতে হবে, যাতে সরকারের মেয়াদ সফলভাবে সম্পন্ন করা যায়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা সঞ্চালনা করেন দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নেতারা এবং যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা।

আলোচনা সভায় জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক অবদান, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা এবং দলীয় আদর্শ বাস্তবায়নের বিষয়েও বক্তারা বক্তব্য রাখেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারকে সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের সময়ঃ ০১:১০:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

দেশের সামনে গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে উল্লেখ করে সরকার পরিচালনায় দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু সরকার বা জনপ্রতিনিধিদের প্রচেষ্টায় উন্নয়ন ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়; এ জন্য দলের প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীর সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

রোববার (৩১ মে) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জন্য আগামী সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন না করলে ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়ন ও আগামী প্রজন্মের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন ভাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শনের কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় দেশ পরিচালনার চেষ্টা করছে।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার একটি রাজনৈতিক সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছে, যার নিজস্ব নীতি, আদর্শ এবং নির্বাচনী ইশতেহার রয়েছে। জনগণ নির্বাচনে সমর্থন দিয়ে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিয়েছে। তাই সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন।

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করলেও তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়ন কঠিন হবে।

দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে যেভাবে তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন, ভবিষ্যতেও একইভাবে জনগণের পাশে থেকে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, গ্রাম থেকে শুরু করে উপজেলা, পৌরসভা, জেলা ও বিভাগীয় শহর—সব পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম জোরদার রাখতে হবে। নির্বাচন শেষ হলেও দায়িত্ব শেষ হয়নি; বরং এখন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময়।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করা যেমন একটি সাফল্য, তেমনি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে সফল সরকার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, গণআন্দোলন ও নির্বাচনী সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এখন দেশের উন্নয়ন ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ দিতে হবে, যাতে সরকারের মেয়াদ সফলভাবে সম্পন্ন করা যায়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা সঞ্চালনা করেন দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নেতারা এবং যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা।

আলোচনা সভায় জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক অবদান, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা এবং দলীয় আদর্শ বাস্তবায়নের বিষয়েও বক্তারা বক্তব্য রাখেন।